স্পোর্টস ডেস্ক | ১৬ জুন, ২০১৯
বিশ্বকাপ মঞ্চে ভারত-পাকিস্তান দ্বৈরথ বড্ড একপেশে—ছয় ম্যাচে ভারতের শতভাগ জয়। ওল্ড ট্রাফোর্ডে আজ ভারত নামবে রেকর্ড ধরে রাখার মিশনে। পাকিস্তানের লক্ষ্য অস্বস্তিকর অবস্থা দূর করা।
চলমান বিশ্বকাপে ভারত তিন ম্যাচের দুটি জিতেছে, আরেকটি ভেসে গেছে বৃষ্টিতে। ৫ পয়েন্ট নিয়ে সঠিক পথেই আছে ফেভারিটরা। বাজে শুরুর পর দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়ায় পাকিস্তান। পরের দুই ম্যাচের একটি বৃষ্টিতে ধুয়ে গেছে, আরেকটিতে হার। ১৯৯২ সালের চ্যাম্পিয়নরা সেমিফাইনালের রেসে লড়াই-সংগ্রাম করছে।
ম্যাচটি ভারতের জন্য আরেকটি ধাপ এগিয়ে যাওয়ার, পাকিস্তানের জন্য টিকে থাকার।
বিশ্বকাপের পরিসংখ্যানে চোখ রাখলে পাকিস্তানি সমর্থকদের আশাবাদী হওয়া কঠিন। তার পরও এবারের বিশ্বকাপের অন্যতম সেরা ম্যাচগুলোর অন্যতম হিসেবে দেখা হচ্ছে এ ম্যাচকে। একটি সাধারণ ম্যাচের চেয়ে ভিন্ন কিছু বলা হচ্ছে দুই প্রতিবেশীর লড়াইকে।
ভারতের রয়েছে বিরাট কোহলির আগ্রাসন, লোকেশ রাহুলের টেকনিক। বিপরীতে ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট হয়ে উঠতে পারে দুই সিমার মোহাম্মদ আমির কিংবা ওয়াহাব রিয়াজের একটি স্পেলও। দুই দেশের রাজনৈতিক উত্তাপ বাইশ গজে উত্তেজনার রেনু ছড়ায়। ব্যতিক্রম হচ্ছে না আজকের ম্যাচে। এমন লড়াইয়ে খলনায়ক রূপে হাজির হতে পারে বৃষ্টি।
আবহাওয়ার পূর্বাভাস বলছে আজ ম্যানচেস্টারে বৃষ্টি হতে পারে, বিশেষ করে দুপুরের পর। ম্যাচটা শুরু হলেও দ্বিতীয় ইনিংস আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। শুরু থেকে ম্যাচ আক্রান্ত হলে স্টার স্পোর্টস কর্মকর্তাদের মাথায় চিন্তার ভাঁজ স্পষ্ট হতে পারে। এ ম্যাচের বিজ্ঞাপন থেকে প্রায় ১৩৮ কোটি রুপি আয়ের লক্ষ্য স্টার স্পোর্টসের। ম্যাচ বাতিল হলে পুরোটাই জলে যাবে।
বাণিজ্যিকভাবে এবারের বিশ্বকাপ যেদিকেই যাক, ক্রিকেটামোদীদের এ নিয়ে মাথা ঘামানোর সুযোগ নেই। ক্রিকেটাররাও মনোযোগ রাখছেন মাঠে। বিরাট কোহলি এ ম্যাচের আগে মনস্তাত্ত্বিক দিকটায় গুরুত্ব দিচ্ছেন, ‘মানসিক দৃঢ়তা ও সঠিক গেম প্ল্যান নিয়ে মাঠে গিয়ে তা প্রয়োগ করতে হবে।’
তিনি আরো বলেন, ‘এটা মেগা আসর। এমন ম্যাচে সম্মানের প্রশ্নটা সবকিছুর উপরে। এখানে আমাদের সবাইকে নিজেদের সেরাটা দিতে হবে।’
দুই দেশের রাজনৈতিক উত্তাপের কারণে দ্বিপক্ষীয় সিরিজ বন্ধ হয়ে আছে দীর্ঘদিন ধরে। বৈশ্বিক আসরেই ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের দেখা মেলে।
দুই প্রতিবেশী সর্বশেষ মুখোমুখি হয়েছিল আরব আমিরাতে এশিয়া কাপে। ভারতের বিপক্ষে পাকিস্তানের সাম্প্রতিক সময়ে সবচেয়ে মধুর অভিজ্ঞতা ২০১৭ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনাল। এ ইংল্যান্ডেই ১৮০ রানের বিশাল ব্যবধানে প্রবল প্রতিপক্ষকে নাকাল করেছিল পাকিস্তান।
ভারত ম্যাচের আগে আলোচনায় পাকিস্তানের দুর্বল ফিল্ডিং। অধিনায়ক সরফরাজ আহমেদ ব্যাটসম্যানদের কাছ থেকেও দৃঢ়তা চাচ্ছেন, ‘আমাদের শুরুটা ভালো হচ্ছে। কিন্তু জুটি গড়তে পারছি না। ব্যাটসম্যান সেট হয়ে যাওয়ার পর উইকেট দিয়ে আসছি।’
এ উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান বলেন, ‘আমরা নিজেদের ভুলগুলো শুধরে নিতে চাই। ভারত খুবই শক্তিশালী দল। আমরা নিজেদের নৈপুণ্য বিশ্লেষণ করে পরিকল্পনা সাজিয়েছি।’
এদিকে ম্যাচের আগে পাকিস্তানি ওপেনার ইমাম-উল-হক রোমাঞ্চিত। তার কথায়, ‘এটা দুর্দান্ত ম্যাচ হতে যাচ্ছে। খেলা হবে ম্যানচেস্টারে, যেখানে প্রচুর পাকিস্তানির বসবাস। এ ম্যাচ নিয়ে আমি রোমাঞ্চিত।’
তিনি বলেন, ‘পাকিস্তান-ভারতের মধ্যকার ম্যাচ প্রচণ্ড চাপের। আমরা কেবল ক্রিকেটে মনোনিবেশ করতে চাই। নিজেদের আরো শাণিত করতে চাই, যাতে এ ম্যাচ থেকে সাফল্য পেতে পারি।’
দুই দেশের সমর্থকদের উপস্থিতিতে দুদিন আগে থেকেই ম্যানচেস্টারে ম্যাচের উত্তাপ টের পাওয়া যাচ্ছে। সে উত্তাপে গা ভাসিয়ে পাকিস্তানকে আরো একবার হারাতে চান হারুন মেমোন নামের এক ভারতীয় সমর্থক, ‘আমরা এ ম্যাচটা জিততে চাই। ভারত চ্যাম্পিয়ন না হলেও দুঃখ নেই, আমরা পাকিস্তানকে হারাতে চাই।’
এক পাকিস্তানি সমর্থকের টুইট, ‘আমরা ক্রিকেটে সবসময়ই ভারতের ওপর দাপট দেখিয়েছি। আজকের ম্যাচও ব্যতিক্রম হবে না। জিতব আমরাই।’
সূত্র: এএফপি, ডন, টাইমস অব ইন্ডিয়া