Sylhet Today 24 PRINT

শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচ: উইলিয়ামসনের ছক্কায় জিতল নিউজিল্যাণ্ড

মাত্র ১৫১ রানেই অলআউট এবারের হট ফেবারিট অস্ট্রেলিয়া তবু যে লড়াই করল সেটা অসাধারণ। শ্বাসরুদ্ধকর এক ম্যাচে নিউজিল্যাণ্ড জিতল মাত্র ১ উইকেটে।

ক্রীড়া প্রতিবেদক |  ২৮ ফেব্রুয়ারী, ২০১৫

এবারের বিশ্বকাপে নিউজিল্যান্ড যেন অন্যরকম । আগ্রাসী বোলিং করে একের পর এক গুড়িয়ে দিচ্ছে সব প্রতিপক্ষকে । গুড়িয়ে দিল অস্ট্রেলিয়াকেও!

মাত্র ১৫১ রান করতে পেরেছিল অস্ট্রেলিয়া। তবু এই কম রানের পূঁজি নিয়েও ম্যাচটা প্রায় জিতেই গিয়েছিল অস্ট্রেলিয়া। শ্বাসরূদ্ধকর লড়াইয়ে ছক্কা মেরে নিউ জিল্যান্ডকে অবিশ্বাস্য এক জয় এনে দিলেন কেন উইলিয়ামসন।

শনিবার অকল্যান্ডের ইডেন পার্কে ‘এ’ গ্রুপের ম্যাচে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে ৩২ ওভার ২ বলে ১৫১ রানে অলআউট হয়ে যায় অস্ট্রেলিয়া। ১ উইকেটে অবিশ্বাস্য এক জয় তুলে নেয় কিউইরা।
মিচেল স্ট্যার্কের বলে মিডঅফে প্যাট কামিন্সের তালুবন্দি হয়ে বিদায় নেন মার্টিন গাপটিল। প্যাট কামিন্সের বলে মিচেল স্ট্যার্কের হাতে ধরা পড়েন ব্রেন্ডন ম্যাককালাম। পরের ওভারের প্রথম বলে রস টেইলরকে বোল্ড করেন স্ট্যার্ক।

টেইলরের বিদায়ের পর বিরতিতে যায় দুই দল। বিরতি থেকে ফিরে গ্রান্ট এলিয়টকে বোল্ড করে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনা জাগান স্ট্যার্ক। তবে তার হ্যাটট্রিক ঠেকিয়ে দেন কোরি অ্যান্ডারসন।

এর আগে ট্রেন্ট বোল্টের দুর্দান্ত বোলিংয়ের সামনে দাঁড়াতেই পারেননি অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটসম্যানরা। বাঁহাতি এই পেসারের ক্যারিয়ার সেরা বোলিংয়ে মাত্র ছোট লক্ষ্যই পেয়েছে নিউ জিল্যান্ড।

শুরুটা দারুণ ছিল অস্ট্রেলিয়ার। অ্যারন ফিঞ্চ ও ডেভিড ওয়ার্নার উড়ন্ত সূচনা এনে দেন দলকে। টিম সাউদির করা প্রথম ওভারেই ১৫ রান নেয় অতিথিরা। ঘুরে দাঁড়াতে অবশ্য বেশি সময় নেননি আগের ম্যাচেই ৭ উইকেট নেয়া এই পেসার।

তৃতীয় ওভারের প্রথম বলেই লংঅন দিয়ে ছক্কা হাকান ফিঞ্চকে। পরের বলেই তাকে বোল্ড করে ‘ব্রেক থ্রু’ এনে দেন সাউদি। তবে তাতেও কমেনি অস্ট্রেলিয়ার রানের গতি। শেন ওয়াটসনকে নিয়ে দলকে এগিয়ে নিতে থাকেন ওয়ার্নার।

দ্বিতীয় উইকেট জুটির ৫০ রানের প্রতিরোধ ভাঙেন ড্যানিয়েল ভেটোরি। ১ উইকেটে ৮০ রানে পৌঁছে যাওয়া অস্ট্রেলিয়ার বিপর্যয়ের শুরু তার বলে ওয়াটসনের বিদায়ে।

সীমানায় ওয়াটসনের ক্যাচ নিয়ে বল করতে এসেই ওয়ার্নারকে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন সাউদি। রিভিউ নিয়েছিলেন এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। কিন্তু বদলায়নি আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত।

স্টিভেন স্মিথকে লুক রনকির ক্যাচে পরিণত করে অস্ট্রেলিয়াকে চাপে ফেলেন ভেটোরি।

প্রথম স্পেলে ৫ ওভারে ২৪ রান দেয়া বোল্ট ভয়ঙ্কর হয়ে ফেরেন দ্বিতীয় স্পেলে। এই স্পেলের প্রথম ওভারেই জোড়া আঘাতে গ্লেন ম্যাক্সওয়েল ও মিচেল মার্শকে ফিরিয়ে দেন তিনি। অস্ট্রেলিয়ার দুই ব্যাটসম্যানই ব্যাটের কানায় লেগে বোল্ড হয়ে যান।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরাটা স্মরণীয় করে রাখতে পারেননি মাইকেল ক্লার্ক। শর্ট কাভারে কেন উইলিয়ামসনকে ক্যাচ দিয়ে বোল্টের তৃতীয় শিকারে পরিণত হন অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক।

পরের ওভারে ফিরে মিচেল জনসন ও মিচেল স্ট্যার্ককে ফিরিয়ে ওয়ানডেতে প্রথমবারের মতো পাঁচ উইকেট নেন বোল্ট। জনসন শর্ট কাভারে উইলিয়ামসনের ক্যাচে পরিণতত হন আর স্ট্যার্ক বোল্ড হয়ে যান।

১ উইকেটে ৮০ থেকে অস্ট্রেলিয়ার স্কোর পরিণত হয় ৯ উইকেটে ১০৬ রানে। অর্থাৎ ২৬ রান যোগ করতে ৮ উইকেট হারায় দলটি।

বিশ্বকাপে নিজেদের সর্বনিম্ন রানে অলআউটের লজ্জা থেকে অস্ট্রেলিয়াকে বাঁচানোর কৃতিত্ব ব্র্যাড হ্যাডিনের। পাল্টা আক্রমণে ৪৩ রান করেন এই উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান। দশম উইকেটে প্যাট কামিন্সের সঙ্গে ৪৫ রানের জুটি গড়েন তিনি।

বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার সর্বনিম্ন রান ১২৯। ১৯৮৩ সালের আসরে ভারতের বিপক্ষে এই রান করেছিল তারা।

বোল্টের দ্বিতীয় স্পেলটি এমন ৫-৩-৩-৫। সব মিলিয়ে ২৭ রানে ৫ উইকেট নিয়ে তিনিই নিউ জিল্যান্ডের সেরা বোলার।

 

 

 

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.