ছাতক প্রতিনিধি | ২১ জুলাই, ২০২০
রিজেন্ট হাসপাতালের সাহেদ করিম ও তার সঙ্গী মাসুদ পারভেজ সুনামগঞ্জের ছাতকের এক বালু-পাথর ব্যবাসায়ীর কাছ থেকে প্রতারণা করে দুই কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, পাওনা টাকা চাইতে ঢাকায় গেলে ওই ব্যবসায়ীর মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে ভয় দেখান সাহেদ। প্রতারণার শিকার সুনামগঞ্জের ছাতকের বালু-পাথর ব্যবসায়ী এখলাছ খান।
রোববার এ ব্যাপারে মামলা করার জন্য ছাতক থানায় যান তিনি।
ছাতক শহরের মণ্ডলীভোগ এলাকার ব্যবসায়ী এখলাছ খান জানান, গত মে মাসে শাহেদ ও তার এক সহযোগী মাসুদ বালু-পাথর সরবরাহের কথা বলে দুই কোটি টাকার মালামাল নেন।
সাহেদ করিম একই বছরের ২৪ জানুয়ারি থেকে ৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যে তার কাছ থেকে এক কোটি ৪৯ লাখ ২৫ হাজার ৪২ টাকার বালু-পাথর নেন। এরপর তাকে তিনি ৩০ লাখ টাকার চেক এবং এক্সেভেটর মেশিন বিদেশ থেকে আনার জন্য আরো এক লাখ ১০ হাজার ডলারের (প্রায় ৯৪ লাখ টাকার) এলসির কাগজপত্র প্রদান করেন।
সাহেদ কর্তৃক প্রদত্ত চেক এখলাছ খান ছাতকে এসে ব্যাংকে জমা দেওয়ার পর জানতে পারেন ওই হিসাবে কোনো টাকাই নেই।
কয়েকবার ব্যাংকে যোগাযোগ করেও হিসাবে কোন টাকা পাননি। এক্সেভেটর মেশিন কেনার জন্য যে কোম্পানীকে সাহেদ করিম এলসি দিয়েছিলেন, ওই কোম্পানীর সঙ্গে এখলাছ খাঁন যোগাযোগ করে জানতে পারেন এলসি ফেরত নিয়ে ক্যাশ করে ফেলেছেন সাহেদ করিম।
এরপর অনেকবার ফোনে চেষ্টা করেও সাহেদ করিমের সঙ্গে যোগাযোগই করতে পারেননি এখলাছ খাঁন।
সর্বশেষ গত ৩০ জুন সাহেদের উত্তরার অফিসে (২/এ, সেক্টর-১২এর ১৪ নম্বর সড়কের অফিসে) গিয়ে যোগাযোগ করলে তিনি পিস্তল মাথায় ঠেকিয়ে শাসিয়ে দেন, আর যেন কোন দিন তাকে (এখলাছ খানকে) ঢাকায় দেখা না যায়।
এখলাছ খাঁন আরও জানান, অনেক চেষ্টা করে সাহেদের অফিসের এক স্টাফের মাধ্যমে তিনি জানতে পারেন, সাহেদ ৩০ জুন উত্তরার অফিসে আসবেন। ২৯ জুন তিনি ঢাকায় চলে যান। ৩০ জুন সকালে সাহেদের অফিসের সামনে গিয়ে তিনি বসে থাকেন। সকাল ১০টায় সাহেদ অফিসের সামনে গাড়ি থেকে নামলে আমি সামনে গিয়ে দাড়িয়ে বললাম ভাই, আমাকে চেক দিলেন অ্যাকাউন্টে টাকা নাই। বলছিলেন আমাকে বিদেশ থেকে এস্কেভেটর আনিয়ে দেবেন, তা না করে কোম্পানীকে এলসি দিয়ে আবার ফেরত এনে ক্যাশ করে নিয়েছেন। এটা কী করলেন। এই কথা শেষ করতে পারিনি, আমার কপালে পিস্তল তাক করে তিনি বলেন, গুলি করে তোর লাশ নদীতে ভাসিয়ে দেব। আর যদি ঢাকায় দেখি তোর শরীরে গুলি করার জায়গাও থাকবে না। তার সঙ্গে ৪-৫ জন ছিল, সকলের কাছেই অস্ত্র ছিল। ভয়ে আমি পরে কোনরকম চলে আসি।
একইভাবে মাসুদ পারভেজ বালু-পাথর নিয়ে একবার ১৮ লাখ টাকা দেয়। এখনো ৪০ লাখ ৫২ হাজার ২৩৫ টাকা তার কাছে পাওনা আছে। ফোন করলে আজ দেব, কাল দেব বলছিল। এখন সেও জেলে আছে।
ছাতক থানার ওসি (তদন্ত) মইন উদ্দিন আহমদ জানান, এখলাছ খাঁন সাহেদ ও মাসুদ পারভেজের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ নিয়ে থানায় এসেছিলেন। অভিযোগটি সংশোধন করে আনার জন্য বলা হয়েছে। সংশোধন করে আনার পর র্যাবের দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে এটি গ্রহণ করা হবে।