Sylhet Today 24 PRINT

বিশ্বনাথে ধর্ষণ মামলায় অভিযুক্ত কিশোর ৫ মাস ধরে নিখোঁজ

বিশ্বনাথ প্রতিনিধি |  ২৮ জুলাই, ২০২০

সিলেটের বিশ্বনাথে ধর্ষণ মামলায় অভিযুক্ত এক কিশোর ৫ মাস ধরে নিখোঁজ রয়েছে। আছলাম উদ্দিন ওরফে বাদশা মিয়া (১৬) নামে ওই কিশোরের সন্ধানে অভিযান চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

জানা যায়, গত ২৫ ফেব্রুয়ারি স্থানীয় এক কিশোরী বাদি হয়ে বাদশা মিয়াকে একমাত্র আসামি করে বিশ্বনাথ থানায় ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। এর আগে গত ২১ ফেব্রুয়ারি নিখোঁজ হওয়ার পর ২২ ফেব্রুয়ারি বাদশার বড়ভাই মাদ্রাসা শিক্ষক হাফিজ মো: আকবর আলী বিশ^নাথ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন, (জিডি নং ১১৩৪)। অভিযুক্ত বাদশা উপজেলার টেংরা বাঘমারা গ্রামের মৃত রিফাত উল্লাহর ছেলে।

তবে বাদশার মা আছিয়া বেগমের দাবি তার ছেলে নির্দোষ। পরিকল্পিত ও সাজানো মামলায় তার ছেলেকে ফাঁসানো হয়েছে। মায়ের অভিযোগ, গত ২০ ফেব্রুয়ারি রাতে ছেলে বাদশা মিয়াকে পাশের বাড়ির রাসেল মিয়া মোবাইলে ফোনে বাড়ি থেকে ওরসে যাবার জন্য ডেকে নিয়ে মিথ্যা ধর্ষণের অভিযোগ তুলে। থানায় ছেলে হারানোর জিডি করা পর ২৫ ফেব্রুয়ারি ভোর রাতে তার বড় ছেলে হাজী জবান উল্লাহ হাফিজিয়া মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক হাফিজ মো: আকবর আলী (৩০) ও মেঝো ছেলে রাজমিস্ত্রীর ঠিকাদার আছকর আলীকে (২৫) আটক করান প্রতিপক্ষের রাসেল মিয়া। ওইদিন দুপুরে গ্রামবাসী ও এলাকাবাসী তার ছেলে আকবর আলীকে ছাড়িয়ে আনেন। কিন্তু নিখোঁজ বাদশা মিয়াকে একমাত্র আসামি করে থানায় ধর্ষণ মামলা দায়েরের পর আছকর আলীকে তার সহযোগী বানিয়ে আদালতে পাঠায় পুলিশ।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, টেংরা বাঘমারা গ্রামের যুক্তরাজ্য প্রবাসী ফারুক মিয়ার বসত বাড়িতে ভবন নির্মাণের কাজ করতেন ঠিকাদার আছকর আলী। সহযোগী হিসেবে তার সঙ্গে কাজ করতেন তারই ছোটভাই বাদশা মিয়া (১৬) ও চাচাতো ভাই জুবেল আহমদ (২৫)। আর নির্মাণ কাজের তদারকির দায়িত্বে ছিলেন প্রবাসীর ভাতিজা রাসেল মিয়া (২৫)। ওই বাড়িতে কাজ করতেন প্রবাসীর আত্মীয় এক কিশোরী (১৫)। নির্মাণ কাজের কিছুদিন পর ঠিকারদার আসকর আলীর কাছে উৎকোচ দাবি করেন রাসেল। এ নিয়ে ঠিাকাদার ও রাসেলের মধ্যে বাকবিতন্ডা হয়। বিষয়টি জানতে পেরে প্রবাসী তার ভাতিজাকে কাজের তদারকির দায়িত্ব থেকে বাদ দিয়ে ঠিকাদার আছকর আলীর কাছে নির্মাণকাজের দায়িত্ব দিয়ে দেন।

বিজ্ঞাপন



এতে ক্ষিপ্ত হয়ে রাসেল মিয়া গত ২০ ফেব্রুয়ারি রাতে রামধানা ওরসে যাবার কথা বলে আছকর আলীর ছোটভাই বাদশা মিয়াকে মোবাইলে ডেকে প্রবাসীর বাড়িতে নিয়ে বন্দি করে রাখেন। এসময় রাসেল তার সহযোগীদের নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ এনে বাদশা মিয়াকে নির্যাতন করেন। পরেরদিন ২১ ফেব্রুয়ারি বাদশা মিয়ার বড়ভাই, প্রতিপক্ষ রাসেল ও মেয়ের বাবাসহ বৈঠকে বসেন। ওই বৈঠক শেষে বাদশা মিয়া বাড়িতে গিয়ে তার মাকে প্রতারনার শিকার হচ্ছে জানিয়ে বাড়ি থেকে চলে যায়। এর পর ২২ ফেব্রুয়ারি থানায় জিডি করেন বড়ভাই হাফিজ আকবর আলী। এর দুইদিন পর ২৫ ফেব্রুয়ারি কিশোরী বাদি হয়ে বাদশা মিয়াকে আসামি করে থানায় ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন, (মামলা নং ১৫)। মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে ২০১৯ সালের ১৫জানুয়ারি থেকে ২০২০সালের ২০ ফ্রেবুয়ারি পর্যন্ত দীর্ঘ প্রায় ১৩মাস ধর্ষণ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে কথা হলে অভিযোগকারী কিশোরীর বাবা বলেন,  দারোগা স্যারের পরামর্শ ছাড়া এ ব্যাপারে আমি কিছুই বলতে পারবো না। তবে, তার স্ত্রী এ ঘটনার ন্যায় বিচার দাবি করেছেন।

অভিযুক্ত বাদশা মিয়ার ভাই মাদ্রাসা শিক্ষক আকবর আলী বলেন, আমাকে ভয় দেখিয়ে জোরপূর্বক প্রতিপক্ষের লোকজন ষ্ট্রাম্পে স্বাক্ষর নিয়েছেন। তবে, এ বিষয়ে জানতে রাসেলের বাড়িতে গিয়েও তার সঙ্গে কথা বলে সম্ভব হয়নি।
টেংরা বাঘমারা জামে মসজিদের মোতায়াল্লী হাজী নেছার আলী কটু মিয়া বলেন, ২৫ ফেব্রুয়ারি মসজিদে ফজরের নামাজে গিয়ে জানতে পারেন ইমাম হাফিজ আকবর আলী ও তার ভাইকে পুলিশ ধরে নিয়ে গেছে। পরে ওইদিন দুপুরে পঞ্চায়েত ও এলাকাবাসী মিলে ইমাম আকবর আলীকে ছাড়িয়ে আনেন। তবে ধর্ষণের ঘটনা সম্পর্কে তিনি অবগত নন বলে জানান।

একই গ্রামের মুরব্বী আলকাছ আলী ও মাসুক মিয়া বলেন, ঠিকাদর আছকর আলী ও রাসেলের মধ্যে প্রবাসীর বাড়ি নির্মাণ কাজ নিয়ে দ্বন্ধের কথা শুনেছেন। তবে, ধর্ষণের ঘটনা সম্পর্কে তারাও কিছুই জানেন না।

মামলা তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই ফজলুল হক বলেন, হাফিজ আকবর আলী তার ভাইকে সরিয়ে দিয়ে থানায় জিডি করেছেন। দীর্ঘদিন খোঁজাখুজির পর তিনিও অভিযুক্ত বাদশাকে গ্রেপ্তার করতে পারেন নি।

তবে, বিশ্বনাথ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শামীম মুসা বলেছেন, মামলার তদন্তকাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। আগামি কয়েক দিনের মধ্যেই মামলার চার্জশিট দেওয়া হবে।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.