ক্রীড়া প্রতিবেদক | ০১ জুন, ২০১৬
'এখন তো দেখি ফিজ নামেই সবাই চিনে। ভালো লাগে। যদিও এই নামের আকিকা হয় নি।'- এমনটি বললেন বাংলাদেশের পেস সেনসেশন মুস্তাফিজুর রহমান। একটি বেসরকারী টেলিভিশনে সাক্ষাতকারে এমনটি মুস্তাফিজ থেকে ফিজ হয়ে উঠার গল্প শোনান সদ্য আইপিএল জয় করে আসা এই তারকা।
এটিএন নিউজের বার্তা প্রধান মুন্নী সাহাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে মুস্তাফিজ শোনান তাঁর শৈশব থেকে শুরু করে তার ক্রিকেট ক্যারিয়ার, আইপিএলের স্মৃতি আর বাবা-মায়ের প্রতি টানের গল্প।
মুন্নী সাহার সাথে সাক্ষাতের শুরুতেই মুস্তাফিজের সেই অতিপরিচিত দুষ্ট বালকসুলভ হাসি। শুরুতেই ক্রিকেটের বাইরের কথা বলতে আহ্বান জানান মুন্নী সাহা। হাসি দিয়ে মুস্তাফিজের জিজ্ঞাসা- বলেন কি বলবো? নি
মুস্তাফিজ জানান, তার ফিজ নামটি দিয়েছিলেন বাংলাদেশ দলের কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহে।
নামকরণের এই ইতিহাসের বর্ণনা দিয়ে মুস্তাফিজ বলেন, কোচ জিজ্ঞেস করেছিলেন আমার সংক্ষিপ্ত কোনো নাম আছে কি না। আমি না বলি। এরপর একদিন দেখি দলের প্র্যাকটিসের সময় ব্যাটিং ও বোলিং লাইনআপে আমার নাম নেই। একজায়গায় ফিজ লেখা। আমি তো অবাক। কোচকে জিজ্ঞেস করলাম- আমি কই। কোচ ফিজ নাম দেখিয়ে বললেন- এই তুমি। এরপর থেকেই ফিজ নামে পরিচিত।
এই নামের প্রতিবাদও করেননি তিনি। কারণ হিসেবে বলেন, আমার নাম তো অনেক বড়- মুস্তাফিজুর রহমান। তাই ফিজ নামেই সবাই ডাকতে স্বাচ্ছন্দবোধ করে। এই নামের আকিকা হয়নি বলেন তিনি।
মুস্তাফিজ বলেন, ৫ দিন কম দুই মাসের ভারত সফর করে দেশে ফিরে এখন বাড়ির জন্য মন ভীষণ টানছে। বাড়িতে সবাই আত্মীয় স্বজন ও বন্ধু বান্ধব অপেক্ষায় আছেন। আমিও তাদের জন্য ব্যাকুল হয়ে আছেন। ভারত থাকার সময়ে দেশের জন্য খুব মন কাঁদছিলো আর এখন দেশে ফিরে মন টানছে মা-বাবার জন্য।
দেশে ফিরেই গোলাপের মুকুট দেয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিমানবন্দরে বোর্ডের সিইও ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী (আসলে উপমন্ত্রী) ছিলেন। আর ওদের দেখে ভীষণ ভালো লাগছিলো তার।
ভারত সফরের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে মুস্তাফিজ বলেন, ওখানে সব জায়গার মানুষ ছিলেন। ইংল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা, ওয়েস্ট ইন্ডিজ,অস্ট্রেলিয়া। এখানে শুধু বোলিং এর বিষয় না। কাউকে দেখে, কারো চলাফেরা দেখেও অনেক অনেক কিছু শেখার আছে বলে মনে করেন ফিজ। আমি যেহেতু ছোট আমার অনেক কিছু শেখার আছে । আমি আরো শিখতে চাই।
প্রথমবারের মতো সারাইজার্স হায়দারাবাদকে শিরোপা জেতালেন তিনি। শিরোপা জেতার পর কোচ টম মুডি না কি বলছিলেন ফিজ আমাদের জন্য লাকি (ভাগ্যবান)। সতীর্থ ও হায়দারাবাদের টীম মালিকরাও তখন মুস্তাফিজ বন্দনায় মেতে উঠেছিলেন।
শিরোপা জেতার পর মুস্তাফিজকে বৃত্তবন্দী করে রেখে সবাই নেচেছিলেন মাঠে। মুস্তাফিজও তখন জয়ের আনন্দে আপনমনে হাত পা ছুড়ে নাচার চেষ্টা করছিলেন। এটাকে জেতার পরে ফান (আনন্দ) বলেই অভিহিত করেন মুস্তাফিজ। আর মুস্তাফিজ কিছু করলে সতীর্থরা একটু বাড়তি মজাই পান।
মুস্তাফিজ বলেন, ওখানে অনেকেই আমার কাছে বাংলা শিখতে চেয়েছে। 'কেমন আছো-ভালো', 'আমি তোমাকে ভালোবাসি' এই কথাগুলো সবাই বলতে পাড়তো। ইন্ডিয়ার অনেকেই বাংলা জানে। তাছাড়াও নিউজিল্যান্ডের ট্রেন্ট বোল্ট ও কোচ টম মুডিও নাকি বাংলায় কথা বলতে পারেন বলে জানান মুস্তাফিজ।
তিনি বলেন, যুবরাজ, ধাওয়ানরা অনেকটাই বাংলা পারে। তারপরও যদি কোনটা না জানে তাহলে আমার কাছে আসতেন। আর মুস্তাফিজও বুঝতেন কিছুটা হিন্দী ভাষা। তারপরও আরো ভালো করে শিখতে চান তিনি। আর ক্রিকেটের ভাষায় অল্পস্বল্প ইংরেজীও তাঁর রপ্ত।
ভারতে থাকাকালীন কিছু গণমাধ্যমে সংবাদ আসে মুস্তাফিজের জন্য না কি দোভাষী অনুবাদক রাখা হয়েছে। মুস্তাফিজ এটাকে সম্পূর্ণ ভূয়া বলে দাবী করেন। তবে প্রথম ৬ দিন দলে একজন সদস্য ছিলো যে কিনা বাংলা বলতে পারতো। ব্যাস ওইটুকুই।
মুস্তাফিজ জানান, বাড়িতে থাকলে তিনি ঘুরতে পছন্দ করেন। নিজের এলাকা তার খুবই প্রিয়। অন্য জায়গায় থাকলেও এলাকার জন্য টানটা বরাবরই একটু বেশী তার।
মুস্তাফিজকে বীরের প্রতীক দেয়া প্রসঙ্গে বলেন, আমি অন্যদের থেকে তো এসব একটু কম বুঝি, আর কি বলবো বলে হেসে উড়িয়ে দে। এর উত্তর তার কাছে নেই।