Sylhet Today 24 PRINT

এমসিজিতে শ্রীলংকার দাপট

ক্রীড়া প্রতিবেদক |  ২৬ ফেব্রুয়ারী, ২০১৫

শ্রীলংকার বিপক্ষে বিশ্বকাপের রেকর্ড এমনই জয় থেকে যায় অধরা। এর আগের দুইবারের মোকাবেলায় দুই বারই বিশাল ব্যবধানে হেরেছিল বাংলাদেশ। এমসিজিতে সে ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি হচ্ছে আবারও।

আগের দুই মোকাবেলায় ১০ উইকেট আর ১৯৮ রানের বিশাল ব্যবধানে হার ছিল বাংলাদেশের। বিশ্বকাপ ২০১৫-তে ৩৩৩ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে হারাতে আরেক পরাজয়ের মুখে বাংলাদেশ। ৪০ ওভার শেষ বাংলাদেশ সংগ্রহ করেছে ২০৪/৬।

শ্রীলঙ্কার দেওয়া বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে দ্রুত রান তোলার চেষ্টায় ফিরে গেলেন সাকিব আল হাসানও। যাওয়ার আগে করলেন ৪৬ রান, ৫৯ বলের মোকাবেলায়।

লাসিথ মালিঙ্গার করা প্রথম ওভারেই আউট হয়ে যান তামিম ইকবাল। মালিঙ্গার দারুণ এক বলে শূন্য রানে বোল্ড হন এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করা সৌম্য সরকারকে ফেরান অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউস। জায়গায় দাঁড়িয়ে খেলতে গিয়ে উইকেটরক্ষক কুমার সাঙ্গাকারার গ্লাভসবন্দি হন তিনি। জায়গায় দাঁড়িয়ে খেলতে গিয়ে আউট হন মুমিনুল হকও। সুরঙ্গা লাকমালের বলে স্লিপে মাহেলা জয়াবর্ধনের হাতে ধরা পড়েন তিনি।

ষোড়শ ওভারের প্রথম বলে রান আউট হয়ে যান এনামুল হক। মাহমুদুল্লাহ শট খেলার পর রান নিতে দৌড় শুরু করে তিনি। জায়গা থেকেই নড়েননি মাহমুদুল্লাহ, তাই জায়গায় ফেরার চেষ্টা করেন এনামুল। ততক্ষণে অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউসের সরাসরি থ্রো স্টাম্প ভেঙে দেয়। থিসারা পেরেরার শিকারে পরিণত হয়ে বিদায় নেন মাহমুদুল্লাহ। লেগের দিকে ঘুরাতে চেয়েছিলেন তিনি। ব্যাটের ওপরের কানায় লেগে বল চলে যায় রঙ্গনা হেরাথের হাতে। 

এর আগে সকালে তিলকারত্নে দিলশান আর কুমার সাঙ্গাকারার সেঞ্চুরির ওপর ভর করে বেশ বড় এক সংগ্রহ করল শ্রীলংকা। ৫০ ওভার শেষে তাদের সংগ্রহ ৩৩২ রান। বাংলাদেশের টার্গেট দাঁড়ায় ৩৩৩ রান।

এটা দিলশানের ২১তম শতক আর সাঙ্গাকারার ২২তম। এ ম্যাচের মধ্য দিয়ে সাঙ্গাকারা তাঁর ৪০০তম ম্যাচ খেললেন এবং ৪০০তম ম্যাচে সেঞ্চুরি করা একমাত্র ব্যাটসম্যান তিনি। এর আগে শচীন টেন্ডুলকার আর সনাথ জয়াসুরিয়া ৪০০তম ম্যাচে সেঞ্চুরি করতে পারেননি এবং সে ম্যাচগুলোতে তাদের দলও হেরেছিল।

দিলশান করেছেন ১৬১ রান আর সাঙ্গাকারার ব্যাট থেকে আসে ১০৫ রান। আউট হওয়া একমাত্র ব্যাটসম্যান থিরিমান্নে করেছেন ৫২ রান। বাংলাদেশের পক্ষে একমাত্র উইকেটটি নিয়েছেন রুবেল হোসেন।

দিলশানের ১৬১ রানের ইনিংস আসে ১৪৬ বল থেকে যার মধ্যে ছিল ২২টি চারের মার। এক ইনিংসে এর আগে সর্বোচ্চ চার মারের রেকর্ড ছিল নিউজিল্যাণ্ডের স্টিফেন ফ্লেমিংয়ের, ফ্লেমিং ২০০৩ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে চার মেরেছিলেন ২১টি। সাঙ্গাকারার ১০৫ রান আসে ৭৬ বলের খরচায়, যেখানে ছিল ১৩টি চার ও ১টি ছয়ের মার। এই সেঞ্চুরি সাঙ্গাকারার সবচেয়ে দ্রুতগতির সেঞ্চুরি।

অথচ শুরুটা হতে পারত অন্যভাবে। দলীয় শূন্য রানে স্লিপে ক্যাচ দিয়ে বেঁচে গিয়েছিলেন থিরিমান্নে, ফিল্ডার বিজয়ের হাত গলে বল পড়ে যায় মাটিতে। প্রথম ওভারেই জীবন পান লাহিরু থিরিমান্নে। মাশরাফি বিন মুর্তজার বলে এনামুল হককে সহজ ক্যাচ দিয়েও বেঁচে গেছেন এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান।

৪৪ রানে সাব্বির রহমানের বলে আবার জীবন পান লাহিরু থিরিমান্নে। এগিয়ে এসে খেলতে গিয়ে বলে ব্যাট লাগাতে পারেননি। থিরিমান্নেকে স্টাম্পিং করার যথেষ্ট সময় পেয়েছিলেন মুশফিকুর রহিম। কিন্তু তিনি বল নিয়ন্ত্রণে নিতে না পারায় আবারো বেঁচে যান বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান।

এমসিজিতে প্রথমবারের মতো খেলতে নেমেছে বাংলাদেশ। অন্য দিকে মেলবোর্নের এই মাঠে এর আগে ১৭টি ম্যাচ খেলে শ্রীলঙ্কা, যার ছয়টিতে জয় রয়েছে তাদের।

রুবেল হোসেনের বল স্লিপের ওপর দিয়ে তুলে দিতে চেয়েছিলেন লাহিরু থিরিমান্নে। কিন্তু বল ব্যাটে লেগে থার্ড ম্যানে তাসকিন আহমেদের হাতে ধরা পড়েন এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। ঠাণ্ডা মাথায় দুই হাতে ক্যাচ ধরে থিরিমান্নের (৫২) বিদায় নিশ্চিত করেন তাসকিন।

বৃহস্পতিবার মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে ‘এ’ গ্রুপের ম্যাচে টস জিতে ব্যাটিং নেয় শ্রীলঙ্কা। বাংলাদেশ দল অপরিবর্তিত রয়েছে। এই ম্যাচেও আট ব্যাটসম্যান নিয়ে খেলছে তারা। একটি পরিবর্তন এসেছে শ্রীলঙ্কা দলে। চোটের কারণে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে পড়া জিবন মেন্ডিসের জায়গায় দলে এসেছেন দিনেশ চান্দিমাল।

আফগানিস্তানকে ১০৫ রানে হারিয়ে বিশ্বকাপ অভিযানে শুভ সূচনা করে বাংলাদেশ। বৃষ্টির কারণে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তাদের পরের ম্যাচটি পরিত্যক্ত হয়ে যায়।

নিজেদের প্রথম ম্যাচে নিউ জিল্যান্ডের কাছে ৯৮ রান হারে শ্রীলঙ্কা। আফগানিস্তানের বিপক্ষে পরের ম্যাচে ঘাম ঝরিয়ে ৪ উইকেটে জেতে তারা।

 

 

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.