Sylhet Today 24 PRINT

মার্করাম হয়ে উঠতে পারেন নতুন ‘গ্রায়েম স্মিথ’!

স্পোর্টস ডেস্ক |  ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৭

দক্ষিণ আফ্রিকা অনূর্ধ্ব-১৯ দলের কোচ জে রেনিংস ২০১৩ সালের শুরুর দিকে বেশ বিপাকেই পড়েছিলেন। এক বছরের মধ্যেই যুব বিশ্বকাপ, অথচ প্রোটিয়া দলের টপ অর্ডারে বিধ্বংসী কোনো ব্যাটসম্যান নেই। কিছুটা ব্যতিব্যস্ত হয়েই আগের বছর অনূর্ধ্ব-১৯ দলে খেলা মারে কোয়েটজিকে ফোন করেছিলেন জেনিংস, ‘এমন কেউ কি আছে যে নজর এড়িয়ে গিয়েছে?’ একটু সময় নিয়ে কোয়েটজি বলেছিলেন, ‘আছে। কিন্তু সে তো রোদ পোহাতে আর চামড়া ট্যান করানো নিয়ে ব্যস্ত!’

কোয়েটজি বলেছিলেন এইডেন মার্করামের কথা। প্রিটোরিয়া বয়েজ স্কুল মার্করাম পড়তেন তাঁরই সঙ্গে। স্কুল দলের ওপেনার হিসেবে সুখ্যাতি ছড়িয়ে পড়েছিল তাঁর। এই মার্করামই এখন অপেক্ষায় আছেন বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্ট অভিষেকের!

অনূর্ধ্ব-১৯ দলেই খেলার কথা ছিল না মার্করামের। স্কুল দলের হয়ে ৯০০ রান করার পরও যুবদলে সুযোগ হয়নি তাঁর। এর নেপথ্য কারণ ছিল তিনি দক্ষিণ আফ্রিকা ক্রিকেট বোর্ডের কোনো বয়সভিত্তিক প্রোগ্রামের অংশ ছিলেন না। অথচ কোয়েটজির কথায় দলে ঢুকে মার্করাম কিন্তু দারুণ প্রতিদানই দিয়েছিলেন। আরব আমিরাতে অনুষ্ঠিত যুব বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড় হয়েছিলেন তিনি। ফাইনালে পাকিস্তানকে হারিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা জিতেছিল শিরোপা।

এমন পারফরম্যান্সের পর জাতীয় দলে খেলাটা প্রত্যাশিতই ছিল। কৈশোরের সতীর্থ কাগিসো রাবাদাই তো প্রায় দুই বছর ধরে টেস্ট ক্রিকেট খেলছেন। প্রিটোরিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় দক্ষিণ আফ্রিকার ঘরোয়া টাইটানস দলে সুবিধা করতে পারছিলেন না। এলগার, কুন, কাসিমদের নিয়ে টাইটানসের টপ অর্ডারে তখন মার্করামের জায়গা হয়নি। কিন্তু মোমেন্টাম ওয়ান ডে কাপের ফাইনালে ১২৩ বলে ১৬১ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলে আবারও আলোচনায় আসেন তিনি। ৫০ ওভারে ৪২৫ রান তুলে অনায়াসে ফাইনাল জিতেছিল টাইটানস। দলে নিজের প্রথম চুক্তি পেয়েই সানফয়েল সিরিজে ৫৬৩ রান করেছিলেন এই ডানহাতি ওপেনার।

মার্করাম কিন্তু মাঝে সুযোগ পেয়েছিলেন বিদেশের ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলারও। কিন্তু কেভিন পিটারসেনদের দেখানো পথে হাঁটেননি তিনি। লড়ে গেছেন টাইটানস দলে জায়গা করে নিতে। সেই সুযোগটাও হয়ে যায় একদিন। ডি ব্রুইন দল ছেড়ে গেলে কোচ মার্ক বাউচার তাঁকে ওপেনিংয়ে খেলান। আরও একটি ব্যাপারে মার্করাম নিজেকে প্রমাণ করেছেন। অনেকের দৃষ্টিতেই এই তরুণ নাকি সহজাত নেতৃত্বগুণের অধিকারী।

২০০৩ বিশ্বকাপে ভরাডুবির পর সমালোচনার মুখে অধিনায়কত্ব ছেড়েছিলেন শন পোলক। কারস্টেন, ক্যালিস, বাউচাররা যখন দায়িত্ব নিতে সাহস পাননি, তখন এগিয়ে এসেছিলেন ২২ বছর বয়সী এক তরুণ। কিছুটা একগুঁয়ে সেই বাঁহাতি ওপেনার প্রোটিয়াদের এক নম্বর টেস্ট দলে পরিণত করেছিলেন নিজের পারফরম্যান্স আর নেতৃত্বগুণে। তাঁর নাম গ্রায়েম স্মিথ। ১৪ বছর পর আরও একজন ২২ বছর বয়সী ওপেনার অপেক্ষায় আছেন দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে টেস্ট অভিষেকের। এইডেন মার্করাম কি পারবেন আরেকজন গ্রায়েম স্মিথ হয়ে উঠতে?
সূত্র: ক্রিকইনফো, টাইমস লাইভ, ক্রিকবাজ

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.