Sylhet Today 24 PRINT

রাস্তার সংস্কার কাজে চেয়ারম্যানের ‘গড়িমসি’, দুর্ভোগে গ্রামবাসী

কানাইঘাট প্রতিনিধি |  ২২ আগস্ট, ২০২০

সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার ৯ নং ওয়ার্ডের সড়কে হাল ফিরবে এমন আশ্বাস প্রদানের মাধ্যমে গত বছরের নভেম্বর মাসে ওয়ার্ডের রাস্তার ইট সলিং তুলে নেন ইউপি চেয়ারম্যান মামুন রশিদ। ওয়ার্ডের মাষ্টার আনিসুল আলমের বাড়ির সামনে থেকে সুতার গ্রাম জামে মসজিদ পর্যন্ত ইট সলিং তুলে নেয়ায় বর্ষা মৌসুমে দুর্ভোগে পড়েছেন এলাকাবাসী।

সড়কের এমন বেহাল দশা থেকে মুক্তি পেয়ে অবিলম্বে রাস্তা সংস্কারের দাবিতে সরব হয়েছেন এলাকাবাসীরা। যদিও তাদের অভিযোগ, একাধিকবার ইউপি চেয়ারম্যান বিষয়টি জানিয়েও সুরাহা হয়নি সমস্যার। একইসাথে চেয়ারম্যান মামুন রশিদের উপর রাস্তা সংস্কারের কাজে গড়িমসির অভিযোগ করছেন তারা।

স্থানীয়দের সাথে আলাপকালে জানা গেছে, কানাইঘাট সদর ইউপির ৯নং ওয়ার্ডের সুতার গ্রামের জামে মসজিদের রাস্তা পাকাঁকরনের আশ্বাসে ইট তুলান চেয়ারম্যান মামুন রশিদ এবং ওয়ার্ডের মাসিক উন্নয়ন সভায় কথা দেন যত কাঁচা রাস্তা তা নতুন করে মেরামত না হয় পাকাঁকরণ করবেন তিনি। বর্তমানে এক বছর পার হলেও এখনও কোন কাজের দেখা নেই। এ বিষয়ে সদর ইউপির চেয়ারম্যান মামুন রশিদের সাথে অনেকবার এলাকাবাসী যোগাযোগ করে রাস্তার কাজ ধরানোর তাগিদ দেন। কিন্তু তিনি বলেন করোনাভাইরাসে কাজের শ্রমিক পাচ্ছেন না। পরবর্তীতে করেনাভাইরাসের প্রভাব কিছুটা কমার পর অনেকবার যোগাযোগ করলেও তিনি বলেন, এ সপ্তাহের মধ্যে কাজ শুরু হবে, আবার মেশিন পাওয়া যাচ্ছে না, কোন সময় অন্য কাজে ব্যস্ত আছি এভাবে নানা তালবাহানায় দিন পার করছেন।

এদিকে একাধিক এলাকাবাসী অভিযোগ করে বলেন, ‘যদি এত টালবাহানা করার যদি ইচ্ছা ছিল তবে ইট সলিং তোলার কি দরকার ছিল। চলাচলের জন্য আগের রাস্তাই অনেক উপযোগী ছিল।’

বিজ্ঞাপন

এছাড়া কানাইঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর অভিযোগ দায়ের করেন স্থানীয় বাসিন্দা মো. আব্দুল্লাহ। তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘চেয়ারম্যান মামুন রশিদ সুতার গ্রাম আনিসুল আলমের বাড়ি হইতে মসজিদ পর্যন্ত পাকাঁকরণ না করে এই কাজ অন্য জায়গায় কাজ করানোর জন্য  প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন। যদিও তিনি ওয়ার্ড উন্নয়ন সভায় অনেক মুখের বুলি শুনিয়েছেন। সভার কয়েকদিন পরই মসজিদের রাস্তার ইট তুলান। দ্রুত পাঁকাকরণ করার জন্য, কিন্তু এক বছর পেরিয়ে গেলেও এখনও কাজ করাননি । আমি গ্রামের একজন সচেতন যুবক হিসাবে (ইউএনও) বরাবরে অভিযোগ দায়ের করি।’

এ বিষয়ে চেয়ারম্যান মামুন রশিদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘রাস্তার জন্য সরকারী কোন বরাদ্দ আসেনি। ইউপি ফান্ড থেকে রাস্তা করার জন্য নিজে উদ্যোগ নেই।’

ইট তুলার ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ঐ সময় কাজ করানোর জন্য ইট তুলেছিলাম, কিন্তু পরে করোনা মহামারী চলে আসল এ সময় কোন শ্রমিক পাওয়া যায়নি এবং এখানে মাল সরবরাহ করার জন্য বড় গাড়ি যাওয়ার কোন ব্যবস্থা নেই বালু পাথর নিতে ছোট ট্রলি করে নিতে হবে। বর্ষার সময় থাকায় রাস্তায় ট্রলি দেবে যেতে পারে তাই কিছুটা দিন ভালো করলেই রাস্তার কাজ শুরু হবে।’

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.