Sylhet Today 24 PRINT

মুজিববর্ষে রোপণ করা বৃক্ষের জায়গায় পশুর হাট

নিজস্ব প্রতিবেদক |  ২৬ জুলাই, ২০২০

লাক্কাতুরা এলাকার সিলেট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে পশুর হাট বসানোর প্রস্তুতি চলছে। ছবি: সংগৃহিত

সিলেটের লাক্কাতুরা এলাকার সিলেট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠের চারপাশে নতুন রোপণ করা গাছের চারা। মুজিববর্ষ উপলক্ষে এগুলো রোপণ করা হয়েছে। গবাদিপশু যাতে চারাগুলো নষ্ট করতে না পারে তাই জাল দিয়ে চারপাশ ঘিরে রাখা হয়েছে। অথচ এই চারাগুলোর পাশে বাঁশ দিয়ে নির্মাণ করা হচ্ছে বিভিন্ন স্থাপনা। শুক্রবার থেকে এসব স্থাপনা নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। এই মাঠে বসবে কোরবানির পশুর হাট। তারই প্রস্তুতি চলছে। যদিও সংশ্লিষ্টদের শঙ্কা, পশুর হাট বসালে মুজিববর্ষ উপলক্ষে রোপণ করা চারাগুলো নষ্ট হয়ে যাবে।

এছাড়া এই মাঠের পাশেই সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম ও লাক্কাতুরা চা-বাগান। কোরবানি পশুর হাট বসলে এগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। তবু এই মাঠটিতে পশুর হাট বসানোর অনুমতি দিয়েছে সদর উপজেলা প্রশাসন।

সিলেট নগরীর এমসি কলেজ মাঠ ও আলিয়া মাদ্রাসা মাঠেও কোরবানির পশুর হাট বসানোর উদ্যোগ নিয়েছিলো সিটি করপোরেশন। কিন্তু শিক্ষার্থীসহ স্থানীয়দের আপত্তিতে সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে সিসিক। কিন্তু আপত্তি সত্ত্বেও লাক্কাতুরার স্কুল মাঠে চলছে হাট বসানোর প্রস্তুতি।

লাক্কাতুরা সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এইচ এম জহির ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এখানে পশুর হাট বসানোর ব্যাপারে আমরা আপত্তি জানিয়েছিলাম। কিন্তু কেউ তা শুনেনি। তিনি বলেন, সবচেয়ে বেশি কষ্ট হচ্ছে গাছগুলোর জন্য। গত ১৮ জুলাই এগুলো মুজিব বর্ষ উপলক্ষে লাগিয়েছিলাম আমরা। প্রধানমন্ত্রীর এক কোটি গাছ লাগানোর জাতীয় কর্মসূচির এই গাছগুলোর সুরক্ষা নিয়ে চিন্তায় আছি। পাশাপাশি ফটকের ভেতরে পশুর হাট হলে বিদ্যালয় ভবনও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

পশুর হাট বসালে ন্যাশনাল টি কোম্পানি (এনটিসি) পরিচালিত লাক্কাতুরা চা বাগানের চা গাছ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার শঙ্কা প্রকাশ করেছে চা বাগান কর্তৃপক্ষ। হাট বসানোর ব্যাপারে তারাও আপত্তি জানিয়েছে। কিন্তু বাগান কর্তৃপক্ষের আপত্তিও আমলে নেওয়া হয়নি।

বিজ্ঞাপন



লাক্কাতুরা চা-বাগানের ব্যবস্থাপক আশরাফুল মতিন চৌধুরী জানিয়েছেন, এখানে পশুর হাট বসালে বাগান ক্ষতিগ্রস্ত হবে এ বিষয়টি ২২ জুলাই লিখিতভাবে উপজেলা প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। এরপরও পশুর হাট বসানোয় এনটিসির ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে প্রতিকার চাওয়া হয়েছে।

উপজেলা প্রশাসন ও এলাকাবাসী সূত্র থেকে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার ২১ লাখ টাকায় এ জায়গা ইজারা দেওয়া হয় সৈয়দ আতিকুল রব চৌধুরী নামের এক ব্যক্তিকে।

এ ব্যাপারে সিলেট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মহুয়া মমতাজ বলেন, উপজেলা পরিষদ নিয়মিত সভা করে অস্থায়ী পশুর হাটের স্থান নির্ধারণ করে। এবার ওই স্থান বেছে নিয়ে পরিষদের সভায় চূড়ান্ত হয়। এরপর ইজারা প্রদান কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো আপত্তি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, উপজেলা পরিষদের সভায় আপত্তিগুলো গ্রহণযোগ্য মনে হয়নি।

এদিকে, এই মাঠে পশুর হাট বসানোর প্রস্তুতি ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)। স্কুল মাঠে পশুর হাট বন্ধের দাবিতে আজ (রোববার মানববন্ধনও আহ্বান করেছে সংগঠনটি।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) সিলেটের সাধারণ সম্পাদক আবদুল করিম কিম বলেন, সম্প্রতি সিটি করপোরেশন এমসি কলেজের কাছে পশুর হাট দিয়ে আবার বাতিল করেছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বিবেচনায়। একই বিবেচনায় লাক্কাতুরা চা-বাগানের ভেতরে বিদ্যালয়ঘেঁষা স্থানটি থেকেও পশুর হাট সরানো উচিত। এছাড়া এই মাঠে সম্প্রতি মুজিববর্ষ উপলক্ষে অনেক গাছ লাগানো হয়েছে। এগুলোর স্বার্থেও এখানেও হাট বসানো উচিত হবে না।

সিলেট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ থেকে পশুর হাট সরানোর দাবি রোববার বেলা ২টায় স্কুলের সামনে বাপা মানববন্ধন আহ্বান করেছে বলেও জানান তিনি।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.