নিজস্ব প্রতিবেদক | ১৮ অক্টোবর, ২০১৫
তখন বেলা প্রায় পৌনে ১২ টা। রাজন হত্যা মামলার প্রধান আসামী কামরুল ইসলামকে নিয়ে আদালত চত্বরের গারদ থেকে এজলাসের দিকে রওয়ানা দেয় পুলিশ। এসময় আদালত চত্বরে জড়ো হওয়া বিক্ষোব্দ জনতা ফাঁসি ফাঁসি বলে শ্লোগান শুরু করে। অনেকে কামরুলের দিকে তেড়েও যায়। তবে কড়া পুলিশী নিরাপত্তার কারণে কামরুলের কাছাকাছি পৌছতে পারেনি জনতার বিক্ষোভ। এসময় বিক্ষোব্দদের অনেকে কামরুলের দিকে জুতা ছুঁঁতে মারে।
মামলার সাক্ষ্য গ্রহণে প্রথমবারের মতো আদালতে হাজির হয়েই জনতার ক্ষোভ দেখলো সৌদি আরব পালিয়ে থাকা রাজন হত্যা মামলার প্রধান আসামী কামরুল।
সৌদি থেকে বৃহস্পতিবার তাকে দেশে আনা হয়। এরপর শুক্রবার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হয়। আজকেই প্রথমবারের মতো মামলার নির্ধারিত তারিখে আদালতে হাজির করা হয় কারুলকে।
এর আগে সকাল ৯টায় সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে কামরুলসহ অন্য আসামিদের কড়া নিরাপত্তায় আদালতপাড়ায় নিয়ে আসা হয়।
এদিকে আজ রবিবার দুপুর ১২টা থেকে রাজন হত্যা মামলার শেষ কার্যদিবসের সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়েছে। আদালতে সাক্ষ্য দিচ্ছেন মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক সুরঞ্জিত তালুকদার।
রাজন হত্যা মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামিরা হলেন, কামরুল ইসলাম, তার ভাই মুহিদ আলম, আলী হায়দার, শামীম আহমদ (পলাতক), তাজ উদ্দিন আহমদ বাদল, ময়না চৌকিদার, রুহুল আমিন, দুলাল আহমদ, নগরীর জালালাবাদ থানার পূর্ব জাঙ্গাইল গ্রামের নিজাম উদ্দিনের ছেলে ভিডিওচিত্র ধারণকারী নুর মিয়া, ফিরোজ মিয়া, আছমত উল্লাহ, জাকির ওরফে পাভেল ওরফে রাজু (পলাতক) ও আয়াজ আলী।
এর আগে গত ১৫ অক্টোবর বৃহস্পতিবার বিকেল ২ টা ৫৭ মিনিটে বাংলাদেশ বিমানের ০৪০ উড়োজাহাজে করে পুলিশের তিন কর্মকর্তা কামরুলকে নিয়ে সৌদি আরব থেকে হজরত শাহজালার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফেরেন। কাস্টমস ও ইমেগ্রেশনের প্রক্রিয়া শেষ করে বিকাল চারটার দিকে কড়া পুলিশি পাহারায় তাকে নিয়ে সিলেট আনা হয়।
উল্লেখ্য,গত ৮ জুলাই সিলেট নগরীর কুমারগাঁওয়ে শিশু সামিউল আলম রাজনকে কামরুলের নেতৃত্বে পিটিয়ে নৃশংস ভাবে হত্যা করা হয়।