Sylhet Today 24 PRINT

আসিয়ান কাপ: বাংলাদেশের জালে ইন্দোনেশিয়ার ৯ গোল

স্পোর্টস ডেস্ক |  ০২ অক্টোবর, ২০২৬

ছবি: সংগৃহীত

আসিয়ান কাপের প্রিমিয়ার ডিভিশনে ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে ইন্দোনেশিয়া। ফাইনালে উঠার পথে জাকার্তায় সোমবার (১ অক্টোবর) ‘এ’ গ্রুপের ম্যাচে বাংলাদেশকে হারিয়েছে তারা ৯-২ গোলের ব্যবধানে।

এটা ৯ গোল হজমের তৃতীয় ম্যাচ বাংলাদেশের। এরআগে বাংলাদেশ ১৯৭৯ সালে দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে, এবং ১৯৮২ সালে ইরানের বিপক্ষে হজম করেছিল ৯ গোল।

ম্যাচে স্বাগতিক ইন্দোনেশিয়ার হয়ে একাই পাঁচটি গোল করেছেন মিচেল বেকার! একটি করে গোল করেছেন রিজকি রিধো, জাস্টিন হাবনার, লুক ভিক‍্যারি ও কেভিন ডিকস। বাংলাদেশের গোল দুটি করেছেন শাহরিয়ার ইমন ও ফারহান আলি ওয়াহিদ।

একাদশ মিনিটে বেকারের গোলে এগিয়ে যায় ইন্দোনেশিয়া। ৯ মিনিট পর তিনিই দ্বিগুণ করেন ব‍্যবধান।

৩২তম মিনিটে স্কোরলাইন ৩-০ করেন রিধো। চার মিনিট পর ব‍্যবধান কমান ইমন।

৩৭তম মিনিটে হ‍্যাটট্রিক পূরণ করেন বেকার। পাঁচ মিনিট পর ফের জালের দেখা পান তিনি। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে হাবনারের গোলে আরও পিছিয়ে পড়ে বাংলাদেশ।

দ্বিতীয়ার্ধের অনেকটা সময় রক্ষণ জমাট রাখে বাংলাদেশ। গোলরক্ষকও বেশ দৃঢ়তা দেখান। তাতে বাড়তে থাকে ইন্দোনেশিয়ার অপেক্ষা।

একই সময়ে হওয়া অন‍্য ম‍্যাচে মালয়েশিয়া গোল পার্থক‍্যে এগিয়ে থেকে ফাইনালে যাওয়ার আশা জাগায়।

৯০তম মিনিটে জাল খুঁজে নেন ভিক‍্যারি। পরের মিনিটে ফারহানের গোলে স্কোরলাইন হয়ে যায় ৭-২। ফাইনালে যেতে তখন স্বাগতিকদের প্রয়োজন পড়ে আরও দুই গোল।

ফ্রি কিক থেকে সতীর্থর হেডে খুব কাছ থেকে হেডেই যোগ করা সময়ের ষষ্ঠ মিনিটে গোল করেন ডিকস। দুই মিনিট পর নিজের পঞ্চম ও দলের নবম গোলে ইন্দোনেশিয়াকে ফাইনালে নিয়ে যান বেকার।

মাঠে তখন হতাশায় নুইয়ে পড়েন হামজারা। ডাগআউটে ডুলিকে দেখে মনে হচ্ছিল ভাষা হারিয়ে ফেলেছেন বাংলাদেশ কোচ। এতো বাজে ফুটবল কোনো দল খেলতে পারে, যেন বিশ্বাসই হচ্ছিল না তার।

মালয়েশিয়ার বিপক্ষে ৩-০ গোলে হেরে আসর শুরুর পর, দ্বিতীয় ম্যাচে সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে লড়াই করে ১-০ গোলে হারে বাংলাদেশ। তৃতীয় ও শেষ ম্যাচে সবচেয়ে বিব্রতকর হারের স্বাদ পেল তারা।

ম্যাচ শেষে বাংলাদেশ কোচ টমাস ডুলির কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, এমন হার তাঁর কাছে কী অর্থ বহন করছে। উত্তরটা ছোট, কিন্তু ভারী, ‘হ্যাঁ, এমনই (নিজের ক্যারিয়ারে সবচেয়ে বড় হার)। সবকিছুই একবার না একবার ঘটে। আশা করি, এটাই শেষ।’

তবে ৯ গোলের ব্যাখ্যায় তিনি কোনো অজুহাত খোঁজেননি। বরং ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের পার্থক্যটা কোথায়, সেই প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে বারবার ফিরে গেছেন খেলোয়াড়দের প্রস্তুতি, ঘরোয়া ফুটবলের মান আর দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের প্রসঙ্গে।

ডুলি বলেন, ‘আপনি র‍্যাঙ্কিং দেখলেই বুঝতে পারবেন। আমাদের র‍্যাঙ্কিং যদি ১৮১ হয়, আর তাদের র‍্যাঙ্কিং যদি ১১৬,১৩০ বা ১৪০ হয়, তবে তা স্পষ্ট করে যে র‍্যাঙ্কিংয়ে আপনি যত ওপরে থাকবেন, দল ও খেলোয়াড় হিসেবে আপনারা ততটাই ভালো। কারণ সেই পর্যায়ে পৌঁছাতে তাদের অনেক বেশি ম্যাচ জিততে হয়েছে। যখন আপনি তাদের মুখোমুখি হবেন, তখনই এই পার্থক্যটা বুঝতে পারবেন। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দলগুলো দক্ষিণ এশিয়ার দলগুলোর চেয়ে ফুটবল বিচারে এগিয়ে।’

ডুলি মনে করেন, শুধু দুর্বল দলকে হারিয়ে আত্মবিশ্বাস বাড়ালে হবে না। শক্তিশালী দলের সঙ্গে নিয়মিত খেলতে হবে, তবেই সীমাবদ্ধতাগুলো ধরা পড়বে, ‘আপনি যদি কেবল র‍্যাঙ্কিংয়ে পেছনে থাকা দলগুলোর বিরুদ্ধে খেলে জিতে যান, তবে তা দেখতে হয়তো ভালো লাগে, কিন্তু আপনার কোনো সত্যিকারের উন্নতি হয় না। দুর্বল দলের বিরুদ্ধে খেলে কেবল আত্মবিশ্বাস তৈরি হয়, কিন্তু যখন আপনি দ্রুতগতির শক্তিশালী দলের বিরুদ্ধে খেলবেন, তখন হঠাৎ ধাক্কা খাবেন।’

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.