ক্রীড়া প্রতিবেদক | ০৮ জুন, ২০১৮
ভারতের দেরাদুনে আফগানিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশ সিরিজ হেরে বসেছিলো আগের ম্যাচেই। সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টি-টোয়েন্টিতেও ১ রানে হেরে হতে হয়েছে হোয়াইটওয়াশ।
তবে লজ্জা এড়ানোর এই ম্যাচে জয়ের প্রান্তে ছিল বাংলাদেশ। শেষ বলে বাংলাদেশের জয়ের জন্য চার রান দরকার ছিল। আরিফুল হক দারুণ শটও তুলেছিল। কিন্তু সীমানায় পা লেগেছে কিনা তা নিয়ে কিছুটা সংশয় থেকেই গেলো। ওই চার হলে অবশ্য জিতে যেত বাংলাদেশ। কিন্তু সিদ্ধান্ত গেল দারুণ ফিল্ডিং করা লং অনে ফিল্ডিং করা শফিকুল্লাহর পক্ষে। সে বল থেকে দ ‘রান নেবার পরে রান আউট হলে গেলেন আরিফুল। বাংলাদেশ হেরে গেল মাত্র ১ রানে।
আফগানদের দেওয়া ১৪৬ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ম্যাচের মতো সিরিজের শেষ ম্যাচেও শুরুতে আউট হয়ে ফিরে গেছেন তামিম ইকবাল। মুজিব উর রহমানের বলে আউট হওয়ার আগে করতে পেরেছেন মাত্র ৫ রান। দলীয় ১৬ রানের মাথায় ২.৪ ওভারে আউট হন তিনি।
তার পরে ব্যাটে নামেন সৌম্য সরকার। তিনি এক চার এবং এক ছয়ে ভালোর ইঙ্গিত দেন। কিন্তু রান আউনে কাটা পড়ে ফেরেন ১৩ বলে ১৫ রান করে। মুশফিক ব্যাটে আসার পরপরই সৌম্য যেভাবে আউট হন ঠিক একই রকমভাবে রান আউট হন লিটন দাস। তিনি করেন ১৪ বলে ১২ রান।
১০ রানের বেশি ভূমিকা রাখতে পারেননি অধিনায়ক সাকিবও । তাকে তালুবন্দি করান করিম জানাত। ৪ উইকেট হারিয়ে দিশাহীন হয়ে পড়েছিল বাংলাদেশের ইনিংস। তাদের কূলের কাছে পৌঁছে দেয় মুশফিক ও মাহমুদউল্লাহর মারকুটে জুটি।
এর আগে আফগানিস্তানের সংগ্রহ ছিল ৬ উইকেটে ১৪৫ রান। দুই ম্যাচ হেরে সিরিজ হার নিশ্চিত হয়ে গেছে আগেই। তাই হোয়াইটওয়াশ এড়াতে তিন পরিবর্তন আনে বাংলাদেশ। সাব্বির, মোসাদ্দেক ও রুবেলকে বাদ দিয়ে দলে ভেড়ানো হয়েছিল মিরাজ, আবু জায়েদ ও আরিফুলকে। তাতেও আফগানদের আটকে রাখতে পারেনি। প্রমাণটা মেলে মিরাজের প্রথম ওভারেই। এই ম্যাচে ডাক পাওয়া মিরাজ ঘূর্ণি ভেলকি দেখাতে পারেনি। ফলে সেটা হয়ে পড়ে খুবই ব্যয়বহুল। আসে ১৮ রান!
উল্টো দিকে শুরুটা ভালো ছিল আফগানিস্তান। রাজীব গান্ধী স্টেডিয়ামে দেখে শুনে খেলতে থাকেন দুই ওপেনার মোহাম্মদ শাহজাদ ও উসমান গনি। উদ্বোধনী জুটিতেই আসে ৫৫ রান। অষ্টম ওভারে স্বস্তি ফেরান নাজমুল ইসলাম। লেগ বিফোরের ফাঁদে পড়ে বিদায় নেন শাহজাদ। বিদায় নেন ২৬ রানে।
পরের ওভারে ফিরে যান আরেক ওপেনার ওসমান গনি। ১৯ রানে ব্যাট করতে থাকা এই ব্যাটসম্যানকে বুক সমান উঁচু শর্ট বল দিয়েছিলেন আবু জায়েদ। হুক করার চেষ্টা করেছিলেন তার বলে। বল গিয়ে জমা পড়ে মুশফিকের হাতে। তাতেও থামেনি রানের চাকা। অপরপ্রান্ত ধরে আগ্রাসী ভঙ্গিতে খেলতে থাকেন অধিনায়ক আজগর স্ট্যানিকজাই। ১৭ বলে ৩ ছক্কায় করে ফেলেছিলেন ২৭ রান।
হুমকি হয়ে দাঁড়ানো আফগান অধিনায়ককে আর থিতু হতে দেননি আজকে জায়গা পাওয়া আরিফুল হক। ১৩তম ওভারে তাকে সাব্বিরের তালুবন্দি করান আরিফুল। আফগানদের রানের গতি আটকাতে ১৫তম ওভারে ফের আঘাত হেনেছিলেন আবু জায়েদ। মোহাম্মদ নবিকে ফেরান