নিজস্ব প্রতিবেদক | ১৪ অক্টোবর, ২০১৫
সুরমা নদীর উপর নবনির্মিত কাজির বাজার সেতু
সিলেটে সুরমা নদীর উপর নির্মিত হবে ঝুলন্ত সেতু। এমন আশ্বাসই দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।
বৃহস্পতিবার কাজিরবাজার সেতু উদ্বোধনকালে ভিডিও ক্লিপে ধারণকৃত বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী বলেন, নদীর জলপ্রবাহে যাতে কোনো ধরণের প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি না হয়, সেটা ঠিক রেখে সুরমা নদীতে নির্মাণ করা হবে বড় আকারের ঝুলন্ত সেতু।
এরআগে ২০০১ সালে বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকার আমলে তৎকালীন অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমান সুরমা নদীতে কীন ব্রিজের স্থলে ঝুলন্ত সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেন। সেসময় ইংরেজ শাসন আমলে ১৯৩৬ সালে নির্মিত কীন ব্রিজে কোনরূপ পরিবর্তন আনার বিরুদ্ধে সিলেটের সচেতন মহলের পক্ষ থেকে দাবি ওঠে। এরপর কীন ব্রিজ বহাল রেখেই এই ব্রিজের পাশে ঝুলন্ত সেতু নির্মানের উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে এরপর আর ঝুলন্ত সেতু নির্মিত হয় নি। বরং ঝুলন্ত সেতু প্রকল্প বাতিল করে কীন ব্রিজের অনতিদূরে কাজির বাজার সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
বারবার উদ্যোগের পরও পিছিয়ে যাওয়ায় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে সুরমা নদীর আদৌ ঝুলন্ত সেতু নির্মিত হবে কি? অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের আশ্বাস কতুটুকু বাস্তবায়ন করতে পারবেন এনিয়েও শঙ্কা প্রকাশ করেছেন অনেকে।
সিলেট নগরী ও নগরীর আশপাশে সুরমা নদীর উপর বর্তমানে পাঁচটি সেতু রয়েছে। এতো ঘন ঘন সেতু নির্মানের ফলে নদীর জলপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করে আসছেন পরিবেশবাদীরা। সামান্য দুরত্বে সুরমা নদীর উপর ৫টি সেতু নির্মানের প্রয়োজনীয়তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারা।
পরিবেশবাদীদের এমন বক্তব্যের সাথে একাত্মতা পোষণ করে কাজির বাজার সেতু উদ্বোধনকালে অর্থমন্ত্রীও বলেন, ভিডিও বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘কীন ব্রিজের স্থলে সুরমা ব্রীজ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু মূল প্রকল্পের কাজ শুরু হওয়ার আগেই এটি পরিবর্তিত হয়ে কাজির বাজার ব্রিজ হয়ে যায়। এ ব্রিজের স্থান পরিবর্তন যথাযথ হয়নি। আমি এর পক্ষে ছিলাম না। এই ব্রিজে অসংখ্য পিলার থাকায় নদীর নাব্যতা ঠিক রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।’