ক্রীড়া প্রতিবেদক | ২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৫
নিজ শহর কলকাতার আকাশেই মিশে গেলেন এই শহরের প্রিয় সন্তান জগমোহন ডালমিয়া। সবার প্রিয় জজ্ঞু দা। যে শহর থেকে জীবনের পথচলা শুরু সে শহরের আকাশেই ছাইভষ্ম হয়ে মিশে রইলেন তিনি। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) সদ্য প্রয়াত সভাপতি জগমোহন ডালমিয়ার শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে। সোমবার বিকেল সাড়ে তিনটা নাগাদ কেওড়াতলা মহাশ্মশানে তার শেষকৃত্য হয়। এরআগে শেষ শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য তার মরদেহ রাখা হয় কলকাতার ইডেন গার্ডেনে ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অব বেঙ্গলে (সিএবি)।
জিনিউজ ও এবিপির প্রতিবেদনে বলা হয়, সিএবিতে শেষ শ্রদ্ধা নিবেদনের পর কেওড়াতলা মহাশ্মশানে ডালমিয়ার শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়।
কালকাতার এক মাড়োয়াড়ি পরিবারে জন্ম নিয়ে প্রথম ক্রিকেট খেলা পরে ব্যবসা ঘুরে ক্রিকেট সংগঠক। প্রতিটি কাজে দাপটের সাক্ষর রেখেছেন তিনি। প্রতিটি কাজের প্রতি ছিল তাঁর ভালোবাসা। ক্রিকেটকে জীবনের চেয়েও ভালোবাসতেন তাই এর প্রসারে নিয়েছিলেন নানান উদ্যোগ। সেজন্য তাঁর জন্য অশ্রুপাত করে বাংলাদেশও। তিনিই যে বাংলাদেশকে ১০ম টেস্ট খেলুড়ে দেশ হিসেবে বিশ্ব আত্মপ্রকাশ ঘটাতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছিলেন। ডালমিয়ার বিদায়ে তাই শোকার্ত বাংলাদেশের ক্রিকেটও শ্রদ্ধা জানিয়েছে।
ডালমিয়ার মরদেহ যখন আলিপুরের বাড়ি থেকে সিএবি পৌঁছায় তখন সেখানে ছিলেন ডালমিয়াপুত্র অভিষেক ডালমিয়া, সৌরভ গাঙ্গুলি ও সিএবি কর্মকর্তারা। ডালমিয়াকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে কলকাতায় আসেন রবি শাস্ত্রী, অনুরাগ ঠাকুর, শরদ পাওয়ার ও নীরঞ্জন শাহ। দেরিতে পৌঁছেন শ্রীনিবাসন৷
জগমোহন ডালমিয়া হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার রাত পৌনে ৯টার দিকে মারা যান।
বোর্ড প্রেসিডেন্টের আকস্মিক মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী , বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়সহ বিভিন্নজনেরা।
১৯৭৯ সালে ভারতের ক্রিকেট বোর্ডে যোগ দেন জগমোহন ডালমিয়া। ১৯৮৩ সালে তিনি বোর্ডের কোষাধ্যক্ষ হন। এর আগেও ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন ডালমিয়া। পালন করেছেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব।