নিউজ ডেস্ক | ২৪ মার্চ, ২০১৫
বিশ্বকাপের আগে কিংবা পুরো চার বছর যে দলটি একের পর এক ম্যাচ জেতে, সিরিজ জেতে এমনকি বিভিন্ন টুর্ণামেন্ট জেতে বিশ্বকাপ এলেই তাদের অন্যরূপ দেখে ক্রিকেট বিশ্ব। হ্যাঁ, দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপের সঠিক সময়ে জ্বলে ওঠা নয়, ভেঙে পড়া এক নাম।
চাপে ভেঙে পড়া ছিল যাদের সহজাত, কোয়ার্টার ফাইনালের ম্যাচে শ্রীলংকাকে ওড়িয়ে দিয়ে দিন বদলের ইঙ্গিত দিয়েছিল তারা। কিন্তু হায়, শেষ রক্ষা হয়নি, সেমিফাইনালে এসে চাপের মধ্যে ভেঙে পড়ার সে পুরনো ব্যাধি এসে বাসা বাধে। মিস ফিল্ডিং, ক্যাচ মিসের মহড়া এমন দক্ষিণ আফ্রিকাকে আগে দেখেনি কেউ, অথচ তাই হলো! সেমিফাইনালের চাপ নিতে পারল না তারা। বিদায় নিলো বিশ্বকাপ থেকে চোখের জলে!
অনেকেই ভাবত আগাগোড়া পেশাদার এক দলের খেলোয়াড়দের যাদের মধ্যে ক্রিকেট আবেগের কোন স্থান নাই। কিন্তু যখন নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ হারে তারা তখন হুহু করে কেঁদে ওঠেন মর্নে মর্কেল, ডেল স্টেইন সহ অন্যরা। অধিনায়ক ডিভিলিয়ার্স অন্যান্যদের স্বান্তনা দেবেন কী তিনিও কেঁদে ওঠেন শিশুদের মতো করে। দলবেঁধে কিংবা এক এক করে অথবা এক সাথে সবাই কাঁদল- এই ত আবেগ, এই ত ক্রিকেটের প্রতি অপরিমেয় ভালোবাসা, একটা বিশ্বকাপ জয়ের প্রবল আকাঙ্ক্ষা।
দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যর্থতার গল্প বেশ পুরনো! সেই ১৯৯২ সাল থেকেই চলছে! প্রতিবিশ্বকাপে ট্রাজেডি হিরো, চরিত্র-পাশ্বচরিত্র বদলাচ্ছে শুধু। বর্ণবাদী কারণে ২৩ বছর নিষিদ্ধ থাকার পর ১৯৯২ বিশ্বকাপের প্রত্যাবর্তন হয়েছিল তাদের। দুর্দান্ত ফর্মে থাকা সেই দলকে চ্যাম্পিয়ন ভাবছিলেন অনেকেই। কিন্তু সেমিফাইনালে বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচে ইংল্যান্ডের হেরে বিদায় নেয় তারা।
বৃষ্টি আসার আগে ১৬ বলে ২২ রানের সহজ সমীকরন যখন বৃষ্টির পর বৃষ্টি আইনে ১ বলে ২২ হয়ে যায় তখন দীর্ঘশ্বাস কিছুই করার থাকেনি তাদের। পরের আসরে ব্রায়ান লারা একাই হারিয়ে দেন দক্ষিন আফ্রিকানদের।
১৯৯৯ বিশ্বকাপে না হেরেও বিদায় নেয় দক্ষিন আফ্রিকা। সেমিফাইনালে টাই হওয়া ম্যাচে আগের রাউন্ডের ফলাফলের ভিত্তিতে ফাইনালে চলে যায় অস্ট্রেলিয়া। ল্যান্স ক্লুজনারের সে বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে মনে হচ্ছিল জিতে যাচ্ছিল তারা অথচ মাত্র এক রানের জন্যে রানআউট হয়ে যান ডোনাল্ডো। স্টিভ ওয়াহর ব্যাটিংয়ের সময়ে হার্শেল গিবস ফেলে দেন ক্যাচ- তখন স্টিভ বলেছিলেন, এই বুঝি বিশ্বকাপই ফেলে দিলে। আসলে হয়েছিলও তাই।
২০০৩ বিশ্বকাপে আবার বৃষ্টি। হিসাব নিকাশে ভুল করে বসে শন পোলকের দল। বৃষ্টি না থামায় ১ রান বেশি হওয়ায় পরের রাউন্ডে চলে যায় শ্রীলঙ্কা। ২০০৭ অস্ট্রেলিয়ার কাছে আবার পরাজয় সেমিফাইনালে, ২০১১- নিউজিল্যান্ডের সাথে কোয়ার্টার ফাইনালে পরাজয় আর এবারের ২০১৫ বিশ্বকাপে শেষ ওভারে হেরে যাওয়া!