শায়েস্তাগঞ্জ প্রতিনিধি | ১১ জুন, ২০২০
হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ পৌর এলাকার শিশু ইতি আক্তার (৬) নির্মম হত্যাকাণ্ডের জট প্রায় দুই বছরেও উদঘাটন করতে পারেনি পুলিশ।
আলোচিত হত্যাকান্ডের শিকার শিশু ইতি আক্তার শায়েস্তাগঞ্জ পৌরসভার বিরামচরের ৯নং ওয়ার্ডের চটপটি বিক্রেতা আব্দুস শহিদের মেয়ে।
বিজ্ঞাপন
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০১৮ সালের ২৫ জুলাই ভোরে বাড়ির পাশের মসজিদে মক্তবে পড়তে যায় ইতি আক্তার। এরপর থেকে তাকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। পরে ইতির বাবা এ নিয়ে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরিও করেন। অনেক খোঁজাখুঁজির পর পরদিন সকালে আবদুস শহীদ সেই মসজিদের পার্শ্ববর্তী ধানক্ষেত থেকে ইতির বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করেন। মরদেহ উদ্ধারের পর তিনি থানায় একটি খুনের মামলা দায়ের করেন। শায়েস্তাগঞ্জ থানা পুলিশ ওই মামলাটি কিছুদিন তদন্ত করার পর পিবিআই হবিগঞ্জের কাছে হস্তান্তর করা হয়। যা এখনো তদন্তাধীন রয়েছে।
ইতিমধ্যে একাধিকবার আলোচিত এ হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বদল করা হলেও কোনো সুরাহা হয়নি দুই বছরেও।
এ হত্যাকান্ডটি এলাকার অতীতের অন্যসব হত্যাকাণ্ডকে ম্লান করে দিয়েছে। অনেকেই ধারণা করছেন, ইতির পরিবারের সঙ্গে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে ঘটে থাকতে পারে পাশবিক ও নির্মম এ হত্যাকাণ্ড। শিশু ইতির পরিবারের লোকজন ও তার বাবা এখনো ইতির ছবি বুকে ধরে চোখের পানিতে বুক ভাসান।
এলাকার লোকজনের প্রশ্ন কোন অপরাধে হত্যা করা হলো এই নিষ্পাপ শিশুটিকে। ইতির সহপাঠীরা সংশ্লিষ্ট লোকজনের দেখা পেলে উৎসুক দৃষ্টিতে জলভরা নয়নে জানতে চায়, ইতি হত্যার বিচার হবে কি?
ইতির বাবা আব্দুস শহীদ বলেন, মেয়েকে হারিয়ে আমি রাস্তায় রাস্তায় ঘুরছি বিচরের আশায়। আমি চাই আমার মেয়ের প্রকৃত খুনিদের ফাঁসি হোক।
এ মামলার বিষয়ে শায়েস্তাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাম্মেল হোসেন বলেন, শিশু ইতি হত্যা মামলাটি পিবিআই হবিগঞ্জের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তারা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে মামলাটি তদন্ত করছেন।
হবিগঞ্জ পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কুতুবুর রহমান চৌধুরী বলেন, আমরা ইতোমধ্যে বেশ কিছু আলামত সংগ্রহ করেছি, এখনো তদন্তের কাজ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। আশা করছি খুব শীঘ্রই এর একটি ভালো রেজাল্ট আসবে।