স্পোর্টস ডেস্ক | ০১ জুলাই, ২০১৮
নাইজেরিয়া-আর্জেন্টিনা ম্যাচে অশালীন অঙ্গভঙ্গি করে আরেক বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন ম্যারাডোনা। এ ঘটনায় ফিফার কাছ থেকে সতর্কবার্তাও পেয়েছেন তিনি। তাই আজ ফ্রান্স-আর্জেন্টিনা ম্যাচে নিজেকে সংযত রেখে খেলা দেখতে হবে ডিয়েগো ম্যারাডোনাকে।
ম্যাচ তখন ৮৬ মিনিটে গড়িয়েছে, নাইজেরিয়ার বিপক্ষে জয়সূচক গোলটি করে ‘কোমায়’ চলে যাওয়া আর্জেন্টাইনদের জেগে ওঠার সুযোগ দিয়েছেন মার্কোস রোহো। এই সোনালি মুহূর্তে নিজেকে আর আটকে রাখতে পারলেন না ডিয়েগো ম্যারাডোনা। আনন্দ আর উত্তেজনায় গ্যালারির দিকে অশালীন অঙ্গভঙ্গি করে আরেক বিতর্কের জন্ম দিলেন আর্জেন্টিনা কিংবদন্তি। এ ঘটনায় অনেক সমালোচনা হওয়ায় ফিফার নির্দেশে আজ নিজেকে সংযত রেখেই খেলা দেখতে হবে ম্যারাডোনাকে।
আর্জেন্টিনার ফুটবল আর ম্যারাডোনা যেন একসুতোয় গাথা। বিশ্ব ফুটবলে আর্জেন্টিনার নাম যতবার উচ্চারিত হবে, ঠিক ততবার ম্যারাডোনাকেও মনে করতে হবে। ১৯৮৬ সালে আর্জেন্টিনা যে বিশ্বকাপ জিতেছিল, সেটি অনেকটা ম্যারাডোনার জাদুতেই। ছিয়াশির বিশ্বকাপই তাঁকে নিয়ে গেছে অন্য উচ্চতায়। কিন্তু নিজের মর্যাদা ধরে রাখা নিয়ে তিনি যেন বরাবরই উদাসীন। তাঁকে নিয়ে কে কী ভাবল, এ নিয়ে চিন্তা করতে যেন বয়েই গেছে আর্জেন্টাইন কিংবদন্তির!
নইলে নাইজেরিয়া-আর্জেন্টিনার ম্যাচে রোহোর গোলের পর আপত্তিকর অঙ্গভঙ্গি করবেন কেন? ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে কিছু তোয়াক্কা না করতে পারেন। যেহেতু ফিফার শুভেচ্ছাদূত হিসেবে এই বিশ্বকাপে মাঠে এসেছেন, কিছু নিয়মনীতি তো তাঁকে মানতেই হবে। আজ ফ্রান্স-আর্জেন্টিনা ম্যাচের আগে ম্যারাডোনাকে তাই সতর্ক করে দিয়েছে ফিফা। এমন কিছু করা যাবে না, যেটি দৃষ্টিকটু, ফিফার নিয়মবহির্ভূত কিংবা বিতর্কের জন্ম দেয়।
ফিফার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কলিন স্মিথ বলেছেন, ‘বর্তমান খেলোয়াড় থেকে শুরু করে সাবেক খেলোয়াড়, দর্শক—সবার কাছ থেকেই আমরা সম্মানজনক ব্যবহার আশা করি। কিন্তু ম্যারাডোনার এমন অঙ্গভঙ্গি আমাদের সত্যিই হতাশ করেছে। নিঃসন্দেহে ম্যারাডোনা ফুটবল ইতিহাসকে সমৃদ্ধ করতে অনেক অবদান রেখেছেন। কিন্তু তাই বলে মাঠে তাঁর কাছে আমরা এমন কিছু আশা করি না।’
ছিয়াশির বিশ্বকাপজয়ী ম্যারাডোনাকে তাই আজ বেশ সাবধানেই আর্জেন্টিনার খেলা দেখতে হবে। অবশ্য বলতে পারেন, এসব নিয়মের বেড়া ম্যারাডোনাকে কবে আটকাতে পেরেছে!