জাহিদুল ইসলাম | ১৮ আগস্ট, ২০২০
ফাইল ছবি
সারাবিশ্ব যখন করোনা ভাইরাসের সংক্রমণে দিশেহারা তখন তিন দফা বন্যায় নাকাল সিলেটের আট উপজেলার নিম্নাঞ্চলের মানুষ। করোনার কারণে যেখানে কাজের সুযোগ সীমিত সেখানে বন্যা যেন মরার উপর খাঁড়ার ঘা। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষ। আয় রোজগার হারিয়ে পথে বসেছেন অনেকে।
মে মাসের প্রথম সপ্তাহে শুরু হওয়া বন্যা প্রায় একমাস পর্যন্ত স্থায়ী হওয়ায় সঙ্কটে পড়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষেরা। তলিয়ে গেছে কৃষি জমি, ফসলের মাঠ, গবাদি পশুর চারণভূমি, মাছের খামার ও রাস্তাঘাট।
কৃষি সম্প্রসারণ অফিস সূত্রে জানা গেছে, সিলেটের ৮ উপজেলায় কেবলমাত্র কৃষিখাতেই ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ২৫ কোটি টাকা। ২২৮৩ হেক্টর আউশ ধান, ১১৭ হেক্টর রোপা আমনের বীজতলা এবং ১৩৬ হেক্টর জমির শাক-সবজিসহ মোট ২৫৩৬ হেক্টর জমির ফসল পুরোপুরি বিনষ্ট হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ১৯ হাজার ৪৯১ জন কৃষক। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ভেসে গেছে ৯৮৯ টি পুকুর ও দীঘির মাছ ও পোনা। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন প্রায় সাড়ে সাতশ খামার মালিক।
ভেসে যাওয়া মাছের পোনা আর অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হিসেব করলে শুধু মৎস্য খামরিদের ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪ কোটি ৫৮ লাখ টাকার মতো। এছাড়া বসতবাড়ি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে অনেকের। এখন পানি নেমে গেলেও স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে বেশ খানিকটা সময় অপেক্ষা করতে হতে পারে তাদের। তবে আয় রোজগার না থাকায় চরম দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে বানভাসীদের। সরকারি সহায়তা ছাড়া ঘুরে দাঁড়ানো কঠিন হবে বলে মত দিয়েছেন অনেকেই।
সিলেটে বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন উত্তরপূর্ব সীমান্তবর্তী গোয়াইনঘাট ও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা। বন্যা চলাকালীন সময়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ত্রাণ বিতরণ করা হলেও বর্তমানে তা নেই। আর এতে অসহায় জীবনযাপন করছেন এ অঞ্চলের বন্যা কবলিতরা।
বিজ্ঞাপন
সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার আজির উদ্দিন নামের এক কৃষক জানান, তার কয়েক বিঘা জমির আউস ধান তলিয়ে গেছে প্রথম দফার বন্যায়। পাহাড়ি ঢলে আকস্মিক পানি বেড়ে যাওয়ায় কিছুই করার ছিল না।
তিনি বলেন, করোনার কারণে এমনিতেই আর্থিক সমস্যায় আছি, তার উপর বন্যায় সব ভাসিয়ে নিয়ে গেল। এখন পানি নেমে গেলেও নতুন করে যে শুরু করবো তার উপায় নেই। সরকার যদি কিছুটা সাহায্য বা অনুদান দেয়, তা নাহলে আর চলার উপায় নেই।
সিলেটের কোম্পানিগঞ্জ উপজেলার সাদাপাথর নৌঘাটের ব্যবসায়ী আবুল হোসেন জানান, আমার ছোট্ট দোকান ভারতীয় সাবান, শ্যাম্পু আর চা বিক্রি করে সংসার চলে। করোনার কারণে পর্যটক আসা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এতোদিন জমানো টাকা ভেঙেই সংসার চালিয়েছি। কিন্তু বন্যায় বসতভিটাও ভেঙ্গেচুরে গেছে। গত কয়দিন হলো পর্যটক আসতে শুরু করেছে, কিন্তু আমার সেই পুঁজিও নেই যে আবার নতুন করে শুরু করবো। এ অবস্থায় সরকারি সহায়তা না পেলে ঘুরে দাঁড়ানো মুশকিল হবে।
তবে কোম্পানিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমন আচার্য বলেন, আমাদের টিম এখনো যথেষ্ট আন্তরিকতার সাথে কাজ করছে। বন্যা চলাকালীন সময়ে সকল জনপ্রতিনিধিদের সাথে নিয়ে বাড়ি বাড়ি ত্রাণ পৌঁছে দেয়া হয়েছে। বন্যা পরবর্তী দ্রুতততম সময়ের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করে জেলা প্রশাসন এবং জেলা ত্রাণ ও দুর্য়োগ ব্যবস্থাপনা দপ্তরে প্রেরণ করা হয়েছে। আশা করছি দ্রুততম সময়ের মধ্যেই বারদ্দ পাওয়া যাবে।
তিনি আরো বলেন, আমার উপজেলায় ইতিমধ্যেই গবাদি পশুর খাদ্য, বীজতলা ইত্যাদি বরাদ্দ পৌঁছে দেয়া হয়েছে। সরকারি সহায়তার বরাদ্দ পাওয়া মাত্রই তা বিতরণ করা হবে বলে জানান তিনি।