Sylhet Today 24 PRINT

বিয়ানীবাজার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স: যন্ত্রপাতি ও লোকবল সংকটে ব্যাহত স্বাস্থ্যসেবা

শাবুল আহমেদ, বিয়ানীবাজার |  ১৮ অক্টোবর, ২০১৫

ডাক্তার, নার্স, যন্ত্রপাতি-লোকবলসহ নানা সমস্যা ও সংকটের ভেতর দিয়ে চলছে বিয়ানীবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স’র স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম। ১৯৬৬ সালে প্রতিষ্ঠিত বিয়ানীবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ২০০৯ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হলেও ডাক্তার-নার্সসহ বিভিন্ন পদে জনবল কাঠামো বৃদ্ধি পায়নি ফলে দিন দিন ব্যাহত হচ্ছে চিকিৎসা সেবা।

প্রায় সাড়ে ৩ লক্ষাধিক জনবসতিপূর্ণ বিয়ানীবাজার উপজেলার ৫০ শয্যার এই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রসুতি বিভাগে টানা ষষ্ঠবার সিলেট বিভাগের সেরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পুরস্কার জিতলেও হাসপাতালটি ধুকছে লোকবল ও পরীক্ষণ যন্ত্রের সংকটে। সেবাখাতে নানা সীমাবদ্ধতার কারণে রোগীদের প্রয়োজনীয় সেবা প্রদানে দায়িত্বশীলদের পাশাপাশি প্রসুতি রোগীসহ সাধারণ রোগীদের ভোগান্তি দিন দিন বাড়ছে।

বিয়ানীবাজার উপজেলা হাসপাতালের উপর নির্ভর করেন বিয়ানীবাজার ছাড়ও বড়লেখা, জকিড়ঞ্জ, জুড়ি, কানাইঘাট ও গোলাপগঞ্জর উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকার মানুষ। ফলে প্রসুতি ওয়ার্ড ও সাধারণ ওয়াডের নির্ধারীত শয্যায় রোগীদের সংকুলান না হওয়ায় বাধ্য হয়ে হাসপাতালের মেঝেতে আশ্রয় নেন। আর রোগ নির্ণয়ের জন্য রোগীদের বাইরের প্রতিষ্ঠানগুলোর উপর বেশী নির্ভর করতে হচ্ছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ২১ পদের মধ্যে শিশু, সার্জারি, চক্কু, মেডিসিন, নাক-কান-গলা, এনেস্থেশিয়া বিভাগের কোন ডাক্তার নেই। বর্তমানে ১৫ জন ডাক্তার কর্মরত থাকলেও ‘ডেপুটেশনে’ আছেন ৩জন। নার্স’র ৪টি পদ শূন্য। এছাড়া পরীক্ষণ যন্ত্র আলট্রাসনোগ্রাম থাকলেও নেই ‘টেকনিশিয়ান’, স্থাপনের পর ১০ বছর থেকে বিশ লাখ টাকার এক্সরে মিশিনটি বিকল পড়ে আছে, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একমাত্র এম্বুল্যান্সটিও বিকল, প্যাথলজিস্ট না থাকায় ওই বিভাগের প্রয়োজনীয় সামগ্রী মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার পথে, দুই মাস পূর্বে সরকার নতুন একটি জেনারেটর হাসপাতালকে প্রদান করলেও এর জন্য প্রয়োজনীয় ঘর না থাকায় এটি ব্যবহৃত হচ্ছে না।

শনিবার দুপুরে হাসপাতালে সেবা নিতে আসা প্রসুতি ডলি আক্তারের স্বামী আবদুল আহাদ বলেন, ‘আলট্রসনোগ্রাম বাইরে করিয়েছি। শুনেছি যন্ত্র থাকলেও টেকনিকশিয়ান না থাকায় এটি অচল পড়ে আছে। বৃহস্পতিবার রাতে ছেলে সামিকে (৮) হাসপাতালের জরুরী বিভাগে নিয়ে আসে রোকিয়া বেগম। খেলতে গিয়ে ডান হাতের বুড়ো আঙ্গুল কেটে গেছে। কিন্তু জরুরী বিভাগে কোন সার্জন না থাকায় তাকে বাইরের ক্লিনিকে যেতে হয়েছে। আঙ্গুলটির এক্স-রেও করাতে হয়েছে বাইরে।

অন্যদিকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রয়েছেএকটি এ্যাম্বুলেন্স। পুরাতন হয়ে যাওয়ায় এই এ্যাম্বুলেন্স দিয়ে কোনো রকমে চলছে হাসপাতালের কাজ। মাঝে মধ্যে এটি নষ্ট হয়ে গেলে রোগী দুর্ভোগ পোহাতে হয়। এছাড়া ৫০ শয্যার হাসপাতালের জন্য এম্বুলেন্স’র পাশাপাশি পিকআপ মাইক্রোবাস থাকা প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, বিগত জোট সরকারের আমলে ২০০৫ সালের ৪ আগস্ট হাসপাতালে এক্সরে মেশিন স্থাপন করা হলেও তা একবারও চালু করার সম্ভব হয়নি। অন্যদিকে ২০০৯ সালের ১৯ মে ইসিজির মেশিনটি স্থাপন করা হলে একই বছরের ১৮ অক্টোবর তা বিকল হয়ে পড়ে। মেরামতের জন্য ঢাকায় পাঠানো হলেও মেশিনটি আর সচল করা সম্ভব হয়নি। কারিগরি সমস্যার কারণে এক্স-রে মেশিনসহ উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন যন্ত্রপাতিগুলো ঠিকমত ব্যবহার করা যাচ্ছে না বলে জানালেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোয়াজ্জেম আলী খান।

জনবল ও যন্ত্রপাতি সংকটসহ বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরে বিয়ানীবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা (টিএইচও) ডা. মোয়াজ্জেম আলী খান বলেন, সিলেট এম এ জি ওসমানি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরই সিলেট বিভাগের ৫/৬ উপজেলার রোগীরা বিয়ানীবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেন। তিনি বলেন, ‘লোকবল সংকট ও যন্ত্রের সল্পতার কারণে হাসপাতালের সুনাম ধরে রাখা আমাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আমরা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে আসছি। আশা করি শীঘ্রই এ বিষয়গুলোর সমাধান হলে আমাদের সেবার মান আরো বেশী বৃদ্ধি হবে।’

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.