Sylhet Today 24 PRINT

নেইমার-কৌতিনিয়োর গোলে দ্বিতীয় রাউন্ডের পথে ব্রাজিল

স্পোর্টস ডেস্ক |  ২২ জুন, ২০১৮

ব্রাজিলের একের পর এক আক্রমণ, বিপরীতে কোস্টারিকার প্রতিরোধের দেয়াল, সঙ্গে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারির (ভিএআর) সিদ্ধান্তে ব্রাজিলের পেনাল্টি বাতিল- সেন্ট পিটার্সবার্গের উত্তেজনা ছড়ানো ম্যাচে সবকিছুরই দেখার মধ্যেই নেইমার ও কৌতিনিয়োর জোড়া গোলে জয়লাভ করে দ্বিতীয় রাউন্ডের পথে ব্রাজিল।

প্রথমার্ধ থেকেই দাপট দেখিয়ে খেলেছে টুর্নামেন্টের হট ফেভারিট ব্রাজিল। কেবল গোলটাই পাচ্ছিল না। ম্যাচের তৃতীয় মিনিটে কৌতিনয়োর দূরপাল্লার শট বক্সের অনেক উপর দিয়ে চলে যায়।

১৩ মিনিটে বড় একটি সুযোগ পেয়েছিল কোস্টারিকাও। ডানপাশ থেকে ক্রিশ্চিয়ান গ্যাম্বোয়া দারুণভাবে বলটা বাড়িয়ে দিয়েছিলেন বক্সের মধ্যে দৌঁড়ে যাওয়া ইয়োহান ভেনেগাসের কাছে, তার শট গোলপোস্টের বাম পাশ ঘেঁষে বেরিয়ে যায়।

২৫ মিনিটে ডানপ্রান্ত দিয়ে দৌড়ে বল নিয়ে যান মার্সেলো, দেন নেইমারকে। নেইমার বক্সের মধ্যে থাকা গ্যাব্রিয়েল হেসুসের কাছে বল দিলে সেটা জালে জড়াতে ভুল করেননি ব্রাজিলিয়ান স্ট্রাইকার। তবে সেটা অফসাইডের কারণে বাতিল করে দেন রেফারি।

২৮ মিনিটে বল নিয়ে বক্সের মধ্যে ঢুকে গিয়েছিলেন নেইমার। কোস্টারিকা গোলরক্ষক কেইলর নাভাস এগিয়ে এসে কোনোমতে সেটা ফিরিয়ে দেন। পরের মিনিটে আরও দুটি আক্রমণ করে ব্রাজিল। বাঁ প্রান্তে বক্সের বাইরে থেকে মার্সেলোর দূরপাল্লার শট একটুর জন্য পোস্টের ডানপাশ দিয়ে বেরিয়ে যায়। ২৯ মিনিটে কৌতিনয়ো আরেকটি শট নেন একই জায়গা থেকে, সেটাও পোস্টের একটু উপর দিয়ে চলে যায়।

৩২ মিনিটে আরও একবার বল নিয়ে বক্সে ঢুকে যান নেইমার, পাস দিয়েছিলেন হেসুসকে। তিনি সেটায় মাথা ছুঁয়াতে পারেননি, প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডার ব্রায়ান অভিয়েদো বল ক্লিয়ার করেন। অফসাইডও ডাকেন রেফারি।

৪০ মিনিটে একাই বল নিয়ে বক্সের বাইরে বাঁ দিক থেকে শট নিয়েছিলেন মার্সেলো, নাভাসের সেটা ধরতে কষ্ট হয়নি। ৪৩ মিনিটে ব্রাজিলের আরেকটি সংঘবদ্ধ আক্রমণ রুখে দেয় কোস্টারিকা। ফলে গোলশূন্য সমতা নিয়েই প্রথমার্ধ শেষ করে দুই দল।

দ্বিতীয়ার্ধে ৪৮ মিনিটে নিশ্চিত একটি গোলের সুযোগ নষ্ট করে ব্রাজিল। পাওলিনহোর ক্রসে আরেকটি সংঘবদ্ধ আক্রমণে গোলমুখে জটলা পাকিয়েও সাফল্য পায়নি সেলেসাওরা। ৪৯ মিনিটে একইরকম আক্রমণে আরও একবার হতাশ হতে হয় তাদের। ফ্যাগনারের ক্রস থেকে বল পেয়ে হেসুসের শট গোলবারে লেগে ফেরত আসে।

৫৬ মিনিটে পাওলিনহোর ক্রস থেকে বক্সের মধ্যে নেইমারের শট আঙুলের ডগা দিয়ে ফিরিয়ে দেন নাভাস। পরের মিনিটে পাওলিনহোর কাছ থেকেই বল পেয়েই সরাসরি রিয়াল গোলরক্ষকের হাতে মেরে দেন কৌতিনহো।

৭০ মিনিটে নেইমারের কর্নার থেকে কাসিমিরো দারুণ একটি হেড নিয়েছিলেন। কিন্তু সেটা দক্ষতার সঙ্গে ধরে ফেলেন নাভাস। মিনিট দুয়েক পর কোস্টারিকা ডিফেন্ডারের ভুলে বল পেয়ে গিয়েছিলেন নেইমার। তবে পিএসজি তারকা বলটা আরও একটু ভেতরে না নিয়ে বক্সের বাইরে থেকেই শট মেরে দেন, যদিও সেটা একটুর জন্য জাল পায়নি।

৭৭ মিনিটে বলতে গেলে একাই মাঝমাঠ থেকে বল নিয়ে কোস্টারিকার বক্সে ঢুকে পড়েন নেইমার। কিন্তু ফাঁকা পেয়েও শটটা নিতে পারেননি। প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডারের আলতো ছোঁয়ায় বক্সের মধ্যেই পড়ে যান নেইমার। ভিএআরে দেখা যায় এটা ফাউল হয়নি।

গোল পেতে এরপর আক্রমণ চালিয়েই গেছে ব্রাজিল। ৮৫ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে কৌতিনহোর শট ধরে ফেলেন নাভাস। একই মিনিটে কাসিমিরো, হেসুস আর নেইমারের সমন্বিত আরেকটি আক্রমণ ডিফেন্সে আটকে গেলে গড়িয়ে যাওয়া বল শুয়ে ধরে ফেলেন কোস্টারিকা গোলরক্ষক।

নির্ধারিত সময় শেষে তখন শুরু হয়েছে ইনজুরি টাইমের খেলা। মার্সেলোর ক্রস রবের্তো ফিরমিনোর হেড হয়ে আসে গ্যাব্রিয়েল জেসুসের কাছে। ম্যানচেস্টার সিটি স্ট্রাইকার বলটা ঠিকমতো নিয়ন্ত্রণে নিতে পারেননি। সেটা অবশ্য ব্রাজিলের জন্য আশীর্বাদ হয়েই আসে। তার বাজে নিয়ন্ত্রণের কারণেই দ্রুতগতিতে এগিয়ে এসে বলটি পায়ের উপরের দিকের অংশের শটে জালে জড়িয়ে দেন কৌতিনিয়ো।

কেইলর নাভাসের দেয়াল ভেঙে উল্লাসে মাতা ব্রাজিল শেষ বাঁশি বাজার আগমুহূর্তে আবারও করে গোলোৎসব। এবার স্কোরশিটে নাম তোলেন নেইমার। দগলাস কোস্তার ক্রস ছোট বক্সের সামনে থেকে পা পায়ের টোকায় ব্যবধান দ্বিগুণ করেন পিএসজি ফরোয়ার্ড। শেষ পর্যন্ত ২-০ গোলের জয়ে ৩ পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছাড়ে তারা। সব মিলিয়ে দুই ম্যাচে সেলেসাওদের পয়েন্ট গিয়ে দাঁড়ালো ৪-এ। আর টানা দুই ম্যাচ হারা কোস্টারিকার পয়েন্টের ঘরটা ফাঁকাই থাকলো।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.