Sylhet Today 24 PRINT

অনলাইন ক্লাস করাতেও স্কুলে যেতে হয় শিক্ষকদের!

ব্রিটিশ বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ

নিজস্ব প্রতিবেদক |  ০৫ সেপ্টেম্বর, ২০২০

করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যখন বন্ধ রয়েছে, তখন প্রতিদিনই স্কুলে যেতে হচ্ছে সিলেটের ব্রিটিশ বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ (বিবিআইএসসি)-এর শিক্ষকদের। অনলাইনে ক্লাস নেওয়ার জন্য প্রতিদিন স্কুলে হাজির হতে হচ্ছে তাদের।

সম্প্রতি অনলাইন ক্লাস নেওয়ার জন্য শিক্ষকদের স্কুলে যাওয়ার নির্দেশ প্রদান করে বিবিআইএসসি কর্তৃপক্ষ। এই নির্দেশ না মানলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের চাকুরিচ্যুত করার হুমকি দেওয়া হয়।

এ অবস্থায় চাকরি বাঁচাতে ঝুঁকি নিয়েই প্রতিদিন স্কুলে হাজির হচ্ছেন বিসিআইএসসির শিক্ষকরা। অনলাইন ক্লাসের জন্য স্কুলে হাজির হওয়া বাধ্যবাধ্যতামূলক করায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তারা।

এরআগে করোনা পরিস্থিতির মধ্যে অভিভাবকরা বেতন দিতে না পারায় ইংরেজি মাধ্যমের কয়েকশ’ শিক্ষার্থীদের বার্ষিক পরীক্ষার ফলাফল আটকে রাখে আলোচনায় আসে নগরের মদিনা মার্কেট এলাকার এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এ নিয়ে সমালোচনার মধ্যে এবারে অনলাইনে ক্লাস নেওয়ার জন্য স্কুলের অর্ধশতাধিক শিক্ষককে স্কুলে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

করোনা সংক্রমণের আশঙ্কায় গত ১৭ মার্চ থেকে সারাদেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। সর্বশেষ শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে সারাদেশে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আগামী ৩ অক্টোবর পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এই সময়ে অনলাইনে বিভিন্ন অ্যাপের মাধ্যমে শিক্ষকরা বাসায় বসে শিক্ষার্থীদের পড়াচ্ছেন; যাতে সরকারের অনুমোদন রয়েছে। এ ছাড়া স্বাস্থ্যবিধি মেনে শুধু প্রশাসনিক কাজ ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অফিস খোলা রাখার সুযোগ রয়েছে। গত ৩১ জুন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের উপ-সচিব মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন এই নির্দেশনায় সাক্ষর করেন। সরকারি এই নির্দেশনাকে অমান্য করে বিবিআইএসসি শিক্ষকদের স্কুলে যেতে বলেছে।

বিজ্ঞাপন



এতদিন ধরে স্কুল বন্ধ থাকলেও বিবিআইএসসি’র শিক্ষকরা কর্তৃপক্ষের নির্দেশে বাসায় থেকে অনলাইনে শিক্ষার্থীদের ক্লাস নেন। কয়েকজন শিক্ষক জানান, জুম অ্যাপের মাধ্যমে শিক্ষকরা নিজেদের বাসাবাড়িতে থেকে ক্লাস নিয়েছেন। এক্ষেত্রে যেকোন সময়ে ভার্চুয়াল ক্লাসে যোগ দিয়ে নজরদারির সুযোগ রয়েছে। এরপরও শিক্ষকদের ‘নজরদারির’ কথা বলে ১ সেপ্টেম্বর থেকে সবাইকে স্কুলে উপস্থিত হয়ে অনলাইনে ক্লাস নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়। সাপ্তাহিক বন্ধের দুইদিন ছাড়া প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত ক্লাস নেওয়া হচ্ছে। এতদিন বাসায় থেকে ক্লাস নিয়েছিলেন শিক্ষকরা। ১ সেপ্টেম্বর থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে হাজির হতে হচ্ছে তাদের।

বিসিআইএসসিতে বাংলা মাধ্যমে জাতীয় শিক্ষাক্রম এবং ইংরেজি মাধ্যমে ব্রিটিশ শিক্ষাক্রমে পড়ানো হয়। এই দুই মাধ্যম মিলে ৬০ জনের মত শিক্ষক রয়েছেন; যাদের সবাই একসঙ্গে স্কুলে উপস্থিত হওয়ায় করোনা সংক্রমণের আশঙ্কা করা হচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্কুলের একজন শিক্ষিকা বলেন, ‘করোনা পরিস্থিতির মধ্যে সরকার সকল স্কুল-কলেজ বন্ধ রেখেছেন। আমাদের স্কুল কি এই আইনের বাইরে। তিনি বলেন, এনিয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করলেও তারা যুক্তি মানছেন না।’

এ ব্যাপারে একজন শিক্ষক বলেন, বিবিআইএসসি আমাদের প্রতিষ্ঠান; আমরা প্রতিষ্ঠানকে ভালোবাসি। আমরা মনের আনন্দে স্কুলে যেতে চাই। করোনা পরিস্থিতির মধ্যে যাওয়া ঝুঁকিপূর্ণ। পরিবারের সদস্যদেরও ঝুঁকির মধ্যে ফেলতে হচ্ছে।

আরেকজন শিক্ষিকা বলেন, ‘স্কুল কর্তৃপক্ষ ব্যাংকসহ সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান খোলার যুক্তি দিচ্ছেন। সরকারি প্রতিষ্ঠানের কেউ সংক্রমিত হলে বা মারা গেলে ক্ষতিপূরণের সুযোগ রয়েছে। আমাদের কেউ মারা গেলে তো কর্তৃপক্ষ শোক প্রকাশ করেই দায়িত্ব সারবেন।’ তিনি বলেন, ‘পরিবারের উপার্জনক্ষমদের কিছু হলে পরিবারের দায় কে নেবে। কর্তৃপক্ষকে তা বলার পরও কাজ হয়নি।’

জেষ্ঠ্য একজন শিক্ষক বলেন, অনলাইনে ক্লাস থাকলেও অনেক অভিভাবক বেতন দিচ্ছেন না। এই অবস্থায় আমাদের (শিক্ষক) স্কুলে নিয়ে কর্তৃপক্ষ বিজ্ঞাপন করতে চাইছেন যে- ক্লাস নিচ্ছি, বেতন দাও।

এ ব্যাপারে বিবিআইএসসি’র অধ্যক্ষ জাহাঙ্গীর আহমেদ চৌধুরীর সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি রিসিভ করেননি। একাধিক শিক্ষক জানিয়েছেন, অধ্যক্ষ বর্তমানে ছুটিতে রয়েছেন।

উপাধ্যক্ষ নাজভিন আক্তার শিক্ষকদের স্কুলে গিয়ে অনলাইনে ক্লাস নেওয়ার সিদ্ধান্তের ব্যাপারে কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি।

বিবিআইএসসি’র নির্বাহী পরিচালক মো. কাওসার জাহান বলেন, ‘করোনাকালীন সময়ে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা হচ্ছে না। এর মধ্যে অনেক শিক্ষক অনলাইন ক্লাসে ফাঁকি দিচ্ছেন। এই ফাঁকিবাজি বন্ধ করার জন্য সবাইকে স্কুলে এসে অনলাইনে ক্লাস নিতে বলা হয়েছে।’ তিনি বলেন, কিছুদিন আগে বেতন নিয়ে আমাদের অনেক বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হয়েছে। নতুন করে আর সমস্যায় পড়তে চাই না। তিনি বলেন, কারও যদি স্বাস্থ্যগত সমস্যা থাকে, তাহলে চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র দেখালে ছুটি দেওয়া হবে।

আরেক প্রশ্নের জবাবে কাওসার জাহান বলেন, ‘সরকার তো স্কুলে উপস্থিত হয়ে অনলাইনে ক্লাস নিতে নিষেধ করেননি।’

এ বিষয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অ‌ধিদপ্ত‌রের সিলেট বিভাগীয় উপ-প‌রিচালক (ভারপ্রাপ্ত) জাহাঙ্গীর কবীর আহাম্মদ ব‌লেন, ‘এটা সরকা‌রি নিয়ম অমান্য করা। স্কু‌লে একস‌ঙ্গে সব শিক্ষক‌কে ডে‌কে পাঠা‌নোর সু‌যোগ নেই।’

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.