Sylhet Today 24 PRINT

সুনামগঞ্জের ৩ যুবককে কাশ্মীরে পাচার করে মুক্তিপণ দাবির অভিযোগ

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি |  ০৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

ভারতের কাশ্মীরে কাজের কথা বলে নিয়ে যাওয়ার পর থেকে সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার তিন যুবক নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে। তাদের আটকে রেখে মুক্তিপণ দাবি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

নিখোঁজ তিন যুবক হলেন—ছাতক উপজেলার সৈদেরগাঁও গ্রামের মৃত মনোহর আলীর ছেলে সোহেল মিয়া, মৃত রুসমত আলীর ছেলে আয়াছ আলী এবং জালিয়ারপাড় গ্রামের আনছার আলীর ছেলে আলা উদ্দিন।

গত ২৮ জুলাই ওই তিন যুবককে ছাতকের নিজ বাড়ি থেকে ভারতের কাশ্মীরের উদ্দেশে নিয়ে যাওয়া হয়। কাশ্মীরে নেওয়ার পর তাদের আটকে রেখে মুক্তিপণ দাবি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এ ঘটনায় সোহেল মিয়ার মা মোছা. সামতেরা বেগম একই গ্রামের বাসিন্দা ফারুক মিয়া ও তার ছেলে ফাহিমের বিরুদ্ধে ছাতক থানায় এবং বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তরের সুনামগঞ্জ জেলা লিগ্যাল এইড অফিসে লিখিত অভিযোগ করেছেন। গত মাসের শেষ দিকে তিনি থানায় অভিযোগ করেন। সোমবার জেলা লিগ্যাল এইড অফিসে লিখিত অভিযোগ দেন।

এ ছাড়া তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং স্থানীয় সংসদ সদস্য কলিম উদ্দিন আহমেদ মিলনের সঙ্গে দেখা করে আটক তিন যুবককে মুক্ত করতে সহযোগিতা চেয়েছেন।

অভিযোগে বলা হয়, তিন যুবকই দিনমজুর। তারা এলাকায় কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। অভিযুক্তরা একই গ্রামের বাসিন্দা হওয়ায় পূর্বপরিচয়ের সুবাদে তাদের ভারতের কাশ্মীরে কাজ দেওয়ার কথা বলেন। পরে আলাপ-আলোচনা করে গত ২৮ জুলাই ওই তিন যুবককে বাড়ি থেকে ভারতের উদ্দেশে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর তাদের সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়।

অভিযোগে আরও বলা হয়, ঘটনার এক সপ্তাহ পর ফারুক মিয়া ও তার ছেলে ফাহিম যুবকদের স্বজনদের জানান, তারা কারাগারে আছেন। তাদের কারাগার থেকে বের করতে ৩০ হাজার টাকা দিতে হবে। স্বজনরা তাদের মুক্তির জন্য ১৫ হাজার টাকা দেন। পরবর্তীতে আরও ৪০ হাজার টাকা দাবি করা হয়। কথামতো টাকা না দেওয়ায় একপর্যায়ে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। টাকা না দিলে তাদের হত্যা করার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, ফাহিম নামের এক ব্যক্তি ভালো বেতনে কাজ দেওয়ার কথা বলে সোহেল, আয়াছ আলী ও আলা উদ্দিনকে কাশ্মীরে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করেন। ভারতে যাওয়ার পর প্রথমদিকে পরিবারের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ ছিল। একপর্যায়ে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

অভিযোগকারী সামতেরা বেগম জানান, নিখোঁজ তিন যুবককে আটকে রেখে তাদের মুক্তির বিনিময়ে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা দাবি করা হয়েছে। টাকা না দিলে তাদের ক্ষতি করার হুমকিও দেওয়া হয়েছে।

অভিযুক্ত ফারুক মিয়া বলেন, তার ছেলে ফাহিম ভারতে রয়েছে। বর্তমানে তিনিও ফাহিমের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছেন না।

ছাতক থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ঝলক মোহন্ত বলেন, সৈদেরগাঁও গ্রামের তিন যুবককে কাজের উদ্দেশ্যে ভারতে নিয়ে যাওয়া এবং সেখানে আটকে রেখে টাকা চাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি একজন কর্মকর্তা তদন্ত করছেন। অভিযোগটি গভীরভাবে তদন্ত করা হচ্ছে।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.