নিজস্ব প্রতিবেদক | ১৩ অক্টোবর, ২০১৫
আর ক'দিন পরেই শুরু হবে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা। যদিও গত সোমবার মহালয়ার মাধ্যমে শুরু হয়ে গেছে পূজার আনুষ্ঠানিকতা। তবে মূল উৎসব শুরু হবে ১৯ অক্টোবর মহাসষ্ঠী পূজার মধ্য দিয়ে।
এবার সিলেটে মোট ৫৮৩ টি মন্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। এরমধ্যে মহানগরীতে ৬১ টি মন্ডপে ও জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ৫২২টি মন্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হবে। দুর্গাপূজা উপলক্ষ্যে মন্ডপে মন্ডপে এখন ব্যস্ততা। চলছে শেষ মূহূর্তের প্রস্তুতি।
এদিকে, দুর্গাপূজায় যে কোন ধরণের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে প্রস্তুতি নিচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও। মহানগর ও জেলা পুলিশ দফায় দফায় বৈঠক করে পূজাকে নির্বিঘ্ন করতে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করছে।
তবে ইতোমধ্যে সিলেট বিভাগের দু'একটি জায়গায় দুর্গা প্রতিমা ভাংচুরের খবর পাওয়া গেছে। সর্বশেষ মঙ্গলবার মৌলভীবাজারের বড়লেখায় একটি প্রতিমা দুর্বৃত্তরা ভাংচুর করে বলে জানা গেছে।
পূজার প্রস্তুতি সম্পর্কে সিলেট মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রজতকান্তি গুপ্ত সিলেটটুডে টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, পূজার প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে। পূজোকে ঘিরে সবার মধ্যে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। আশা করছি শান্তিপূর্ণভাবে ও উৎসবমুখর পরিবেশেই এবারের পূজো সম্পন্ন হবে। এবং দুর্গার আরধনার মাধ্যমে অসুর শক্তির বিনাশ ঘটবে।
সিলেট জেলা ও মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদ সূত্রে জানা যায়, এবছর সিলেট জেলায় গত বছরের চেয়ে ১৬টি মন্ডপ বেড়েছে। জেলায় সার্বজনীন ও পারিবারিক ৫৮৩ টি মন্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে মহানগরীতে মন্ডপ রয়েছে ৬১ টি, সদর উপজেলায় ৫১টি, দক্ষিণ সুরমা উপজেলায় ২৯টি, গোলাপগঞ্জে ৬২টি, বালাগঞ্জে ২৯টি, ওসমানীনগরে ৩০টি, কানাইঘাটে ৩৩টি, জৈন্তাপুরে ১৯টি, বিশ্বনাথের ২৪টি, জকিগঞ্জে ৯৪টি, গোয়াইনঘাটে ৩৩, বিয়ানীবাজারে ৫৩, কোম্পানীগঞ্জে ২৬টি ও ফেঞ্চুগঞ্জে ৩৯টি পূজামন্ডপে পূজার আয়োজন করা হয়েছে।
এদিকে সময় যত ঘনিয়ে আসছে ব্যস্ততা বাড়ছে প্রতিমা শিল্পীদের। দুর্গার প্রতিমা নির্মানে ব্যস্ত সময় পার করছেন শিল্পীরা। প্রতিমায় শেষ মূহূর্তের রং তুলির আচড় দিতে ব্যস্ত তারা।
পুজার নিরাপত্তার ব্যাপারে সিলেটের সহকারী পুলিশ সুপার (গণমাধ্যম) সুজ্ঞান চাকমা বলেন, দুর্গাপূজায় যাতে কোনো অনাকাঙ্খিত ঘটনা না ঘটে সে লক্ষ্যে আমাদের চুড়ান্ত প্রস্তুতি রয়েছে। সকল থানার ওসিদের এ ব্যাপারে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি মন্ডপে আমার ফোর্স থাকবে। এছাড়া উর্ধতন কর্মকর্তা সার্বক্ষণিক পূজোর নিরাপত্তার বিষয়টি মনিটরিং করবেন।
এ ব্যাপারে সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার রোকন উদ্দিন সিলেটটুডে টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, উৎসব তো সকলের। সাবর্জনীন। সকল ধর্মের লোকজন এতে অংশ নেবেন। আমরা সকলে যদি উৎসবের এই মর্মার্থ উপলব্দি করতে পারি তাহলে দুর্গাপূজায় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটানর শঙ্কা নেই।
তারপরও আমাদের প্রস্তুতি রয়েছে। স্থায়ী ফোর্সের পাশাপাশি আনসার, বিজিবিও পূজোর নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবে। থাকবে মোবাইল টিম ও স্ট্রাইকিং ফোর্স। এছাড়া কমিশনার মহোদয়সহ উর্ধতন কর্মকর্তারাও পূজোয় বিভিন্ন মন্ডপ পরিদর্শন করবেন।
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক এডভোকেট মৃত্যুঞ্জয় ধর ভোলা জানান, এবার ২২ ও ২৩ অক্টোবর দু’দিন বিকেল ৪টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত প্রতিমা বিসর্জন করার সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।