ক্রীড়া প্রতিবেদক | ২২ জুন, ২০১৮
ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে অগোছালো আর দুর্বল রক্ষণের খেসারত দিয়ে ৩-০ গোলের পরাজয় নিয়ে মাঠ ছাড়লো আর্জেন্টিনা। এই জয়ে নকআউট পর্ব নিশ্চিত হলো ক্রোয়েশিয়ার। অন্যদিকে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেওয়ার শঙ্কা উঁকি দিচ্ছে মেসিদের।
বৃহস্পতিবার দিনের শেষ ম্যাচের ৫৩ মিনিটে আন্দ্রে রেবিকের শটে এবং আর্জেন্টিনা গোলরক্ষক ক্যবায়েরোর ভুলে প্রথম গোল খেয়ে বসে আর্জেন্টিনা।
এরপর ম্যাচের ৮০ মিনিটের মাথায় গোল করে দলকে ২-০ গোলের লিড এনে দেন ক্রোয়েশিয়ার গোল্ডেন জেনারেশনের বড় তারকা লুকা মদ্রিচ। ম্যাচের ৯০ মিনিটে ব্যবধান ৩-০ করেন রাকিটিচ। প্রথম ম্যাচে জয়ের পর দ্বিতীয় ম্যাচে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ৩-০ গোলে হারায় ক্রোয়েশিয়া।
আর্জেন্টিনা ও ক্রোয়েশিয়া বিশ্বকাপের আগে সর্বশেষ ২০১৪ সালে মুখোমুখি হয়েছিল। সেবার জিতেছিল আর্জেন্টিনা। কিন্তু সেই ফলাফলের পুনরাবৃত্তি যে ২০১৮ সালের বিশ্বকাপে হবে না তা কি ভেবেছিলেন হোর্হে সাম্পাওলির শিষ্যরা? নিজনি নভগোরোদে এদিন গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ক্রোয়েশিয়ার মুখোমুখি হয়েছিল গত বিশ্বকাপের ফাইনালিস্ট দলটি। শেষ ষোলর আশা বাঁচিয়ে রাখতে জয়ের বিকল্প নেই। তবে এমন ম্যাচেই আর্জেন্টিনা ৩-০ গোলে হেরে গেছে ক্রোয়েশিয়ার কাছে।
এই জয়ে দলটি নিশ্চিত করেছে শেষ ষোল। ১৯৯৮ সালে নিজেদের প্রথম বিশ্বকাপের পর এবারই প্রথম গ্রুপপর্বের বাধা পেরিয়েছে ক্রোয়েশিয়া। ১৯৫৮ সালের বিশ্বকাপের পর গ্রুপপর্বে এটাই আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় হার।
নবাগত আইসল্যান্ডের বিপক্ষে ১-১ গোলের ড্রয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করে আর্জেন্টিনা। ফলে দ্বিতীয় রাউন্ডে উঠতে হলে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে জয় ভিন্ন কোনো বিকল্প পথ খোলা ছিল না তাদের।
এমন সমীকরণ নিয়ে নিঝনি নভোগরদ স্টেডিয়ামে শুরুটা আক্রমণাত্মক করে আর্জেন্টিনা। সূচনালগ্ন থেকেই নিজেদের দখলে বল রেখে একের পর এক আক্রমণ ওঠেন মেসিরা। বেশ কয়েকটি ভালো সুযোগ পান তারা। সবচেয়ে বড় সুযোগ পান ৩০ মিনিটে। তবে ফাঁকায় বল পেলেও জালে জড়াতে পারেননি এনজো পেরেজ।
মিনিট তিনেক পর কাউন্টার অ্যাটাকে দারুণ সুযোগ তৈরি করে ক্রোয়েশিয়া। কিন্তু মারিও মানজুকিচের ব্যর্থতায় সাফল্যের মুখ দেখেনি দলটি। ক্রোয়াটরা সবচেয়ে বড় সুযোগ পায় বিরতির খানিক আগে। গোলরক্ষককে একা পেয়েও ঠিকানায় বল পাঠাতে পারেননি রেবিক। বিরতির পর যেন দায়ই শোধ করেন তিনি। ৫৩ মিনিটে নিশানাভেদ করে ক্রোয়েশিয়াকে লিড এনে দেন রেবিক।
অবশ্য এর খানিক আগেই সুবর্ণ সুযোগ পায় আর্জেন্টিনা। নিকোলাস তাগলিয়াফিকোর অ্যাসিস্ট পান সার্জিও আগুয়েরো। আরামসে মিস করেন তিনি।
পিছিয়ে পড়ে সর্বশক্তি মাঠে নিয়োগ করেন হোর্হে সাম্পাওলি। আগুয়েরোকে উঠিয়ে গঞ্জালো হিগুয়েইনকে নামান তিনি। আর এনজো পেরেজকে তুলে নামান পাওলো দিবালাকে। এতে আর্জেন্টিনার আক্রমণের গতি বাড়ে। মুহুমুহু আক্রমণে ওঠে তারা।
পরে তাই কাল হয়ে দাঁড়ায় আর্জেন্টিনার। গোল খেয়ে অতিরিক্ত আক্রমণের খেসারত গুনতে হয় তাদের। ৮০ মিনিটে বল ঠিকানায় পাঠান রিয়াল মাদ্রিদ মিডফিল্ডার লুকা মদ্রিচ। আর ইনজুরি টাইমের প্রথম মিনিটে লক্ষ্যভেদ করে শেষ পেরেকটি ঠুকেন মেসির বার্সা সতীর্থ ইভান রাকিটিচ। শেষ পর্যন্ত ৩-০ গোলের হারে মাঠ ছাড়তে হয় আলবিসেলেস্তেদের।