ক্রীড়া প্রতিবেদক | ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৬
ওয়ানডে ক্রিকেটে দীর্ঘ ১১ মাসের বিরতির পর বাংলাদেশ দল মাঠে নামছে। প্রতিপক্ষ উদীয়মান আফগানিস্তান দল। গতবছর নভেম্বর মাসে শেষ ওয়ানডে ম্যাচ খেলেছিল বাংলাদেশ।
রোববার (২৫ সেপ্টেম্বর) মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে দুপুর আড়াইটায় তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম ম্যাচ শুরু হবে। সিরিজের তিনটি ম্যাচই হবে দিবা-রাত্রির; ভেন্যুও একই। ২৮ সেপ্টেম্বর দ্বিতীয় ও ১ অক্টোবর সিরিজের তৃতীয় ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে।
প্রতিটি ম্যাচের সাথে একদিন করে রিজার্ভ ডে থাকছে বৃষ্টির আশঙ্কা মাথায় রেখে।
আইসিসির র্যাংকিংয়ের ৬ নম্বরে থাকা বাংলাদেশ গত কয়েক সিরিজে দেশের মাটিতে অপরাজেয় এক ক্রিকেট শক্তিতে পরিণত হয়েছে। অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ড ওয়ানডে বিশ্বকাপে দুর্দান্ত সাফল্যের পর তারা দেশের মাটিতে টানা পাঁচটি ওয়ানডে সিরিজ জিতেছে। যার মধ্যে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দুটি সিরিজের চেয়ে বড় হয়ে উঠেছে পাকিস্তানকে হোয়াইট ওয়াশ করা এবং ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজ জয়।
দলে বিশ্বক্রিকেটের নতুন ত্রাস মোস্তাফিজুর রহমান না থাকলেও সাময়িক নিষিদ্ধের খড়গ থেকে মুক্তি পাওয়া ফাস্ট বোলার তাসকিন ফিরেছেন দলে। মাশরাফি বিন মুর্তজার নেতৃত্বে ফাস্ট বোলারদের দারুণ উত্থানে এবং সৌম্য- তামিম- মুশফিক- মাহমুদউল্লাহদের পারফরম্যান্সে বাংলাদেশ ওয়ানডে ক্রিকেটে এক পরাশক্তির নাম।
শনিবার সংবাদ সম্মেলনে দুই দলের বোলিং আক্রমণের প্রসঙ্গে মাশরাফির কণ্ঠে ফুটে উঠল আফগানদের জন্য সম্মান আর নিজেদের সামর্থ্যের প্রতি দৃঢ় আস্থা।
মাশরাফি বলেন, “আফগানিস্তানের বোলিং আক্রমণ অবশ্যই খুব ভালো। আসলে তাদের পুরো দলটাকেই আমরা সম্মান করছি। অবশ্যই তারা ভালো দল। তবে ব্যাপার হচ্ছে, আমরা নিজেরা বিশ্বাস করি, বিশ্বের সেরা বোলিং লাইন আপ এখন আমাদের। আমরা সবাই এটি বিশ্বাস করি।”
অধিনায়কের মতে, নিজেদের সামর্থ্যে এই বিশ্বাসই দলের মূল মন্ত্র।
“একটা আন্তর্জাতিক ম্যাচ যখন খেলতে নামব, তখন আমরা নিজেরা কি বিশ্বাস করি সেটা গুরুত্বপূর্ণ। নিজেদের বিশ্বাস, শক্তির জায়গা নিয়েই আমরা খেলতে নামব।”
আফগানিস্তান ক্রিকেটে উদীয়মান এক দল। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটি ইতিমধ্যে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে কয়েকটি চমক দেওয়া ফলাফল পাওয়ার পাশাপাশি এক রোমান্টিক গল্পগাথা তৈরি করেছে। আয়ারল্যান্ড, স্কটল্যান্ডকে এখন নিয়মিত হারাচ্ছে তারা। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে জিতেছে পরপর দুটো সিরিজ। আর ২০১৪ সালে এই বাংলাদেশে এসেই তারা এশিয়া কাপে বাংলাদেশকে হারিয়ে গিয়েছিলো! এটাই ওদেরকে আশাবাদী করছে।
তবে বাংলাদেশের জন্য একটা বড় স্বস্তি হলো, ২০১৪ সালের সেই অঘটনের স্মৃতিকে তারা গতবছর বিশ্বকাপেই অতীত করে দিয়ে এসেছে। বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে প্রতিপক্ষ ছিলো আফগানরা। অনেক শঙ্কা জয় করে সেই ম্যাচে জয়ের ভেতর দিয়েই অভিযান শুরু করেছিলো বাংলাদেশ। ফলে আজ নানামুখী সুখস্মৃতি নিয়েই মাঠে নামবে মাশরাফির দল।