Sylhet Today 24 PRINT

সুনামগঞ্জে পর্যটন স্পটগুলো মাত্রাতিরিক্ত ভাড়া আদায়

যানবাহন ও খাবারের অতিরিক্ত মূল্য নিয়ন্ত্রণে মাঠে নেই প্রশাসন

তাহিরপুর প্রতিনিধি  |  ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২০

করোনাকালেও হাওরাঞ্চল খ্যাত সুনামগঞ্জে পর্যটন স্পটগুলোর সৌন্দর্য উপভোগ করতে আসছেন পর্যটকরা । ভ্রমণপিপাসু পর্যটকদের বিশেষভাবে আকর্ষণ করছে এখানকার টাংগুয়ার হাওর, শিমুল বাগান, জাদুকাটা নদী, বারেকটিলা। তাহিরপুর উপজেলা পর্যন্ত বিস্তৃত পানির বুক চিড়ে নৌকায় বয়ে চলা পর্যটন এলাকায় প্রতিদিন হাজারো পর্যটকের ঢল নামছে। আসছেন অনেক বিদেশি পর্যটকও। তবে কোনো রকম নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা না থাকায় নৌকা, স্পিডবোট ও মোটরবাইকের অতিরিক্ত ভাড়া এবং হোটেলে খাবারের অতিরিক্ত মূল্য আদায় করায় পর্যটকদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। উপরন্তু গাড়ি পার্কিং, মোটেল এবং প্রয়োজনীয় শৌচাগার না থাকায় পরিবার নিয়ে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে পর্যটকদের।

জানা যায়, উপজেলার টাংগুয়ার হাওর পাড়ের গ্রামগুলো ভাঙনের কবল থেকে রক্ষায় অসংখ্য করচ গাছ লাগানো হয়েছে। বর্ষায় এই এলাকা পানিতে কানায় কানায় ডুবে যায়। তখন দিগন্ত বিস্তৃত এক ভিন্ন রকম নৈসর্গিক সৌন্দর্যে রূপ নেয়। হাওরের উত্তাল ঢেউয়ের দৃশ্য, নৌকা ও স্পিডবোটে ঘুরে বেড়ানো, আর করচবনের শীতল ছায়ায় পর্যটকরা ঘুরে বেড়ান। বর্ষায় পর্যটকদের কাছে ভিন্ন রূপে ধরা দেয় টাংগুয়ার হাওর। কিন্তু জল ও সড়কযানের এমন পকেটকাটা ভাড়া এবং খাদ্যসামগ্রীর অতিরিক্ত মূল্য আদায় এই সম্ভাবনাময় পর্যটন শিল্পকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাচ্ছে বলে মনে করছেন ভুক্তভোগীরা।

এখানে আসা ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করে জানান, হাওরের জিনিসপত্রের এমন দাম চাওয়া হয়,যা সারা দেশের অন্য অঞ্চলকে ছাড়িয়ে গেছে। আর ওখানকার মানুষজনেরা পর্যটকদের টাকার মেশিন মনে করছেন। তাহিরপুর উপজেলা থেকে টাংগুয়ার হাওর, শহীদ সিরাজ লেক, যাদুকাটা নদী, বারেকটিলা নৌকা ভাড়া প্রকার ভেদে একদিনে ৭ হাজার থেকে ১২ হাজার আর একরাত দুদিন ১৬ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত ভাড়া নেওয়া হয়। এতো বেশি নৌকা ভাড়া দেশের আর কোথাও আছে কিনা তাদের জানা নেই মন্তব্য করে তারা বলেন, মনে হচ্ছে, আমাদের দেশের পর্যটন শিল্পকে ধ্বংস করার জন্য আমরা নিজেরাই দায়ী।

উপজেলার সচেতন মহল জানান, উপজেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ কমিটির মাধ্যমে নৌযানগুলোর ভাড়া এবং খাদ্যসামগ্রী মূল্য নির্ধারণের জন্য সংশ্লিষ্টদের ডেকে উপযুক্ত মূল্য নির্ধারণ করে চার্ট টাঙিয়ে দেয়া হলে আগত পর্যটক ও দর্শনার্থীরা উপকৃত হবে। আর প্রশাসনের কঠোর নজরদারী রাখা প্রয়োজন, না হলে আগত পর্যটক দর্শনার্থীদের দুর্ভোগ শেষ হবে না।

ভ্রমণপিপাসু পর্যটক শরীফ মিয়া নামে একজন টাংগুয়ার হাওরসহ পর্যটন এলাকায় ঘুরতে আসা মাত্রাতিরিক্ত নৌকা ভাড়া আদায় নিয়ে ক্ষোভ ঝাড়েন। তিনি অভিযোগ করে বলেন, এমন সম্ভাবনাময় পর্যটন এলাকায় থাকার যোগ্য আবাসিক হোটেল নেই, নেই পর্যটন এলাকায় উপযুক্ত শৌচাগারের ব্যবস্থা। এসব কারণেই পর্যটন এলাকায় আসতে পর্যটকদের নিরুৎসাহিত করার জন্য যথেষ্ট।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পদ্মাসন সিংহ জানান, অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার কারণে নৌচালকদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

উপজেলা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান করুনা সিন্ধু চৌধুরী বাবুল জানান, লাইফ জ্যাকেটসহ প্রয়োজনীয় জীবন রক্ষামূলক ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে নৌযান মালিক ও ব্যবসায়ীদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আর ভাড়া বেশি নেওয়ার বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.