Sylhet Today 24 PRINT

পশুর হাটে ক্রেতা নেই, দুশ্চিন্তায় বিক্রেতা ও ইজারাদাররা

জাহিদ উদ্দিন, গোলাপগঞ্জ  |  ২৮ জুলাই, ২০২০

আর ৩দিন পরেই কোরবানির ঈদ। ঈদকে সামনে রেখে গোলাপগঞ্জের বিভিন্ন জায়গায় বসেছে পশুর হাট। তবে এই হাটগুলোতে নেই আগের মতো জমজমাট অবস্থা। নেই ক্রেতা সমাগম। বরং অনেকটাই ফাঁকা হাট।  এতে চিন্তায় পড়েছেন হাটের ইজারাদার ও বিক্রেতারা।

হাটগুলোতে পর্যাপ্ত পশু থাকলেও বেচাকেনা নেই বলে দাবি করছে খামারি, ব্যবসায়ী ও ইজারাদাররা।

তারা বলছেন, করোনাভাইরাসের কারণে মানুষজন আর্থিক সংকটে রয়েছেন। শেষ পর্যন্ত হাট জমবে কি-না এমন দুশ্চিন্তায়ও রয়েছেন ইজারাদার ও ব্যবসায়ীরা।

গোলাপগঞ্জে উপজেলায় প্রতি বছর সবচেয়ে বড় পশুর হাট বসে এমসি একাডেমির পিছনের খালি মাঠে। এবারো এ মাঠে বসেছে পশুর হাট। এ হাটে প্রতিবছর প্রচুর গরু বিক্রি হলেও এবার দেখা যাচ্ছে ভিন্ন চিত্র।

মঙ্গলবার সরেজমিন এ মাঠে গিয়ে দেখা যায় এবারো প্রচুর গরু ছাগল এ হাটে উঠেছে। তবে বিক্রি একবারেই কম হচ্ছে।

চারখাই থেকে পাঁচটি গরু নিয়ে এমসি একাডেমির হাটে এসেছেন জব্বার আহমদ নামের এক বিক্রেতা। তিনি বলেন, ‘আমি পাঁচটি গরু নিয়ে এই হাটে এসেছি। প্রতিবার এ সময় বাজার অনেক জমে উঠতো এবার তেমন বিক্রি হচ্ছে না। দু-একজন এসে গরু দেখে, দাম শুনে চলে যাচ্ছেন।

তিনি বলেন, গতবার যে মাপের গরু দেড় লাখ টাকায় বিক্রি করেছি এবার সেই গরু এক লাখ টাকাও দাম বলছে না ক্রেতারা। এমন পরিস্থিতিতে আমরা যারা দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে গরু এনেছি তারা খুবই সমস্যা পড়েছি।’

রামধা এলাকা থেকে গরু নিয়ে এসেছেন খলিল মিয়া। তিনি বলেন, ‘এবার এখনও ক্রেতারা হাটে আসেননি। যারা আসছেন তাদের বেশির ভাগই ছোট গরু খুঁজছেন। তুলনামূলক বড় গরুর দরদামও করছেন না কেউ। ক্রেতাদের চাহিদা এবার ছোট গরু। আমরা আটটি গরু এনেছি মাঝারি সাইজের। কিন্তু খুবই চিন্তায় আছি এবার আদৌ কি আমাদের গরু বিক্রি হবে? সব মিলিয়ে এবার ভয় পাচ্ছি।’

পৌর এলাকার মাহমুদ আহমদ নামের একজন এমসি একাডেমি মাঠে সবচেয়ে বড় গরু নিয়ে এসেছেন। গরুটি তিনি শখ করে ২বছর ধরে লালন পালন করেছিলেন। এবার ভালো দামের আশায় তিনি হাটে নিয়ে আসলেও আশানুরুপ দাম পাচ্ছেন না। তিনি এই গরুটির জন্য ৩লাখ দাম চাইলেও এখন পর্যন্ত ২লাখ ২০ হাজার টাকা দাম হাকাচ্ছেন ক্রেতারা। তাই তিনি গরু বাড়িতে নিয়ে যাচ্ছেন।

বিজ্ঞাপন



কোরবানির গরু কেনার উদ্যেশ্যে ভাদেশ্বর ইউনিয়নের মীরগঞ্জ থেকে এসেছেন জিল্লুর রহমান নামে এক ব্যবসায়ী। তিনি বলেন, ‘প্রতি বছর দেড় লাখ টাকার মধ্যে গরু কিনি। কিন্তু এ বছর করোনার কারণে ব্যবসায়িক অবস্থা খারাপ। যেহেতু কোরবানি দিতেই হবে, তাই তুলনামূলক কম দামের গরু কিনতে চাই। এ বছর বাজেট ৬০ থেকে ৮০ হাজার। আমার মতো অধিকাংশ মানুষই এবার ছোট গরু কিনবে।’

রফিক আহমদ নামের আরেক ক্রেতা জানান, করোনা সংকটে আর্থিক অবস্থা প্রায় সবার খারাপ। গত ঈদে গরু কোরবানি দিলেও এবার তিনি ছাগল কিনবেন। তবে গরু ও ছাগলের দাম বেশি বলেও জানান তিনি।

এ হাটের ইজারাদার আব্দুল কাদির জানান, মাঠে অনেক গরু ছাগল উঠেছে। বিভিন্ন স্থান থেকে ব্যবসায়ীরা পশু নিয়ে এসেছেন। তবে বিক্রি একেবারেই কম হচ্ছে। শেষ পর্যন্ত বাজার এভাবে থাকলে অনেক টাকা লোকসান গুনতে হবে।

জানা যায়, এবার গোলাপগঞ্জ উপজেলায় কোরবানি উপলক্ষে ৩টি স্থানীয় ও ৭টি অস্থায়ী ছোট বড় পশুর হাট বসেছে। উপজেলার প্রতিটি পশুর হাটেই এবার করোনার প্রভাব পড়েছে। এতে করে ইজারাদার ও ব্যবসায়ীরা চিন্তায় রয়েছেন।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.