সিলেটটুডে ডেস্ক | ২৫ আগস্ট, ২০২০
মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার দলই চা বাগানের চা শ্রমিকদের একঘরে করে রাখা হয়েছে। কেউ তাদের কাজ দিচ্ছে না। সীমান্তুবর্তী এই চা বাগানের চা শ্রমিকরা পড়েছেন বিপাকে। যেখানেই যাচেছন সেখানেই দলই চা বাগান কর্তৃপক্ষ ফোন করে কাজ না দেওয়ার কথা বলার অভিযোগ আছে। অন্যদিকে উপায় না পেয়ে মামলা প্রত্যাহার ও দলই বাগান খুলে দেয়ার দাবিতে অনশন কর্মসূচি পালন করেছে দলই চা-বাগানের শ্রমিকরা।
সেই সাথে উত্তেজিত শ্রমিকরা (২৪ আগস্ট) দুপুরের পর থেকে বিকাল পযন্ত কমলগঞ্জ উপজেলা কার্যালয় সম্মুখের রাস্তা অবরোধ করে গাড়ি চলাচল বন্ধ করে দেয়। পরে রাত ১১টা পযন্ত কমলগঞ্জ উপজেলা কার্যালয়ের প্রদান ফটকে অবস্থান নেয়।
নারী শ্রমিক খোদেজা বেগম বলেন, চা বাগানটি গত ২৮ দিন থেকে কাজ নেই। তাই আমরা প্রথম থেকে আশপাশের বিভিন্ন চা বাগানে কাজ করতে যাই পরিবার চালানোর আশায়। কিন্তু প্রথমে অগোচরে কাজ পেয়েছিলাম। তবে পরে চা বাগান কর্তৃপক্ষ বিষয়টি জেনে সবাইকে না করে দেয়। এরপর থেকে কেউ আমাদের কাজ দেয় না। এখন আমরা নিরুপায়। এখন আমরা একঘরে।
চা শ্রমিক নমি কুর্মী জানান, আমাদের চা বাগানের পাশেই ভারতের তারের বেড়া ও বীরশেষ্ঠ হামিদুর রহমানের স্মৃতিসৌধ। তাই এই বাগানে নেটওয়ার্ক নেই। মৌলভীবাজার জেলা শহর থেকে প্রায় ৫০ কি.মি. দূরে।
আমাদের বাগানের পাশেই পাত্রখলা চাবাগান, চাম্পারায় চা বাগান, হোসনাবাদ চা বাগান। সেই চা বাগানে প্রায় শ্রমিক লাগে তখন আমরা যায়। অথচ গত ২৫ দিন থেকে আমাদের কেউ কাজে নিতে চাই না। শুধু বলে কাজে নিলে করোনা ছড়াবে। দলই চা বাগানের নাম শুনলেই বলছে কাজ নেই।
চা শ্রমিক আশ্রামা মান্দ্রাজি বলেন, গতকাল আন্দোলন থেকে এসে পানি ভাত খেয়েছিলাম। এখন পযন্ত আর ভাত খায়নি। লবন দিয়ে লাল চা খেয়েই আছি। আমার পরিবারের মানুষজন বড় অসহায়। তিনি বলেন, শুধু আমরা না স্থায়ী ও অস্থায়ী মিলে হাজার খানিক শ্রমিক ও তাদের পরিবারের একই অবস্থা।
নাম প্রকাশ অনিচ্ছুক এক চা বাগানের কর্তৃপক্ষ বলেন, আমাদের শ্রমিক দরকার তবে দলই কতৃপক্ষ না বলাতে আমরা বাইরের কোন শ্রমিক কাজে নিচ্ছি না।
সকল অভিযোগ অস্বীকার করে চা বাগানের ব্যবস্থাপক আমিনুল ইসলাম বলেন, চা শ্রমিকরা মিথ্যাচার করছে। এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা কথা। তিনি বলেন, দলই চা বাগানের বিষয়ে আজ বিকালে মিটিং আছে।
চা শ্রমিক নেত্রী গীতা রানী কানু বলেন, দীর্ঘ ২৮ দিন বন্ধ কমলগঞ্জের দলই চা বাগান। বেআইনি ও উস্কানিমূলক নোটিশ প্রত্যাহারসহ দায়েরকৃত মিথ্যা মামলা নিঃশর্ত প্রত্যাহার করে দলই চা বাগান চালুর দাবিতে চা শ্রমিকদের আন্দোলন। বাগানের সৃষ্ট সমস্যা চা- বাগান খুলে দেওয়ার দাবিতে দলই বাগান থেকে প্রায় ২০ কি.মি. পথ লংমার্চ করে সমস্যার সমাধান না হওয়া পর্যন্ত কমলগঞ্জ উপজেলা চত্বরে চা শ্রমিকদের অবস্থান নেয় ।
তিনি বলেন, রাত বারোটায় আমরা কমলগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান অধ্যাপক রকিকুর রহমানের অনুরোধে আমাদের আন্দোলন দুইদিন এর জন্য স্থগিত করেছি। এর ভিতরে দলই চা বাগান এর ম্যানেজার প্রত্যাহারপূর্বক বাগান চালুকরণ ও শ্রমিক নেতাদের উপর থেকে মামলা প্রত্যাহার না করা হলে জেলা প্রশাসক এর কার্যালয় এর সামনে অবস্থান ধর্মঘটসহ ঢাকা-সিলেট রেলপথ অবরোধ করা হবে। এটা শ্রমিকের জীবন মরণ সমস্যা। এখানে কাউকে ছাড় দেয়ার সুযোগ নেই ৷