সিলেটটুডে স্পোর্টস ডেস্ক | ০৯ মার্চ, ২০১৫
কোন প্রকার রাখডাক না রেখেই ইংল্যান্ড কোচ পিটার মুরস বাংলাদেশ দলের স্পিনারদের সমীহ করার কথা জানিয়েছিলেন ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে। ইংল্যান্ডের সাবেক গ্রেটরাও পরামর্শ দিয়েছিলেন বাংলাদেশের স্পিনারদের সতর্কতার সঙ্গে মোকাবেলার। অধিনায়ক মরগানও ইঙ্গিত দিয়েছিলেন সে রকমই। কিন্তু ম্যাচ জুড়ে অন্য এক প্রদর্শনী দেখল বিশ্ববাসী। স্পিন নয়, পেস বোলিং দিয়েই বিধ্বস্ত ইংল্যান্ড।
ক'দিন আগেরও তিন ফর্মেটের ক্রিকেটের বিশ্বসেরা অলরাউণ্ডার সাকিব আল হাসান নিয়ে তাদের ভয়ের কথা শুনিয়েছিল ইংল্যান্ড দল। ব্যাট হাতে সাকিবের সংগ্রহ মাত্র দুই রান হলেও বল হাতে নিয়ন্ত্রিত বোলিং করে ঠিকই চাপের মধ্যে রেখেছিলেন ইংল্যান্ডকে। এদিকে নবাগত আরাফাত সানিও কম যাননি, সাকিবের মতো তিনিও আটকে রেখেছিলেন ইংল্যান্ডকে। নামের পাশে উইকেট না থাকায় তাদের অবদানকে পরিসংখ্যানে কিছু দেখা সম্ভব না হলেও দলের জয়ে তাদের অবদানকে কোনক্রমেই অস্বীকার করার উপায় নেই।
এদিকে সারাবিশ্ব যখন বাংলাদেশের স্পিন নিয়ে আতঙ্কে তখন দলের পেসবোলারদের হালকাভাবে না নেওয়ার কথাই বলছেন মাশরাফি। বলেছেন-বলতে হচ্ছে বলে দুঃখিত, অনেকে আমাদের পেস বোলিং নিয়ে খুব আজেবাজে কথা বলেন। আমরা জানি, আমরা কি; আমারা জানি, আমাদের সামর্থ্য কতটা। আমার মনে হয়, এখন আমাদের পেসার প্রতি সম্মান জানানোর সময় এসেছে।”
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আট উইকেট নেন বাংলাদেশের তিন পেসার। রুবেল হোসেন ও তাসকিন আহমেদদের পারফরম্যান্সে নিজের সন্তুষ্টির কথা জানান দেশসেরা পেসার।
“আমাদের পেসারদের নিয়ে আমি খুশি। বিশ্বকে ওরা দেখিয়েছে, ওরা কতটা ভালো। আশা করি, এটা ওদের আত্মবিশ্বাসী করবে এবং বিশ্ব মঞ্চে বারবার এর পুনরাবৃত্তি করবে। আমি সবাই অনুরোধ করবো, দয়া করে পেসারদের কিছুটা সম্মান জানান।”
৫৩ রানে চার উইকেট নেয়া রুবেলের পারফম্যান্সে দারুণ খুশি মাশরাফি। তিনি বলেন, “রুবেল অসাধারণ এক জন বোলার। মিডঅফ বা মিডঅন থেকে ওর বল দেখার মতো একটা ব্যাপার। ও সুইং করাতে পারে, অনেক জোরে বল করতে পারে।”
জেমস অ্যান্ডারসন, স্টুয়ার্ট ব্রড, ক্রিস ওকস, ক্রিস জর্ডানরা থাকার পরও ম্যাচে সবচেয়ে দ্রুতগতিতে বল করার কৃতিত্ব রুবেলের।
“আমি খুশি, রুবেল সমস্ত চাপ নিজের কাঁধে নিয়েছে এবং দারুণ বল করেছে। বিশ্বকাপ শুরুর আগে সে খুব চাপের মধ্যে ছিল। সেই চাপ পেছনে ফেলে পারফরম করেছে। বিশ্বকে দেখিয়েছে সে কতটা ভালো।”
দেশের মাটিতে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে হ্যাটট্রিকসহ ছয় উইকেট নেয়ার কৃতিত্ব রয়েছে রুবেলের। অভিষেকে ভারতের বিপক্ষে পাঁচ উইকেট নেন তরুণ তাসকিন। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মাশরাফি ও তাসকিন দুটি করে উইকেট নেন। তবে অধিনায়কের প্রশংসা বেশি পেলেন রুবেলই।
“ওদের ভালো একটা জুটি হওয়ার পর রুবেল ‘ব্রেক থ্রু’ দিল। কারা উইকেটে ছিল তা কোনো ব্যাপার নয়। সেই ওভারেই শেষ দুটি উইকেট নেয়া দরকার। যেভাবে সে বল করেছে, তার শারীরিক ভাষা যেমন ছিল তাতে আমি খুশি।”
উল্লেখ্য, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ২৭৫ রান করে বাংলাদেশ। জবাবে তিন পেস বোলারের আট উইকেট নেওয়ার সুবাদে ২৬০ রানে অলআউট হয় ইংল্যান্ড। এই জয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ ইতিহাসের প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উন্নীত হয় এবং প্রথম রাউন্ড থেকেই খালি হাতে দেশে ফিরতে হচ্ছে ইংল্যান্ড দলকে।