স্পোর্টস ডেস্ক | ১৩ জুন, ২০১৮
বিশ্বকাপ জয়ে ১৪.৪ ইঞ্চি উচ্চতার, ৫ কেজি ওজনের ট্রফিই শেষকথা নয়; বিশ্বচ্যাম্পিয়ন সহ অংশগ্রহণকারী দলগুলোর জন্যে রয়েছে বিপুল অর্থ প্রাপ্তির সুযোগ।
২০১৪ ব্রাজিল বিশ্বকাপের তুলনায় রাশিয়া বিশ্বকাপে প্রাইজমানি বেড়েছে। আগেরবার প্রাইজমানি ছিল ৩৫৮ মিলিয়ন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩ হাজার ১৮ কোটি টাকা)। রাশিয়া বিশ্বকাপে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪০০ মিলিয়ন ডলারে (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩ হাজার ৩৭২ কোটি টাকা)। পুরোটাই পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে ভাগ করে দেয়া হবে চ্যাম্পিয়ন-রানার্সআপসহ বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী দলগুলোর মধ্যে।
বিশ্বকাপে যে ৩২টি দল অংশ নিচ্ছে, তাদের প্রত্যেকের প্রাইজমানি নিশ্চিত। কেউ বিশ্বকাপ জিততে পারুক আর না পারুক, পুরস্কারের অর্থ থাকছেই প্রতিটি দলের জন্য। বিশ্বকাপের চূড়ান্তপর্ব নিশ্চিত করা প্রতিটি দলের জন্যই নিশ্চিত হয়ে যায় আট মিলিয়ন ডলার করে প্রাইজমানি। প্রতিটি দল ফিফার পক্ষ থেকে টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণের খরচ বাবদ আরও দেড় মিলিয়ন ডলার (১২ কোটি ৬৪ লাখ টাকা) করে পাবে। যেটাকে প্রাইজমানির মধ্যে গণ্য করা হয় না।
গ্রুপপর্বে অংশগ্রহণকারীদের জন্য আট মিলিয়ন ডলার (প্রায় ৬৭ কোটি ৪৪ লাখ টাকা) করে বরাদ্দ। তবে এই অর্থ ৩২ দলের সবাই নয়, পাবে ১৬টি দল। কারণ, তারা গ্রুপপর্ব থেকেই বিদায় নেবে। দ্বিতীয় রাউন্ডে যারা উঠবে, তাদের জন্য নির্ধারিত আট মিলিয়ন ডলারের সঙ্গে যোগ হবে আরও চার মিলিয়ন ডলার। দ্বিতীয় রাউন্ড নিশ্চিত হলেই ১২ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ১০১ কোটি ১৬ হাজার টাকা) নিশ্চিত। এই অর্থ পাবে দ্বিতীয় রাউন্ড থেকে বিদায় নেয়া আট দল।
কোয়ার্টার ফাইনালে উঠবে যে আটটি দল, তাদের সবার জন্য নিশ্চিত আরও চার মিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ, ১৬ মিলিয়ন ডলার। এই ১৬ মিলিয়ন ডলার করে পাবে মাত্র ৪টি দল। অর্থাৎ কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে যারা বিদায় নেবে, তাদের জন্য বরাদ্দ ১৬ মিলিয়ন ডলার (১৩৪ কোটি ৮৮ লাখ টাকা) করে।
সেমিফাইনালে এসে প্রাইজমানির অর্থের তারতম্য ঘটবে। সেমিফাইনালে যে দুই দল হেরে যাবে, তাদের মধ্যে ভাগ করা হবে ৪৬ মিলিয়ন ডলার। যদিও সমানভাগে নয়। কারণ তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে যে দল হেরে চতুর্থ হবে, তারা পাবে ২২ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ১৮৫ কোটি ৮৬ লাখ টাকা)। তৃতীয় স্থান অধিকারী দল পাবে ২৪ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ২০২ কোটি ৩২ লাখ টাকা)।
বিশ্বকাপের ফাইনালে খেলবে যে দুটি দল, তাদের জন্য বরাদ্দ থাকছে ৬৬ মিলিয়ন ডলার। মস্কোর লুঝনিকি স্টেডিয়ামে যে দলটির হাতে উঠবে সোনালি ট্রফিটা, তাদের জন্য বরাদ্দ ৩৮ মিলিয়ন ডলার (৩২০ কোটি ৩৪ লাখ টাকা)। আর পরাজিত দল পাবে ২৮ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ২৩৬ কোটি ৪ লাখ টাকা)।
২০১৪ বিশ্বকাপে বিজয়ী দল পেয়েছিল ৩৫ মিলিয়ন ডলার। এবার পাবে ৩৮ মিলিয়ন ডলার। আগের বারের তুলনায় বেড়েছে তিন মিলিয়ন ডলার প্রাইজমানি।
এখানেই শেষ নয়। ফিফার ক্লাব বেনিফিট প্রোগ্রামের আওতায় যেসব ক্লাব থেকে খেলোয়াড় বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করবেন, তাদের দেয়া হবে মোট ২০৯ মিলিয়ন ডলার অর্থাৎ বাংলাদেশি মুদ্রায় ১ হাজার ৭৬১ কোটি টাকা। আর ক্লাব প্রোটেকশন প্রোগ্রাম অর্থাৎ, বিশ্বকাপে ক্লাব খেলোয়াড়দের ইনজুরি ভাতা হিসেবে ক্লাবগুলো পাবে আরও ১৩৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বা ১ হাজার ১২৯ কোটি টাকা।
এছাড়াও আনুষঙ্গিক আরও খরচ মিলিয়ে ফিফা সর্বমোট ৭৯১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বা ৬ হাজার ৪১৫ কোটি টাকা খরচ করতে যাচ্ছে এবারের রাশিয়া বিশ্বকাপে, যা ২০১৪ ব্রাজিল বিশ্বকাপের তুলনায় ৪০ শতাংশ বেশি।