Sylhet Today 24 PRINT

বড়লেখায় দিনের বেলা একের পর এক চুরিতে আতঙ্ক চাকরিজীবী পরিবারে

তপন কুমার দাস, বড়লেখা |  ১৭ অক্টোবর, ২০১৫

চাকরিজীবী পরিবারের কেউ সাধারণ দিনের বেলা বাসায় থাকেন না। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে  মৌলভীবাজারের বড়লেখা পৌর শহরে বেপরোয়া হয়ে উঠছে 'চোর সিন্ডিকেট'।

দিন দুপুরে একের পর এক দুঃসাহসিক চুরির ঘটনা ঘটেই চলেছে। স্বর্ণের দোকান, কলেজ অধ্যক্ষ, সরকারি কর্মচারী, প্রবাসীর পর এবার কলেজ শিক্ষকের বাসায় শনিবার দুপুরে চোরেরা সফল অপারেশন চালিয়ে স্বর্ণালঙ্কার, টাকাসহ প্রায় ৪ লাখ টাকার মালামাল নিয়ে গেছে।

অভিযোগ উঠেছে পুলিশ ভিন্ন অভিযোগে অভিযুক্ত লোককে গ্রেফতার করে চুরির মামলায় আদালতে চালান করছে। ফলে আসল চোরেরা অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে আর পুলিশ অন্ধকারেই হাবুডুবু খাচ্ছে।

জানা গেছে, পৌর শহরের মিনিবাস স্ট্যান্ড সংলগ্ন বাসায় বসবাস করেন নারীশিক্ষা একাডেমী ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক বেলাল উদ্দিন ও স্ত্রী একই কলেজের স্কুল শাখার শিক্ষিকা ফেরদৌসী খানম। শনিবার সকালে শিক্ষক দম্পতি বাসায় তালা দিয়ে ছেলেকে স্কুলে পাঠিয়ে কর্মস্থলে চলে যান। স্কুল ছুটির পর বেলা দেড়টার দিকে ছেলে বাসায় গিয়ে দেখে তালা ভাঙ্গা, দরজা জানালা খোলা। খবর পেয়ে বাসায় ছুটেন শিক্ষক দম্পতি। গিয়ে দেখেন ড্রয়ার ভেঙ্গে চোরেরা ৩০ হাজার টাকা, ৯ ভরি স্বর্ণালঙ্কার, একটি মোবাইল ফোনসেটসহ প্রায় ৪ লাখ টাকার মালামাল নিয়ে গেছে।
এর একদিন পূর্বে বৃহস্পতিবার পানিধার এলাকার কাতার প্রবাসী জালাল উদ্দিনের বাসায় ঢুকে চোরেরা ৪৫ হাজার টাকা ও আনুমানিক ১২ ভরি স্বর্ণালঙ্কার চুরি করে নিয়ে যায়। কয়েকদিন আগে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের হিসাব রক্ষক সেলিম রাজা রুনু, নারীশিক্ষা একাডেমি ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ হারুন-উর-রশীদের বাসায় এবং পৌরশহরের একটি জুয়েলারি দোকানে দুঃসাহসিক চুরি সংঘটিত হয়।

এদিকে গত মাসে বড়লেখা হাসপাতালের হিসাব রক্ষক বদরুল ইসলামের বাড়িতে ডাকাতি হয়। চুর ডাকাতের ভয়ে নিজ গৃহ ছেড়ে শহরের একটি বাসা ভাড়া করে উঠেছেন হাসপাতালের এ হিসাব রক্ষক।   

দিন দুপুরে একের পর চুরির ঘটনায় জনমনে উদ্বেগ আতঙ্ক বিরাজ করেছে। বিশেষ করে চাকুরীজীবী পরিবারে চরম হতাশা দেখা দিয়েছে। চোরদের টার্গেট যেন চাকুরীজীবী পরিবার। জানা গেছে, দিনের বেলা তালাবন্ধ ঘরেই চুরির ঘটনা ঘটছে।

ভুক্তভোগীরা জানান, অহরহ চুরি ডাকাতির ঘটনায় পুলিশ নিজেদের দায় এড়াতে অধিকাংশ ক্ষেত্রে নিরপরাধ এবং কোন কোন ক্ষেত্রে ভিন্ন অভিযোগে ধরে আনা মানুষকে চুরির মামলায় আদালতে চালান করছে। এতে আসল চোররা পার পেয়ে যাচ্ছে। প্রকৃত চোরদের ব্যাপারে পুলিশ অন্ধকারে হাবুডুবু খাওয়ায় চুরির ঘটনা বেড়েই চলেছে।

এ বিষয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মনিরুজ্জামান জানান, পুলিশ সাধ্যমত চেষ্টা করছে। ইতিমধ্যে চুরির ঘটনায় সম্পৃক্ত থাকার সন্দেহে কয়েকজন চোরকে আটক করা হয়েছে। এ চোর চক্রকে ধরতে মাঠ পর্যায়ে সোর্স ও গোয়েন্দা নজরদারী বৃদ্ধি করা হয়েছে। শিগ্রই এ চোর চক্রকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হবে। তবে নিরপরাধ ব্যক্তিকে চুরির মামলায় আদালতে চালানের ঘটনাটি সঠিক নয় বলে তিনি জানান।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.