Sylhet Today 24 PRINT

পাখিদের জন্য ভূমিসন্তানের অনন্য ভালবাসা

নিজস্ব প্রতিবেদক |  ১০ অক্টোবর, ২০১৫

নিছক প্রকৃতিকে ভালোবেসেই প্রকৃতির সন্তানদের খোঁজখবর নেয় ভূমিসন্তানের সদস্যরা। মনুষরূপি কিছু দানব যখন প্রকৃতিকে আঘাত করে তখনই তা রুখে দেয়ার চেষ্টা ভূমিসন্তানের।

হ্যাঁ, বলছি প্রকৃতিপাগল একদল তরুনের কথা। নিজেদের উদ্যোগেই সিলেটের একদল তরুন  জড়ো হন 'ভূমিসন্তান' নামক সংগঠনের আশ্রয়ে। উদ্দেশ্য, গাছ-পাখি-পরিবেশকে তার নিজের মেতা বেড়ে উঠতে দেয়া।

সুযোগ পেলেই প্রকৃতির কোলে ছুটে যায় ভূমিসন্তানের সদস্যরা। খোঁজ নেন রাতারগুল সোয়াম্প ফরেষ্ট কিংবা খাদিম রেইন ফরেষ্টের। প্রতিবাদ করে বৃক্ষনিধনের। কোথাও কোনো বন্যপ্রানী নিধন কিংবা আহত হওয়ার খবর পেলেই ছুটে যান তার শুশ্রুষায়।

ঠিক যেমনটি ঘটেছে শুক্রবার বিকেলে, ভক্ষকের হাত থেকে রক্ষা করে ৪টি কানি বককে উদ্ধার করে মুক্ত আকাশে উড়িয়ে দেন ভূমিসন্তানেরা।

পরে ভূমিসন্তানের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে তার বর্ননা দেয়া হয়।

ভূমি সন্তানের ফেসবুক পেজে লেখা হয়,"ভূমিসন্তানরা প্রতিনিয়ত রাতারগুল বনে যায়। এটা এখন মোটামুটি সবারই জানা হয়ে গেছে। তেমনিভাবেই শুক্রবার বিকেলে একদল ভূমিসন্তান মোটরসাইকেলযোগে রওয়ানা হয়েছিল রাতারগুলের উদ্দেশ্যে। পথিমধ্যে লাক্কাতুরা চা বাগানের আগের পেট্রোল পাম্পে মোটরসাইকেলের তেল ভরতে গিয়ে এক ভূমিসন্তানের চোখ পড়ে পাশের একটি পাজেরো গাড়িতে। তাতে পা বাঁধা ৪টি কানি বক।

সাথে সাথে ভূমিসন্তানরা ভিড় করে পাজেরোর চারপাশে। কথা হয় পাজেরোর মালিকের সাথে। জনৈক ভদ্রলোক নিজের বাচ্চাদের দেখাতে এবং খাওয়াতে হবিগঞ্জ থেকে বসে নিয়ে এসেছেন এই কানি বকগুলোকে। ভূমিসন্তানদের কথায় তিনি নিজের ভুল বুঝতে পেরে বকগুলো তুলে দেন ভূমিসন্তানদের হাতে।

গন্তব্য যেহেতু রাতারগুল, তাই কানিবকও চললো আমাদের সাথে। পায়ের বাঁধন খুলে দিয়ে ধাতস্থ হচ্ছিলেন তারা একটি মুখখোলা বাক্সে।

পরে রাতারগুল বনের ভিতরে অবমুক্ত করা হয় তাদের। ৪টি বকের মধ্যে একটির পায়ের জোর খুব কম ছিলো, কষ্ট হচ্ছিলো বেশ হয়তো। একসময় সেও বসতে পারে গাছের ডালে। নিজেকে নিয়ন্ত্রণে আনতে পারে।

সেই জনৈক ব্যক্তিটিকে ধন্যবাদ, যিনি নিজের ভুল বুঝতে পেরে কানিবকগুলোর মুক্তি দিয়েছিলেন।

ধন্যবাদ রাতারগুল গ্রামবাসীকে আর বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানাচ্ছি, রাতারগুলের পার্শ্ববর্তী ৪টি গ্রামের শিক্ষার্থীদের নিয়ে গঠিত সংগঠন চৌগ্রাম ছাত্র কল্যান পরিষদের ভাইদের। পাখি অবমুক্তকরণে ও রাতারগুল বনের মানবসৃষ্ট জঞ্জাল পরিষ্কারকরণে তাদের অঙ্গীকারের জন্য। শুভবুদ্ধির উদয় হোক, উদয় হোক সকল বণ্যপ্রানির জন্য ভালোবাসার।"

ভূমিসন্তানের সংগঠক আশরাফুর কবির সিলেটটুডে টুয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, প্রকৃতি বাঁচলে মানুষ বাঁচবে। স্বপ্ন দেখার সুযোগ থাকবে। কিন্তু প্রকৃতির সন্তানেরাই আজকাল প্রকৃতির সন্তানদের ভক্ষক হয়ে উঠছে। মানুষের হাতেই আঘাতপ্রাপ্ত হচ্ছে বনের পাখি পাখি,গাছ, জীববৈচিত্র।

তাই ভূমিসন্তান স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখার গল্প বুনে যায়। প্রকৃতিকে ভালোবাসার কথা ফেরী করে যায় মানুষের মাঝে। প্রকৃতিমাতার অসীম দানের প্রতিদানের ক্ষুদ্র এ প্রয়াসে সবাইকে পাশে থাকার আহ্বান ভূমিসন্তানের।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ [email protected] ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.