ক্রীড়া প্রতিবেদক | ৩০ জুন, ২০১৮
বিশ্বকাপের শেষ ষোলর প্রথম ম্যাচে আর্জেন্টিনাকে ৪-৩ গোলে গোলে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে ফ্রান্স। ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি সবসময় একইভাবে হয় না। উল্টো ভাবেও ফিরে আসে তা। এবার ইতিহাস উল্টোভাবে ফিরে আসল আর্জেন্টিনা-ফ্রান্স ম্যাচে। বিশ্বকাপে এই প্রথমবারের মতো আর্জেন্টিনার বিপক্ষে জয় পেল ফ্রান্স। ফরাসিদের হয়ে জোড়া গোল করেছেন কিলিয়ান এবমাপে। এছাড়া একটি করে গোল করেছেন আতোয়াঁ গ্রিজমান ও বেঞ্জামিন পাভার্ড। অন্যদিকে আর্জেন্টিনার হয়ে গোল তিনটি করেছেন ডি মারিয়া, গ্যাব্রিয়েল মারকাদো ও সার্জিও আগুয়েরো।
শুরু থেকে আর্জেন্টিনাকে চেপে ধরে ফ্রান্স। ৯ মিনিটে প্রথম সুযোগ পেয়েছিল তারা। আন্তোয়ান গ্রিয়েজমানের দুর্দান্ত ফ্রি কিক লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়নি গোলবারে বল আঘাত করলে। ২ মিনিট পর মার্কোস রোহোর অযথা ফাউলে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পায় ফ্রান্স। নাইজেরিয়ার বিপক্ষে জয়সূচক গোল করা এই ডিফেন্ডার নিজেদের ডিবক্সে ফাউল করেন কিলিয়ান এমবাপেকে। পেনাল্টির বাঁশি বাজাতে দ্বিতীয়বার চিন্তা করতে হয়নি রেফারিকে। ১৩ মিনিটে স্পট কিক থেকে ফ্রান্সকে এগিয়ে দেন গ্রিয়েজমান।
ওই ফাউলের ধাক্কা সামলাতে না সামলাতে আবার বিপজ্জনক জায়গায় ফ্রান্সকে ফ্রি কিক দেয় আর্জেন্টিনা। ১৯ মিনিটে এমবাপেকে ডিবক্সের ঠিক বাইরে ফেলে দেন তাগলিয়াফিকো। পগবা অবশ্য লক্ষ্যভেদ করতে পারেননি ফ্রি কিক থেকে।
২৮ মিনিটে একটু সুযোগ তৈরি করতে পেরেছিল আর্জেন্টিনা। কিন্তু ফরাসি রক্ষণে বাধা পায় তাদের চেষ্টা। পাভনের পাসে ডানপ্রান্তে বল পেলে ডিবক্সের মধ্যে থেকে বল গোলমুখের সামনে দেন মেরকাদো। বল উমতিতির হাতে লাগলে এই ফুলব্যাকের পেনাল্টির আবেদনে সাড়া দেননি রেফারি।
আর্জেন্টিনাকে হতাশ করে আরেকবার জালে ঢুকল বলতবে বিরতির ৪ মিনিট আগে চমৎকার এক গোলে আর্জেন্টিনাকে সমতা ফেরান আনহেল দি মারিয়া। ৪১ মিনিটে কর্নার থেকে ওয়ান-টু পাসে এভার বানেগার দারুণ ক্রসে বল পায়ে পান তিনি। ৩৫ গজ দূর থেকে তার বাঁ পায়ের শট ঠেকাতে পারেননি ফরাসি গোলরক্ষক হুগো লরিস। ১৯৮৬ সালের পর প্রথমবার বিশ্বকাপে বক্সের বাইরে থেকে গোল খায় ফ্রান্স। ১-১ এ বিরতিতে যায় দুই দল।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই গোল উদযাপন করে আর্জেন্টিনা। ৪৮ মিনিটে ব্যাকপোস্ট থেকে লিওনেল মেসির শক্তিশালী শট মেরকাদোর পায়ে লেগে জালে জড়ায়। ২-১ গোলের লিড বেশিক্ষণ ধরে রাখতে পারেনি দুইবারের সাবেক চ্যাম্পিয়নরা।
৫৭ মিনিটে বাঁ প্রান্ত থেকে লুকাস হার্নান্দেসের ক্রস পেয়ে প্রথম শটেই সমতা ফেরান বেনজামিন পাভার্ড। তার হাফভলি কোনাকুনি শটে জালে জড়ায়। ৬৪ মিনিটে আর্জেন্টিনার ডিবক্সের মধ্যে এলোমেলো রক্ষণভাগের সুযোগে বল পান এমবাপে। বাঁপায়ের মাটি কামড়ানো শটে আরমানিকে পরাস্ত করে ফ্রান্সকে এগিয়ে দেন তিনি। পিএসজি স্ট্রাইকার তিন মিনিট পরই পান নিজের দ্বিতীয় গোল। অলিভার জিরুদের পাস থেকে ডানপ্রান্ত থেকে ৬৮ মিনিটে দ্বিতীয়বার লক্ষ্যভেদ করেন এমবাপে।
ম্যাচের অতিরিক্ত সময়ে (৯৩ মিনিটে) আর্জেন্টিনার হয়ে ব্যবধান কমানো গোল করেন সের্জিও আগুয়েরো। কিন্তু ততোক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গেছে। বাকি সময়ে আর কোন গোল না হওয়ায় ৪-৩ গোলের ব্যবধানে হেরে বিদায় নিলো আর্জেন্টিনা।