স্পোর্টস ডেস্ক | ২৯ জানুয়ারী, ২০১৭
বেতন বাড়াও—ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ফুটবলারদের কণ্ঠে এখন এক যোগে এই সুর। ব্রাজিলের মিডফিল্ডার ফিলিপে কুতিনহো কদিন আগেই লিভারপুলের সঙ্গে পাঁচ বছরের জন্য নতুন চুক্তিতে সই করেছেন। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের বিচারে বেতনটা অবাক করার মতোই—বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের খবর সপ্তাহে তাঁর বেতন দেড় থেকে দুই লাখ পাউন্ড।
সামনেই এই ধাক্কা সামলাতে হবে আর্সেনালকে। দলের সেরা দুই তারকা মেসুত ওজিল ও আলেক্সিস সানচেজ তাঁদের বেতন বাড়ানোর চাপ দিয়েছেন। বিশ্বকাপ জয়ী জার্মান মিডফিল্ডার ওজিল নাকি সপ্তাহে আড়াই লাখ পাউন্ড বেতন চাচ্ছেন। টানা দুটি কোপা আমেরিকা জেতা চিলির ফরোয়ার্ড সানচেজের দাবিও তা-ই। বর্তমানে তাঁদের বেতন সপ্তাহে ১ লাখ ৩৫ হাজার পাউন্ড। আর্সেনাল নাকি এটা বাড়িয়ে দুই লাখ পাউন্ড করার প্রস্তাব দিয়েছে।
হঠাৎ করে ইংল্যান্ডে ফুটবলাররা বেতন বাড়ানোর সুর তুলছে কেন? বড় একটা কারণ, চীনের ফুটবলের অঢেল অর্থ। ইউরোপের বড় লিগগুলোর তারকা খেলোয়াড়দের দিকে নজর চাইনিজ সুপার লিগের ক্লাবগুলোর। এরই মধ্যে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ক্লাব চেলসি থেকে অস্কারকে দলে ভিড়িয়েছে সাংহাই এসআইপিজি। গুঞ্জন চলছে কস্তা-রুনিসহ আরও অনেককে নিয়ে।
ব্রেক্সিটের ধাক্কায় পাউন্ডের দরপতনও একটি কারণ। ফুটবলারেরা তাঁদের পাওয়া বেতন নিজ দেশের মুদ্রায় রূপান্তর করে আগের মতো আর লাভবান হতে পারছেন না। প্রিমিয়ার লিগের নতুন টিভিস্বত্ত্ব অনুযায়ী ক্লাবগুলো এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি অর্থ পাবে। এটাও ফুটবলারদের বেতন বাড়ানোর দাবি তুলতে উদ্বুদ্ধ করছে। পাউন্ডের দরপতন হওয়া মানে বিদেশি খেলোয়াড়দের বেতনও এক অর্থে কমে যাওয়া।
ওনাডা ট্রেডিং গ্রুপের সিনিয়র বাজার বিশ্লেষক ক্রেইগ আরলাম পুরো বিষয়টিকে দেখেন খেলোয়াড়দের সুযোগ পেয়ে সুবিধা আদায় করে নেওয়া হিসেবে, ‘ইংল্যান্ডে আসা কিছু ফুটবলার যে এখন ভালো চুক্তির জন্য চীনকে কাজে লাগাচ্ছে। এটাকে আমি কাকতাল মনে করি না।’
সূত্র: এএফপি