Sylhet Today 24 PRINT

দারুণ শুরুর পরও দাঁড়াতে পারেনি বাংলাদেশ

ওয়েলিংটন টেস্ট

স্পোর্টস ডেস্ক |  ১০ মার্চ, ২০১৯

আবারও সেই শর্ট বলে কাবু হয়ে ওয়েলিংটন টেস্টে প্রথম ইনিংসে ২১১ রানে অলআউট বাংলাদেশ।

ওয়েলিংটন টেস্টের প্রথম দুই দিন ভেসে গেছে বৃষ্টিতে। তৃতীয় দিনে খেলা শুরু হলেও হ্যামিল্টনে প্রথম ইনিংসের ভাগ্য পাল্টাতে পারেনি বাংলাদেশ। ভালো শুরুর পরও হতাশার শেষ।

হ্যামিল্টন টেস্টের প্রথম ইনিংসের সঙ্গে ওয়েলিংটনের প্রথম ইনিংসেও এমন মিল রেখে ব্যাট করেছে বাংলাদেশ দল। ওপেনিং জুটিতে ৭৫ রান ওঠার পর বাংলাদেশ গুটিয়ে গেছে ২১১ রানে।

প্রথম দুই দিন বৃষ্টির মধ্যে উইকেট ঢেকে রাখায় তা কিছুটা নরম হবে এবং বোলারদের সাহায্য করবে এমনটাই স্বাভাবিক। কিন্তু সকালের সেশনে দুই ওপেনার তামিম ইকবাল ও সাদমানের ব্যাটিং দেখে তা বোঝা যায়নি। ২১তম ওভার পর্যন্ত টিকেছে তাদের জুটি। সাদমান বরাবরের মতো আজও ভালো শুরু পেয়েও উইকেট কামড়ে পড়ে থাকতে পারেননি। ২৭ রান করে ক্যাচ দিয়ে ফিরেছেন প্রথম স্লিপে। লাঞ্চের আগে নিল ওয়াগনারের হাতে বল তুলে দেন নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক কেন উইলিয়ামস। এরপর থেকেই কাঁপাকাঁপি শুরু।

হ্যামিল্টন টেস্টে শর্ট বল অস্ত্র ব্যবহার করে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের কাবু করেছিলেন ওয়াগনার। সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট শুরুর আগে ট্রেন্ট বোল্টও ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, ওয়েলিংটনে শর্ট বলের পরিমাণ আরও বাড়বে। ওয়াগনার বোলিংয়ে এসেই তা সত্য প্রমাণ করতে শুরু করেন। আর বাংলাদেশের টপ অর্ডার বরাবরের মতোই ওয়াগনারের এই চেষ্টায় সাহায্য করেছেন!

দেশের বাইরে কখনো সেভাবে জ্বলে উঠতে না পারা মুমিনুল হক (১৫) ফিরেছেন ওয়াগনারের শর্ট অব লেংথের বল সামলাতে না পেরে। নিজের পরের ওভারে এই কিউই পেসার মোহাম্মদ মিঠুনকেও (৩) তুলে নেন সেই শর্ট বলেই। এই দুই ব্যাটসম্যানের কেউ-ই শর্ট বল সামলাতে পারেননি। মুমিনুল ছাড়তে গিয়ে আর মিঠুন পুল করতে গিয়ে ক্যাচ দিয়েছেন। ১ উইকেটে ১১৯ রান তোলা বাংলাদেশ সহসাই ৩ উইকেটে ১২৭ রানে মধ্যাহ্নভোজনে যায়।

মধ্যাহ্নভোজ শেষে দ্বিতীয় সেশনেও পাল্টায়নি দৃশ্যটা। শর্ট বলে উইকেটের পতন আরকি। দ্বিতীয় সেশনের খেলা শুরুর দ্বিতীয় ওভারে ওয়াগনারের বাউন্সার পুল করতে গিয়ে টাইমিংয়ে গড়বড় করে ফেলেন তামিম। স্কয়ার লেগে ক্যাচ দিয়ে ফেরার আগে করেছেন দলের ইনিংসে সর্বোচ্চ ৭৪। এই নিয়ে টানা তিন ইনিংসে (১২৬, ৭৪, ৭৪) রান পেলেন তামিম। তবে শেষ দুটি ইনিংস বড় করতে না পারার আক্ষেপ থাকবে এই ওপেনারের।

দ্বিতীয় সেশনে খেলা হয়েছে ২৬ ওভার। এই সেশনে ৮৪ রান তোলার বিনিময়ে বাকি ৭ উইকেট হারায় বাংলাদেশ। যে দল ১ উইকেটে ১১৯ রান তুলেছিল তাঁরা-ই ৪৯ রান তুলতে পরের ৫টি উইকেট হারায়। অর্থাৎ ১৬৯ রান তুলতেই ৬ উইকেট পরেছে বাংলাদেশের। ওয়াগনার বাউন্সার দিয়ে টপ অর্ডার ও মিডল অর্ডার গুঁড়িয়ে দেওয়ার পর শেষটা টেনেছেন বোল্ট। ৫৯তম ওভারে তিন বলের ব্যবধানে তাইজুল ও মোস্তাফিজকে তুলে নেওয়ার পর ৬১তম ওভারে আবু জায়েদকে ফিরিয়ে বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস গুটিয়ে দেন বোল্ট (৩/৩৮)। বাংলাদেশ শেষ ৪ উইকেটে হারিয়েছে মাত্র ৬ রানে। তবে আসল ক্ষতি যা করার করেছেন সেই ওয়াগনারই। ২৮ রানে ৪ উইকেট নিয়ে টপ অর্ডার ও মিডল অর্ডারে ধাক্কা দেন তিনি।

আর বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের মধ্যে এক তামিম ছাড়া আর কেউ সেভাবে দাঁড়াতে পারেনি। আর কোনো ফিফটি নেই। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৩৩ রান করেছেন লিটন। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত প্রথম ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমে বিনা ২ উইকেটে ৮ রান তুলেছে নিউজিল্যান্ড। বাংলাদেশের হয়ে ২টি উইকেটই নিয়েছেন পেসার আবু জায়েদ।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.