ক্রীড়া প্রতিবেদক | ২৬ ফেব্রুয়ারী, ২০১৫
তিলকারত্নে দিলশান আর কুমার সাঙ্গাকারার সেঞ্চুরির ওপর ভর করে বেশ বড় এক সংগ্রহ করল শ্রীলংকা। ৫০ ওভার শেষে তাদের সংগ্রহ ৩৩২ রান। বাংলাদেশের টার্গেট ৩৩৩ রান।
এটা দিলশানের ২১তম শতক আর সাঙ্গাকারার ২২তম। এ ম্যাচের মধ্য দিয়ে সাঙ্গাকারা তাঁর ৪০০তম ম্যাচ খেললেন এবং ৪০০তম ম্যাচে সেঞ্চুরি করা একমাত্র ব্যাটসম্যান তিনি। এর আগে শচীন টেন্ডুলকার আর সনাথ জয়াসুরিয়া ৪০০তম ম্যাচে সেঞ্চুরি করতে পারেননি এবং সে ম্যাচগুলোতে তাদের দলও হেরেছিল।
দিলশান করেছেন ১৬১ রান আর সাঙ্গাকারার ব্যাট থেকে আসে ১০৫ রান। আউট হওয়া একমাত্র ব্যাটসম্যান থিরিমান্নে করেছেন ৫২ রান। বাংলাদেশের পক্ষে একমাত্র উইকেটটি নিয়েছেন রুবেল হোসেন।
দিলশানের ১৬১ রানের ইনিংস আসে ১৪৬ বল থেকে যার মধ্যে ছিল ২২টি চারের মার। এক ইনিংসে এর আগে সর্বোচ্চ চার মারের রেকর্ড ছিল নিউজিল্যাণ্ডের স্টিফেন ফ্লেমিংয়ের, ফ্লেমিং ২০০৩ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে চার মেরেছিলেন ২১টি। সাঙ্গাকারার ১০৫ রান আসে ৭৬ বলের খরচায়, যেখানে ছিল ১৩টি চার ও ১টি ছয়ের মার। এই সেঞ্চুরি সাঙ্গাকারার সবচেয়ে দ্রুতগতির সেঞ্চুরি।
অথচ শুরুটা হতে পারত অন্যভাবে। দলীয় শূন্য রানে স্লিপে ক্যাচ দিয়ে বেঁচে গিয়েছিলেন থিরিমান্নে, ফিল্ডার বিজয়ের হাত গলে বল পড়ে যায় মাটিতে। প্রথম ওভারেই জীবন পান লাহিরু থিরিমান্নে। মাশরাফি বিন মুর্তজার বলে এনামুল হককে সহজ ক্যাচ দিয়েও বেঁচে গেছেন এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান।
৪৪ রানে সাব্বির রহমানের বলে আবার জীবন পান লাহিরু থিরিমান্নে। এগিয়ে এসে খেলতে গিয়ে বলে ব্যাট লাগাতে পারেননি। থিরিমান্নেকে স্টাম্পিং করার যথেষ্ট সময় পেয়েছিলেন মুশফিকুর রহিম। কিন্তু তিনি বল নিয়ন্ত্রণে নিতে না পারায় আবারো বেঁচে যান বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান।
এমসিজিতে প্রথমবারের মতো খেলতে নেমেছে বাংলাদেশ। অন্য দিকে মেলবোর্নের এই মাঠে এর আগে ১৭টি ম্যাচ খেলে শ্রীলঙ্কা, যার ছয়টিতে জয় রয়েছে তাদের।
রুবেল হোসেনের বল স্লিপের ওপর দিয়ে তুলে দিতে চেয়েছিলেন লাহিরু থিরিমান্নে। কিন্তু বল ব্যাটে লেগে থার্ড ম্যানে তাসকিন আহমেদের হাতে ধরা পড়েন এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। ঠাণ্ডা মাথায় দুই হাতে ক্যাচ ধরে থিরিমান্নের (৫২) বিদায় নিশ্চিত করেন তাসকিন।
বৃহস্পতিবার মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে ‘এ’ গ্রুপের ম্যাচে টস জিতে ব্যাটিং নেয় শ্রীলঙ্কা। বাংলাদেশ দল অপরিবর্তিত রয়েছে। এই ম্যাচেও আট ব্যাটসম্যান নিয়ে খেলছে তারা। একটি পরিবর্তন এসেছে শ্রীলঙ্কা দলে। চোটের কারণে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে পড়া জিবন মেন্ডিসের জায়গায় দলে এসেছেন দিনেশ চান্দিমাল।
আফগানিস্তানকে ১০৫ রানে হারিয়ে বিশ্বকাপ অভিযানে শুভ সূচনা করে বাংলাদেশ। বৃষ্টির কারণে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তাদের পরের ম্যাচটি পরিত্যক্ত হয়ে যায়।
নিজেদের প্রথম ম্যাচে নিউ জিল্যান্ডের কাছে ৯৮ রান হারে শ্রীলঙ্কা। আফগানিস্তানের বিপক্ষে পরের ম্যাচে ঘাম ঝরিয়ে ৪ উইকেটে জেতে তারা।
এদিকে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বাংলাদেশের সাফল্যের হার ভালো নয়। আর বিশ্বকাপে তো দুইবারের মুখোমুখি লড়াইয়ে দাঁড়াতেই পারেনি তারা। সাকিব-মাশরাফিদের সামনে এবার এই পরিসংখ্যানে পরিবর্তন আনার সুযোগ। তিনশ'র উপরে রান তাড়া করে জয় পাওয়া বাংলাদেশের পক্ষে সম্ভব কীনা সে পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে আরও কিছু সময় তবে এই ম্যাচের আগে দেখে নেয়া যাক দুই দলের আরও কিছু পরিসংখ্যান:
ওয়ানডেতে বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার মুখোমুখি লড়াইয়ে সবচেয়ে বেশি রান করেছেন কুমার সাঙ্গাকারা- ২৭ ইনিংসে ৪৪ গড়ে ১ হাজার ১০১ রান করেছেন তিনি। ওয়ানডেতে অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউসের করা ১৩ বল খেলে আউট না হয়ে ২৮ রান করেন সাকিব আল হাসান, ৩টি চার ও ২টি ছক্কা মেরেছেন তিনি। আর ৩ উইকেট পেলেই ১৯তম ক্রিকেটার হিসেবে ওয়ানডেতে ৫ হাজার রান এবং ১০০ উইকেটের মালিক হবেন তিলকারত্নে দিলশান। বাংলাদেশের বিপক্ষে শেষ ৮ ইনিংসে তিনটি শতক এবং একটি অর্ধ-শতক করেছেন দিলশান। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে শেষ ৩টি ওয়ানডে ইনিংসে ১টি শতক ও ২টি অর্ধশতকসহ ২২২ রান করেছেন তামিম ইকবাল।