শুক্রবার মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে ৬ উইকেটে ৩২৯ রান করে বাংলাদেশ। ওয়ানডেতে এটাই তাদের সর্বোচ্চ রান। আগের সর্বোচ্চও ছিল পাকিস্তানের বিপক্ষে, গত বছর এশিয়া কাপে করা ৩ উইকেটে ৩২৬ রান।
তামিমের সঙ্গে ইনিংস উদ্বোধন করেন সৌম্য সরকার। শুরুতে রাহাত আলির বলে রান নিয়ে দলকে এগিয়ে নিচ্ছিলেন তামিম ও সৌম্য। ষষ্ঠ ওভার শেষে রাহাতকে বোলিং থেকে সরিয়ে নেওয়ার পর স্বাগতিকদের রানের গতিতে ভাটা পড়ে।
প্রথম দিকে জুনায়েদ খান, ওয়াহাব রিয়াজ ও সাইদ আজমলের বলে রান নিতে লড়াই করতে হচ্ছিল বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের। ৬ ওভার শেষে কোনো উইকেট না হারিয়ে ৩১ রান সংগ্রহ করার পর পরের ৭ ওভার ২ বলে যোগ করে মাত্র ১৭ রান।
রানের গতি কমে যাওয়ায় অস্বস্তিতে পড়েন দুই উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান। দ্রুত সিঙ্গেলস নিয়ে চাপ থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করেন এই দুই জন। সেই চেষ্টা করতে গিয়েই সৌম্যের রান আউটে ভাঙে ৪৮ রানের জুটি। শুরুতে সহজ রান দেয়া রাহাত দ্বিতীয় স্পেলে হিসেবি বোলিং করে বাংলাদেশের ওপর চাপ আরও বাড়ান। ১৮ ওভার শেষে বাংলাদেশের রান ছিল ১ উইকেটে ৫৯ রান।
চার বিশেষজ্ঞ বোলার নিয়ে খেলা পাকিস্তানকে ১০ ওভার করাতে হয় অভিষিক্ত সাদ নাসিম, হারিস সোহেল ও অধিনায়ক আজহার আলিকে দিয়ে। তাদের ১০ ওভারে কোনো উইকেট না হারিয়ে ৭৯ রান সংগ্রহ করে নিজেদের ওপর থেকে চাপটা সরিয়ে নেয় স্বাগতিকরা। উইকেটে ততক্ষণে খুব ভালোভাবে মানিয়ে নেন তামিম ও মুশফিক। এরপর অতিথি দলের বিশেষজ্ঞ বোলাররা ফিরলেও আর রানের গতি বেধে রাখতে পারেননি। ব্যাটিং পাওয়ার প্লের ৫ ওভারে (৩৬ থেকে ৪০) ৫৫ রান যোগ করে বাংলাদেশ।
২০তম ওভারের শেষ বলে রাহাতের বলে মাহমুদউল্লাহ বোল্ড হলে তামিমের সঙ্গে জুটি গড়েন মুশফিক। তৃতীয় উইকেটে ২১ ওভার ৪ বলে ১৭৮ রানের দারুণ এক জুটি উপহার দেন এই দুজন। ২৪তম ওভারে হারিস সোহেলের বলে এক রান নিয়ে অর্ধশতকে পৌঁছান তামিম। ৭৫ বলে অর্ধশতকে পৌঁছানো এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান নিজের রান তিন অঙ্কে নিয়ে যান ১১২ বলে। শতকে পৌঁছানোর পর আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন তামিম।
২৮তম ওভারে হারিসের বলে মিড উইকেট দিয়ে ম্যাচের প্রথম ছক্কাটি হাঁকান তিনি। পরের বলটিও একই জায়গা দিয়ে আবার উড়িয়ে সীমানা ছাড়া করেন তিনি। এটি ছিল আরও বিশাল, গ্যালারিতে উল্লসিত ভক্তদের মাঝে গিয়ে পড়ে সেই বল।
পরের ওভারে আজহারে বলে জীবন পান মুশফিক। সে সময় ৩৫ রানে ব্যাট করছিলেন তিনি। এর আগে সাদ নাসিমকে ফিরতি ক্যাচ দিয়ে বেঁচে যান সে সময় ৪৭ রানে ব্যাট করা তামিম। ৩৫তম ওভারে আজমলের বলে চার হাঁকিয়ে অর্ধশতকে পৌঁছান মুশফিক। সেই ওভারেই তিন বলের দুবার সীমানার বাইরে বল পাঠিয়ে নিজের পঞ্চম শতকে পৌঁছান তামিম। ২০১৩ সালের পর ওয়ানডেতে এই প্রথম শতক পেলেন তিনি।
ওয়াহাবের বলে মোহাম্মদ রিজওয়ানের ক্যাচে পরিণত হওয়ার আগে ১৩২ রানের দৃঢ়তাভরা ইনিংস খেলেন তামিম। তার ১৩৫ বলের ইনিংসটি ১৫টি চার ও ৩টি ছক্কা সমৃদ্ধ। তামিম ফিরে গেলেও অবিচল ছিলেন মুশফিক। চতুর্থ উইকেটে সাকিব আল হাসানের সঙ্গে মাত্র ৩৪ বলে ৫০ রানের জুটি উপহার দেন তিনি। এই জুটি গড়ার পথে নিজের ৬৯ বলে তৃতীয় শতকে পৌঁছান মুশফিক। তামিমের মতো আজমলের বলে দুটি চার হাঁকিয়ে নিজের রান তিন অঙ্কে নিয়ে যান তিনি।
মাত্র ৭৭ বলে খেলা মুশফিকের ১০৬ রানের ঝড়ো ইনিংসটি ১৩টি চার ও ২টি ছক্কায় সাজানো। এই প্রথম কোনো একই ওয়ানডেতে শতক পেলেন বাংলাদেশের দুই ব্যাটম্যান। ওয়াহাবের দ্বিতীয় শিকারে পরিণত হয়ে মুশফিক ফিরে গেলেও বাংলাদেশের ইনিংসে তার কোনো প্রভাব পড়তে দেননি সাকিব ও সাব্বির রহমান। পঞ্চম উইকেটে ১৪ বলে ৩০ রানের জুটি গড়েন এই দুজন।
শেষ ওভারে সাকিব ও সাব্বিরকে ফেরানো ওয়াহাব পাকিস্তানের সেরা বোলার। ৫৯ রানে ৪ উইকেট নেন এই বাঁহাতি পেসার।