ক্রীড়া প্রতিবেদক | ০৩ অক্টোবর, ২০১৮
খেলা হচ্ছে ফিলিপাইন আর লাওসের মধ্যে। তবে মাঠে না থাকলেও বুধবারের ম্যাচে ছিলো বাংলাদেশও। লাউস জিতলে শেষ পর্যন্ত অপেক্ষায় থাকতে হবে বাংলাদেশকে। আর ফিলিপরা জিতলে শেষ ম্যাচের আগেই সেমি নিশ্চিটত হয়ে যায় জেমি রেড’র শিষ্যদের।
বাংলাদেশের ‘প্রত্যাশা’ পুরণ করেছে ফিলিপরা। ৩-১ গোলে লাওসকে হারিয়ে বাংলাদেশকে নিয়েই সেমিতে পা রাখলো ফিলিপাইন। আর বঙ্গবন্ধু কাপ থেকে শূন্য হাতেই ফিরতে হলো লাওস। এই ম্যাচের পর শুক্রবারের বাংলাদেশ-ফিলিপাইনের ম্যাচটি এখন কেবল গ্রুপ চ্যাম্পিয়ান হওয়ার লড়াইয়ে পরিণত হলো।
ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে ফিলিপাইনের (১১৪) চেয়ে অনেক পিছিয়ে লাওস (১৭৯)। তবে লাওসকে সাহস জোগাচ্ছিল অতীত ইতিহাস। আগের ১১ লড়াইয়ে লাওস জয় পেয়েছিল ছয়টিতে, ফিলিপাইন তিনটি ম্যাচে জয়ী; বাকি দুটি ম্যাচ ড্র হয়েছিল। তবে এই এগিয়ে থাকার পরিসংখ্যানকে আে সমৃদ্ধ করতে পারেনি লাওস। বেডিক জোবিন, গায়োসো জ্যাভিয়ের অগাস্টি আর বাহাদুরান মিসাগের গোলে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে গেছে তারা। লাওসের জন্য স্বান্তনাসূচক গোলটি করেন ফিটহ্যাক।
বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে মাঠে গড়ায় ফিলিপাইন ও লাওসের ম্যাচটি। বঙ্গবন্ধু কাপের ‘বি’ গ্রুপে এটি দ্বিতীয় এবং গ্রুপপর্বে তৃতীয় ম্যাচ। ম্যাচের চার গোলের তিনটিই আসে প্যানাল্টি থেকে।
ম্যাচের শুরু থেকেই আধিপত্য নিয়ে খেলছিল ফিলিপাইন। মাঝমাঠে বলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই প্রান্ত দিয়ে লাওসের ডিফেন্সের পরীক্ষা নিচ্ছিলেন ফিলিপ ফরোয়ার্ডরা। গোলরক্ষক আর ডিফেন্ডারদের দৃঢ়তায় গোলবঞ্চিত হচ্ছিল প্রথমবারের মতো বঙ্গবন্ধু গোল্ড কাপ খেলতে আসা ফিলিপাইনরা। তাদের অপেক্ষা ফুরায় ম্যাচের ৪৩ মিনিটে। বক্সে বাড়ানো বল ধরে গোলমুখে এগোচ্ছিলেন ফিলিপ ফরোয়ার্ড বেডিক। পা বাড়িয়ে তাকে ফেলে দেন লাওসের কাহার্ন ফেটসিভিলয়। পেনাল্টির সাথে সাথে কাহার্নকে হলুদ কার্ডও দেখান রেফারি। লাওসের গোলরক্ষক পাসেউথ নড়াচড়া করার আগেই জালে জড়ায় বেডিকের স্পটকিক।
ম্যাচের ৫৪ মিনিটে অ্যাঞ্জেলস জেনভারের দারুণ ক্রসে মাথা লাগিয়ে ফিলিপাইনাকে ফের এগিয়ে দেন গায়োসো জ্যাভিয়ের। ৮১ মিনিটে ফের উল্লাসে মাতে ফিলিপাইন। নিজেদের বক্সে বল লাওসের সুকসান সুকসাভাথের হাতে লাগে। রেফারির পেনাল্টির বাঁশি বাজতে দেরি হয়নি। স্পটকিক থেকে ব্যবধান ৩-০ করেন ফিলিপ অধিনায়ক বাহাদুরান মিসাগ।
গোল আরো পেতে পারতো ফিলিপাইন। ম্যাচের ১৪ মিনিটে গোললাইনের ঠিক সামনে থেকে বল ফিরিয়ে দেন লাওসের এক ডিফেন্ডার। ৩৬ মিনিটে বক্সে বলে টোকা দিতে ব্যর্থ হন বেডিক।
ম্যাচের একেবারে শেষ সময়ে ৮৭ মিনিটে লাওসের ফিটহ্যাককে বক্সে ফাউল করেন ফিলিপ মিনেগিশি। পেনাল্টি থেকে ব্যবধান কমান ফিটহ্যাক নিজেই। টুর্নামেন্টে প্রথমবারের মতো গোলের দেখা পায় লাওস।
তবে গোলের আরও কয়েকটি সুযোগ তৈরি করেছিলো লাওস। একবার ফিলিপাইন গোলরক্ষক ক্যাসাস মাইকেল, আর দুবার গোলপোস্ট বঞ্চিত করে। ম্যাচের ৩৯ মিনিটে বক্সের ঠিক বাইরে থেকে ছানথাফুনের জোরালো শট ঝাঁপিয়ে পড়ে ঠেকান ক্যাসাস। ৪৮ মিনিটে বদলি হিসেবে নামা সকচিন্দা নাটফাসুকের হেড ফিলিপাইনের পোস্টে লেগে ফিরে আসে। ম্যাচের যোগ করা সময়ে বদলি হিসেবে নামা কিয়েংথাভেসাকের শট ফিলিপাইনের ডান পোস্টে লাগে।
বৃহস্পতিবার এ গ্রুপের ম্যাচে ফিলিস্তিন ও তাজিকিস্তান পরষ্পরের মুখোমুখি হবে।