চয়ন চৌধুরী | ০৭ মার্চ, ২০১৫
আর মাত্র সাতদিন পরই ১৪ দলের ছয়টি ঘরে ফিরবে। তারপর দু’দিনের বিরতি দিয়ে শুরু হবে উত্তেজনার নকআউট পর্ব। এমন পরিস্থিতিতে বিশ্বকাপের পরিসংখ্যানে চোখ বোলাতে গিয়ে দিনভর মাথায় ঘোরপাক করা সেই প্রশ্নটা ফের জেগে উঠল। আজ পর্যন্ত সর্বোচ্চ রান সংগ্রহকারী শীর্ষ ৫ জন শেষপর্যন্ত দলকে কতদুর নিয়ে যেতে পারবেন? এই তালিকার প্রথম দুটো নাম আফ্রিকার ভিলিয়ার্স ও আমলা; যারা খাদের কিনারে থাকা পাকিস্তানের বিরুদ্ধে শনিবার অকল্যান্ডে হেরে ফের ‘চোকার্স’ অপবাদটা সামনে নিয়ে এসেছে।
তারপরও এই দু’জনের দল কোয়ার্টারের টিকেট পাওয়া প্রায় নিশ্চিত হলেও তালিকায় থাকা পরের দু’জনকে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিতে হচ্ছে। জিম্বাবুয়াইন অধিনায়ক টেইলর ও তার সতীর্থ উইলিয়ামের দুর্ভাগ্য; হোর্বাটে আয়ারল্যান্ডের সঙ্গে সমানে পাল্লা দিয়েও তীরে তরী ভেড়াতে পারেননি। শীর্ষ ৫ রান সংগ্রহকারীর শেষজন ওয়েস্ট ইন্ডিজের গেইল; যার দলেরও শেষ আটে টিকেট এখনও নিশ্চিত নয়! মজার ব্যাপার হচ্ছে, সর্বোচ্চ রান সংগ্রহকারীদের সবার দল আবার ‘বি’ গ্রুপে খেলছে।
চলতি বিশ্বকাপে ‘বি’ গ্রুপটাকে এমন অনিশ্চয়তার মুখে ফেলে দিয়েছে আসলে আইরিশদের দুর্দান্ত পারফর্ম। ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়েই তারা আসলে জমিয়ে দেয় এই গ্রুপের কোয়ার্টার লড়াই; যা আরো জটিল হয়ে উঠেছে পাকিস্তান ঘুরে দাঁড়ানোয়। এখন পর্যন্ত যা পরিস্থিতি, তাতে পাকিস্তান-আয়ারল্যান্ড ম্যাচটাই এই গ্রুপের সকল অনিশ্চয়তায় ইতি টানবে বলে মনে হচ্ছে। এমনকি ওয়েস্ট ইন্ডিজের ভাগ্যও হয়ত এ ম্যাচে নির্ধারণ হবে। আপাতত পয়েন্ট টেবিলে ৪র্থ স্থানে থাকা আইরিশদের সামনে দু’ম্যাচ রয়েছে বলে একটু স্বস্তিতে থাকবে তারা।
আইরিশ চমক অব্যাহত থাকলে এবারের আসরের গ্রুপ পর্ব থেকে সাবেক দুই বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ওয়েস্ট ইন্ডিজ বা পাকিস্তানের মধ্য থেকে একদলকে আগেভাগেই দেশে ফিরে যেতেই হবে। অবশ্য পাকিস্তানের জন্য কাজটা আরো কঠিন হয়ে পড়ত, অকল্যান্ডে হেরে গেলে। এজন্য তারা ধন্যবাদ দিতে পারে তাদের প্রতিপক্ষ প্রোটিয়াদের। বিশ্বকাপে শনিবারের আগ পর্যন্ত কখনও পাকিস্তানের বিরুদ্ধে না হারলেও এদিন ২৯ রানে হেরেছে ভিলিয়ার্স এন্ড কোং। পাকিস্তানের তিন বা-হাতি পেসারের দুর্দান্ত বোলিংয়ের পরও এক্ষেত্রে বড় দায়টা অবশ্যই প্রোটিয়াদের নিজেদের।
চাপের মধ্যে রান তাড়া করতে গিয়ে অতীতে বহুবার ভেঙে পড়ার পরও এদিন টস জিতে বোলিংটাই বেছে নিয়েছিলেন ভিলিয়ার্স। অথচ এই ম্যাচটা জিতলে কোয়ার্টারে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়া বা ইনফর্ম শ্রীলঙ্কাকে এড়ানোর সুযোগ ছিল তার দলের। তবে ঘটনা হচ্ছে, ১৯৯২ সালের বিশ্বকাপের মত এবারের আসরেও পাকিস্তান খাদের কিনারা থেকে এ ম্যাচ জিতে ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছে। যদিও তাদের থেকে শেষ হার্ডলটা অনেক সহজ ওয়েস্ট ইন্ডিজের; গ্রুপে তাদের শেষম্যাচ আমিরাতের বিরুদ্ধে।
‘বি’ গ্রুপে শেষপর্যন্ত পয়েন্টের পাশাপাশি নেট রানরেট-ও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠার সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে হচ্ছে; যেখানে ‘এ’ গ্রুপের পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। ক্রিকেটের অনিশ্চয়তার কথা মাথায় রেখেও বলা যায়, রোববার সিডনিতে অস্ট্রেলিয়া-শ্রীলঙ্কা ম্যাচের ফলাফলে গ্রুপের দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান নির্ধারণ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। দু’দলই গ্রুপে শেষ ম্যাচ খেলবে দুর্বল স্কটল্যান্ডের বিরুদ্ধে বলে এমন ভবিষ্যৎবাণী করা যায়।
একই দিন আফগানদের সঙ্গে অনায়াস জয়ে নিউজিল্যান্ড এই গ্রুপে তাদের শ্রেষ্ঠত্ব সুসংহত করবে বলে ধরে নেওয়া যায়। যদিও কিউইদের বিরুদ্ধে-ই গ্রুপে বাংলাদেশের শেষ ম্যাচ খেলতে হবে বলে স্বাভাবিকভাবে টাইগার সমর্থকদের মধ্যে চাপ রয়েছে। অবশ্য নিউজিল্যান্ডের মুখোমুখি হওয়ার আগেই মাশরাফিদের কোয়ার্টার নিশ্চিত করে ফেলার সুযোগ আছে বলে স্বস্তি। আসলে সোমবার বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য অনেক বড় দিন; ইংলিশ চ্যালেঞ্জ জিতে এক ম্যাচ হাতে রেখেই কোয়ার্টারের টিকেট পাওয়ার সুযোগ।
আগের একটি লেখায় বিশ্বকাপের ব্যাটসম্যানদের কথা লিখলেও বোলারদের কথা বলা হয়নি। আধুনিক ক্রিকেটের নিয়মের বেড়াজালে বোলারদের জন্য সীমিত ওভারের ক্রিকেটটা ক্রমে অসহায় আত্মসমর্পণ হয়ে উঠেছে। তারপরও অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ডে বিশ্বকাপ বলে দ্রুতগতির বোলারদের দাপট দেখার সম্ভাবনা ছিল। এটাকে সত্য প্রমাণ করে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারীর তালিকায় শীর্ষ ১০ জনের ৯ জন-ই পেসার। এই তালিকায় ১৩ উইকেট শিকার করে নেতৃত্ব দিচ্ছেন নিউজিল্যান্ডের টিম সাউদি।
মজার ব্যাপার সর্বোচ্চ উইকেট শিকারীর তালিকায় ২য় থেকে ৫ম স্থান পর্যন্ত সকলের উইকেট সংখ্যা-ই ১১ টি। একইভাবে ৬ষ্ঠ থেকে ৯ম স্থান থাকা সকলের শিকার সংখ্যা ১০ টি। এই সব পরিসংখ্যান একটা কথাই বলছে, পেস বোলারদের মধ্যে লড়াইটা বেশ জমেছে। নকআউট পর্বে এটা আরো প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়ে উঠবে বলে মনে হচ্ছে।