সিলেটটুডে স্পোর্টস ডেস্ক | ২৬ জুন, ২০১৫
ভারতের বিপক্ষে সিরিজ জেতায় ২০১৭ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে খেলা নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল বাংলাদেশের। তলানীর তিন দল পাকিস্তান, ওয়েস্ট ইন্ডিজ এবং জিম্বাবুয়ের মধ্যে এগিয়ে থাকা যেকোন দুই দল পাবে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির টিকেট। জিম্বাবুয়ের চান্স নেই। লড়াইটা তাই পাকিস্তান ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের মধ্যেই হবার কথা। এদিকে সেপ্টেম্বরের আগে ওয়েষ্ট ইন্ডিজের কোন ওডিআই সিরিজ না থাকায় অনেকটাই সুবিধাজনক অবস্থানে আছে পাকিস্তানও।
কিন্ত পাকিস্তানের ডন ও অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটকম অস্ট্রেলিয়া তখনই দিল নতুন খবর। আগস্টে পাকিস্তান, ওয়েস্ট ইন্ডিজকে নিয়ে একটি ত্রিদেশীয় সিরিজ আয়োজনের পরিকল্পনা করছে জিম্বাবুয়ে!
আগস্টে আসলে পাকিস্তানের বিপক্ষে তিন ম্যাচের দ্বিপক্ষীয় সিরিজ আয়োজনের পরিকল্পনা ছিল জিম্বাবুয়ের। অবশ্য ওই সিরিজের সূচি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। এখন এর মধ্যে ওয়েস্ট ইন্ডিজ যোগ হওয়ায় বিষয়টি বেশ গোলমেলেই হয়ে গেছে। কারণ, ভারতের বিপক্ষে দুটি ম্যাচ জেতায় র্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের অবস্থান এখন সাতে। অষ্টম দল হিসেবে শুধু লড়াইয়ের কথা পাকিস্তান ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের।
এফটিপি অনুযায়ী, আগামী মাসে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে পাঁচ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ রয়েছে পাকিস্তানের। এরপর আগস্টে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ। তবে চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে কোয়ালিফাইয়ের ‘ডেডলাইন’ অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ওয়েস্ট ইন্ডিজের কোনো ম্যাচ ছিল না। এখন হিসাবটা গোলমেলে করে দিতে পারে আলোচিত এ ত্রিদেশীয় সিরিজ।
চ্যাম্পিয়নস ট্রফির হিসাবের বাইরে থাকা জিম্বাবুয়ে এ ত্রিদেশীয় সিরিজের মূল উদ্যোক্তা। তারাই উদ্যোগী হয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে। পাকিস্তানও এই টুর্নামেন্টের ব্যাপারে ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে বলে জানা গেছে।
জিম্বাবুয়ে ক্রিকেটের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ‘সম্প্রতি আমরা ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে আলোচনা করেছি। ওয়েস্ট ইন্ডিজকে আমন্ত্রণ জানিয়েছি বত্রিদেশীয় সিরিজ খেলতে। তবে এখনো কিছুই চূড়ান্ত হয়নি। তবে পাকিস্তান ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষ থেকে ইতিবাচক সাড়া মিলবে’
জিম্বাবুয়ে যেহেতু আয়োজক, স্বাভাবিকভাবেই তারাই আমন্ত্রণ জানাবে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে, দ্বিপাক্ষিক সিরিজের অন্য দল পাকিস্তানের সমর্থনও লাগবে তাতে। কিন্তু হঠাৎ কেন এ পরিকল্পনা? বিশেষ করে ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশ দুটো ম্যাচ জয়ের পর। আর জিম্বাবুয়ে, যাদের কিনা চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি খেলার কোন সুযোগই নেই তারাই কেন হঠাৎ এত উদ্যোগী? তবে কি জিম্বাবুয়েকে সামনে রেখে আড়ালে কলকাঠি নাড়ছে অন্য কেউ? হিসাব নিকাশ বলে এই টুর্নামেন্ট আয়োজনে লাভবান হতে পারে পাকিস্তান ও ওয়েষ্ট ইন্ডিজ দুই দলই।
সূচির বাইরে এই টুর্নামেন্ট বাংলাদেশের সমীকরনকে ফের জটিল করে দিতে পারে। তবে আসন্ন দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজে যদি বাংলাদেশ দল এক ম্যাচ জিতে নিতে পারে তাহলে ৩ দলের ওসব পরিকল্পনায়ও কাজ হবে বলে মনে হয়না।
তথ্যসূত্র: ক্রিকেটকম অস্ট্রেলিয়া ও ডন।