তাহিরপুর প্রতিনিধি | ২৩ আগস্ট, ২০২০
সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে উপজেলার জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ সভাপতি আবুল খায়ের ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি শফিকুল ইসলাম গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনায় অর্ধশতাধিক লোকজন আহত হয়েছে।
এ সংঘর্ষের সময় বাজারের আতঙ্কিত শতাধিক ব্যবসায়ীরা তাদের প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখে। এরপর থেকে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন রয়েছে।
আবুল খায়ের পক্ষের আহতরা হলেন, আবুল খায়ের, মনসাদ, মনির হোসেন, জাকারিয়া, সেলিম, আশরাফুল, আব্দুল্লাহ, পারভেজ, কোকিল মিয়া, জাফর আলী, গোলকপুর, হবিব মিয়া, জাফর আলী, আরিফ, রফিক মিয়া, আল ইসলাম, সাইবুল, সাইকুল, হাবিবুল, সাদিকুল, সবুজ মিয়া, উকিল মিয়া প্রমুখ।
এর মধ্যে পারভেজ, কোকিল মিয়া, জাফর আলীকে সুনামগঞ্জ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।
অপর দিকে, শফিকুলের পক্ষের আহতরা হলেন, সুয়েল, জাকির হোসেন, কামরুল, কিবরিয়া, শোভা মিয়া, আলফাজ, ফকির আলম, কাবিল মিয়া, সেনাজুল, সিরাজুল, হৃদয়, শামীম, শাহ জাহান, জবরুল, আকিকুল, দুলাল, শোয়েব প্রমুখ।
শনিবা বিকাল চারটা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত উপজেলার উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়নের বালিয়াঘাট নতুন বাজারে উপজেলার উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়নের গোলকপুর গ্রামের বাসিন্দা জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ সভাপতি আবুল খায়ের ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি এবং ৫নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য একই গ্রামের অমৃতপুরের বাসিন্দা শফিকুল ইসলাম এ দুই নেতার সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে দু’দফায় থানা ও ফাঁড়ি হতে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে এলোপাতাড়ি লাটিচার্জ করলে সংঘর্ষে জড়িতরা সন্ধায় বাজার ছেড়ে চলে যায় বলে জানান তাহিরপুর থানার ওসি মো.আতিকুর রহমান।
স্থানীয় এলাকাবাসী ও উপজেলার বালিঘাঘাট নতুন বাজারের ব্যবসায়ীরা জানান, উপজেলার গোলকপুর গ্রামের বাসিন্দা জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতা আবুল খায়ের ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি ইউপি সদস্য একই গ্রামের অমৃতপুরের বাসিন্দা শফিকুল ইসলামের মধ্যে স্থানীয়ভাবে আধিপত্য বিস্তার এবং গ্রাম পার্শ্ববর্তী শিংরার ধাইর নামক একটি জলমহাল নিয়ে পূর্ব বিরোধ চলে আসছিলো।
এই বিরোধের জের ধরে শনিবার সকালে বালিয়াঘাট বাজারে শফিকুল ইসলামের লোকজন ও আবুল খায়েরের লোকজন কথা-কাটাকাটিতে জড়িয়ে পড়ে।
এরপর বিকালে দেশীয় অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে তিন ঘন্টা ব্যাপী রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে তাহিরপুর থানার ওসির নেতৃত্বে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্যরা বাজারে পৌছে সংঘর্ষে জড়িত উভয়ে পক্ষের সমর্তকদের লাঠিচার্জ করে চত্রভঙ্গ করে দেয়।
গুরুতর আহত ২০ জনকে তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে ও তিন জনকে সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে রের্ফাড করা হয়েছে।
সংর্ঘষের ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে তাহিরপুর থানার ওসি মোঃ আতিকুর রহমান বলেন, সংঘর্ষের আশংকায় জনস্বার্থে উপজেলার বালিয়াঘাট বাজারে সন্ধার পর হতে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।