Sylhet Today 24 PRINT

পেনাল্টি শুটআউটে শেষ রক্ষা: কোপা’র সেমিতে আর্জেন্টিনা

স্পোর্টস ডেস্ক |  ২৭ জুন, ২০১৫

কোপা আমেরিকার ৪৪তম আসরের তৃতীয় কোয়ার্টার ফাইনালের হাইভোল্টেজ ম্যাচে মাঠে নেমেছিল ১৪বারের চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা এবং চলতি আসরে ফেভারিট ব্রাজিলকে রুখে দেওয়া কলম্বিয়া। নির্ধারিত ৯০ মিনিটের খেলা শেষ হলে ম্যাচ গড়ায় পেনাল্টি শুটআউটে। আর দুই দল সাতটি করে শট নিয়ে ৫-৪ গোলের জয় আর্জেন্টিনাকে সেমিফাইনালের টিকিট পাইয়ে দেয়।

গ্রুপ ‘বি’তে প্যারাগুয়ের বিপক্ষে ২-২ গোলে ড্র করা আর্জেন্টাইনরা পরের ম্যাচগুলোতে উরুগুয়ে আর জ্যামাইকাকে ১-০ গোলে হারিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়। অপরদিকে, গ্রুপ ‘সি’তে তিন ম্যাচে একটি মাত্র জয় (ব্রাজিলের বিপক্ষে) আর একটি ম্যাচ ড্র করে শেষ আটে উঠে কলম্বিয়া।

গত বিশ্বকাপের রানার্সআপ আর্জেন্টিনা শুরুতে ৪-৩-৩ ফরমেশনে খেলতে থাকে। দলটির কোচ জেরার্ড টাটা মার্টিনো শুরুর একাদশে মাঠে পাঠান রোমেরো, জাবালেতা, এজিকুয়েল গ্যারে, অতামেন্ডি, মার্কোস রোহো, মাশচেরানো, লুকাস বিগলিয়া, পাস্তোরে, লিওনেল মেসি, সার্জিও আগুয়েরো এবং অ্যাঞ্জেল ডি মারিয়াকে। কলম্বিয়ার কোচ হোসে পেকারম্যান শুরুতে তার শিষ্যদের ৪-৪-২ ফরমেশনে খেলাতে থাকেন। শুরুর একাদশে তিনি মাঠে নামান ডেভিড অসপিনা, জুনিগা, জাপাতা, মুরিলো, আরিয়াস, কুয়াদরাদো, মেজিয়া, জেমস রদ্রিগেজ, ইবারবো, তিয়ো আর জ্যাকসনকে।

ম্যাচের ষষ্ঠ মিনিটে ডি মারিয়ার ক্রস থেকে বল পান পাস্তোরে। গোলবারের কোনা থেকে আলতো টোকা দিয়ে বল জালে জড়াতে চেয়েছিলেন তিনি। তবে, শেষ মুহূর্তে কলম্বিয়ার মুরিলোর বাধায় কর্ণার পায় আর্জেন্টিনা। কর্ণার থেকে ডি মারিয়ার তুলে মারা বলে ফাঁকায় দাঁড়িয়ে মার্কোস রোহো হেড করলেও তা বারের উপর দিয়ে চলে যায়।

দশম মিনিটে ডি মারিয়ার ক্রস থেকে বলের নাগাল পেতে ব্যর্থ হন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক মেসি। দুই মিনিট পরে কলম্বিয়ার সেরা তারকা জেমস রদ্রিগেজ হলুদ কার্ড দেখেন। ২০ মিনিটের মাথায় কিছুটা ক্ষুব্ধ হয়ে পেনাল্টির আবেদন করেন আর্জেন্টিনার তারকা সার্জিও আগুয়েরো। এরফলে তাকেও হলুদ কার্ড দেখতে হয়। আর পরের মিনিটে হলুদ কার্ড দেখেন কলম্বিয়ার মিডফিল্ডার মেজিয়া।

২৬ মিনিটের মাথায় পাস্তোরের ক্রস থেকে বল পান আগুয়েরো। গ্রুপপর্বে দুটি গোল করা আগুয়েরোর টোকায় বল জালে জড়ানোর আগ মুহূর্তে কলম্বিয়ার গোলরক্ষক ডেভিড অসপিনা বল পায়ে লাগিয়ে গোল থেকে দলকে রক্ষা করেন। ফিরে আসা বলে মেসি ছুটে এসে হেড করেন। এবারেও দারুণ ভাবে প্রতিহত করেন অসপিনা। কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানে দুটি নিশ্চিত গোল থেকে দলকে বাঁচিয়ে নিজে কিছুটা আহত হন অসপিনা।

ম্যাচের আগের দিন সংবাদ সম্মেলনে আর্জেন্টাইন কোচ মার্টিনো রেফারিদের নেওয়া বাজে সিদ্ধান্ত গুলোর সমালোচনা করেন। এ ম্যাচেও দুই দলের উপর বেশ কয়েকটি বাজে সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেন দায়িত্বে থাকা গার্সিয়া অরোজকো। ৩৪ মিনিটে আর্জেন্টাইন ডিফেন্ডার মাশচেরানো আর ৩৭ মিনিটে কলম্বিয়ার আরিয়াস হলুদ কার্ড দেখেন। তিন মিনিট পর কলম্বিয়ার কুয়াদরাদো হলুদ কার্ড দেখেন।

আর্জেন্টিনার শক্ত ডিফেন্স চিড়ে কলম্বিয়া প্রতিপক্ষের ডি-বক্সে চাপ সৃষ্টি করতে ব্যর্থ হয়েছে। ম্যাচের প্রথমার্ধ শেষে দুই দল গোলশূন্য অবস্থায় বিরতিতে যায়।

কোপা আমেরিকার আসরে এ ম্যাচের আগে মোট ১২বার মুখোমুখি হয়েছিল কলম্বিয়া আর আর্জেন্টিনা। সাতবার জয় পেয়েছিল আর্জেন্টাইনরা। দুইবার জয় পায় কলম্বিয়ানরা আর বাকী তিনটি ম্যাচ ড্র হয়।

বিরতির পর আবারো উত্তেজনা ছড়ায় ম্যাচে। দুই দলই প্রতিপক্ষের ডিফেন্সকে ব্যস্ত রাখে। অতিরিক্ত আক্রমণাত্মক হয়ে উঠা দুই দলের ফুটবলারদের মাঠের উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে সাইডলাইনে বসে থাকা ফুটবলার আর কোচিং স্টাফদের মাঝেও।

৬১ মিনিটের মাথায় মেসির নেওয়া কোনাকুনি ফ্রি-কিক গোলবারের উপর দিয়ে চলে যায়। ৬৭ মিনিটের মাথায় কলম্বিয়া একটি সংঘবদ্ধ আক্রমণ চালায় আর্জেন্টাইন শিবিরে। কুয়াদরাদোর বাড়ানো বলে শট নেন রদ্রিগেজ, ডিফেন্সে বাধা পেয়ে বল ফিরে এলে তাতে শট নেন ইবারবো। কিন্তু তাতেও গোলের দেখা পায় নি গত বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালিস্টরা।

৭২ মিনিটে আগুয়েরোর বাড়ানো বল নিয়ে কলম্বিয়ার বক্সে অনেকটা একাই ঢুকে পড়েন মেসি। তবে, দুই ডিফেন্ডারের বাধায় বলের নিয়ন্ত্রণ হারান বার্সেলোনার সেরা তারকা। পরের মিনিটে আগুয়েরোকে তুলে নিয়ে মার্টিনো বদলি হিসেবে মাঠে নামান কার্লোস তেভেজকে। আর জ্যাকসনের বদলি হিসেবে হোসে পেকারম্যান মাঠে নামান রাদামেল ফ্যালকাওকে।

৭৭ মিনিটে পাস্তোরের বদলি হিসেবে আর্জেন্টাইনদের দলে যোগ দেন এভার বানেগা। নেমেই তার ২৫ গজ দূর থেকে নেওয়া একটি শট কলম্বিয়ার গোলবার ছুঁয়ে যায়। দুই মিনিট পর ডি মারিয়ার বাঁকানো কর্নার শটে অতামেন্ডি শট নিলে অসপিনার হাতে লেগে গোলবারে বাধা পায়।

৮৬ মিনিটের মাথায় কলম্বিয়ার অধিনায়ক ফ্যালকাওকে হলুদ কার্ড দেখান রেফারি। ৮৮ মিনিটে আবারো গোলের দারুণ সুযোগ নষ্ট করে আর্জেন্টিনা। প্রায় মধ্যমাঠ থেকে পাওয়া বল নিয়ে কলম্বিয়ার বক্সে প্রবেশ করেন তেভেজ। অসপিনা আর একজন ডিফেন্ডারকে ফাঁকি দিলেও গড়িয়ে যাওয়া বলে শেষ মুহূর্তে পা লাগিয়ে দলকে আরেকটি নিশ্চিত গোলের মুখ থেকে রক্ষা করেন জাপাতা। ৯০ মিনিটে হলুদ কার্ড দেখেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক মেসি।

ম্যাচের বাকী সময়েও কোনো গোল না হলে টুর্নামেন্টের নিয়ম অনুযায়ী সরাসরি পেনাল্টি শুটআউটে গড়ায় ম্যাচটি।

কলম্বিয়ার হয়ে প্রথম শট নেন রদ্রিগেজ। জালে বল জড়াতে সক্ষম হন তিনি। আর্জেন্টাইনদের হয়ে প্রথম শট থেকে গোল করেন দলপতি মেসি।

পরের শটে আর্জেন্টাইন গোলরক্ষককে পরাস্ত করে গোল করেন ফ্যালকাও। আর্জেন্টিনার দ্বিতীয় শট থেকে গোল করেন ইজিকুয়েল গ্যারে।

তৃতীয় শটে কলম্বিয়াকে এগিয়ে নেন কুয়াদরাদো। আর আর্জেন্টাইনদের হয়ে গোল করে সমতা আনেন বানেগা।

চতুর্থ শট থেকে কলম্বিয়ানদের কাঁদিয়ে গোলবারের উপর দিয়ে বল পাঠিয়ে দেন মুরিয়েল। আর চতুর্থ শটে আর্জেন্টিনার হয়ে গোল করেন লাভেজ্জি।

পঞ্চম শটে গোল করেন কলম্বিয়ার কারদোনা। আর নিজেদের পঞ্চম শটে গোল করতে ব্যর্থ হন বিগলিয়া।

ষষ্ঠ শটে কলম্বিয়ার জুনিগার শট রুখে দেন আর্জেন্টাইন গোলরক্ষক রোমেরো। আর নিজেদের শট মিস করেন মার্কোস রোহো।

সপ্তম শটে গোল করতে ব্যর্থ হন মুরিলো। আর তেভেজের পেনাল্টি থেকে গোল হলে সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে আর্জেন্টিনা।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.