সিলেটটুডে ডেস্ক | ১৮ এপ্রিল, ২০১৫
তামিম কি ফুরিয়ে গেছেন? তামিম কি দলের জন্য বোঝা? চাচা আকরাম খানের কারনেই রান না করে দলে টিকে যাচ্ছেন তামিম? শুক্রবারের ম্যাচের আগে তামিমকে নিয়ে এই প্রশ্নগুলোই ঘুরপাক খাচ্ছিলো ভক্তদের মুখে মুখে।
বিশ্বকাপের পারফরম্যান্সে পুরো দল যখন প্রশংসায় ভাসছে তামিমকে তখন সমালোচনার কাঁটা সহ্য করতে হচ্ছে। তার দলে অন্তূর্ভক্তি নিয়েই প্রশ্ন উঠছে।
তামিম জানতেন, একজন ব্যাটসম্যানকে ব্যাটেই দিতে হয় সমালোচনার জবাব। রান পেলেই বন্ধ হয়ে যাবে সমালেচকদের মুখ। সেই মােক্ষম সময়েরই অপেক্ষায় ছিলেন এই মারকুটে ওপেনার। শুক্রবার হেসে উঠলো তামিমের ব্যাট। দারুণ এক সেঞ্চুরিতে স্বমহিমায় ফিরলেন এই ড্যাশিং ব্যাটসম্যান।
সেঞ্চুিরর পর উদযাপনটাই বলে দিচ্ছিলো এমন একটি মূহূর্তের জন্য কত অপেক্ষায় ছিলেন তামিম।
সাঈদ আজমলের বলটা স্কয়ার লেগ বাউন্ডারি পাড় করার সাথে সাথেই ফেঁটে পড়লো গ্যালারী। যারা টিভি স্ক্রিনের সামনে বসেছিলেন তারাও দাঁড়িয়ে গেলেন। উপলক্ষ্য একটাই - তামিমের সেঞ্চুরি!
সেই সেঞ্চুরি, যার জন্য দুই বছরের বেশি সময় ধরে যার জন্য অপেক্ষায় ছিল সমর্থকরা। সবচেয়ে বেশি অপেক্ষায় ছিলেন তামিম ইকবাল নিজেই; এসময় তিনি খেলেছেন ২২ ম্যাচ। সেঞ্চুরি করে ব্যাটটা ফেলে দিলেন, হেলমেট খুলে উদযাপনের ভাষা ছিল ‘পাঁচ’; অর্থাৎ এটাই ওয়ানডেতে তামিম ইকবালের পঞ্চম সেঞ্চুরি।
জবাব দিলেন সমালোচকদেরও। হাতের ইশারায় বুঝিয়ে দিলেন - ‘এবার তোমরা চুপ থাকতে পারো। আমি তামিম, আমি রান করতে জানি।’
সেঞ্চুরি করতে সময় নিলেন ১১২ বল। এর মধ্যে ১২ চারের সাথে ছিল দুটি ছক্কা। সেঞ্চুরি করে যেন নিজেকে খোলস থেকে আরও বের করে ফেললেন। সাঈদ আজমল আর ওয়াহাব রিয়াজের মত প্রতাপশালী বোলারদের বিপক্ষে চার-ছক্কার বন্যাই তার প্রমান।
এই সেঞ্চুরিকে কি বলা যায়- কাঙ্ক্ষিত সেঞ্চুরি? নাকি মোক্ষম জবাব? নাকি দুইটাই? উত্তরটা স্বয়ং তামিমের কাছেই। নিন্দুকের মুখে ছাই, কথাটাকে দেরীতে হলেও বারবার প্রমাণ করে দিয়েছেন তামিম ইকবাল। পাকিস্তানের বিপক্ষেও নতুন করে নিজের ফর্ম জানান দিলেন।
সেঞ্চুরী করেও ম্যান অব দ্যা ম্যাচ হন নি, তাতে কী! তামিম নিজেকে ফিরে পেয়েছেন এর চেয়ে আনন্দের আর কি হতে পারে! পুরো বাংলাদেশ দলের জন্যও তো এ এক বড় স্বস্থি। দলের সেরা ব্যাটসম্যানের রানে ফেরার চেয়ে স্বস্থিদায়ক আর কী হতে পারে!
তবে মাঠে বিধ্বংসী রুপে আর্বিভূত হওয়া তামিম মাঠের বাইরে ছিলেন বিনয়ী। সেঞ্চুরির প্রতিক্রিয়া জানানোর সময় ছিলেন সংযমী। বললেন, 'পারফর্ম করতে পেরে অনেক ভালো লাগছে। আমার করা রান দলের জন্য উপকারে আসবে, এটাই অনেক কিছু। আর নিজের মাঠে, নিজেদের দর্শকদের সামনে ভালো করাটা বরাবরই আনন্দের।'
তার সাথে তাল মিলিয়ে চলা মুশফিককে ধন্যবাদ দিতেও ভুললেন না। বললেন,'মুশফিক অনেক আক্রমণাত্মক ছিলো। কিন্তু দারুণ ব্যাটিং করেছে। ও আমার ইনিংসটাকেই আনন্দময় করে দিয়েছ। ওর(মুশফিক) জন্য আমার কাজটা সহজ হয়ে গেছে।'