তপন কুমার দাস, বড়লেখা | ২৯ জানুয়ারী, ২০১৫
অন্য জেলার বাসিন্দা হয়ে মৌলভীবাজার জেলা কোটায় বড়লেখা উপজেলার দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা দেখিয়ে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকতা পদে চাকুরী নিতে চলছেন এক ব্যক্তি। এতে ওই চাকুরী প্রার্থী বড়লেখার দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়নের সুজাউল গ্রামের ঠিকানা ব্যবহার করলেও ভোটার তালিকায় তার নাম না থাকা এবং স্থানীয়রাসহ জনপ্রতিনিধিরাও ওই নামের কাউকে চিনেন না বলে জানা গেছে।
উপজেলার সুজাউল গ্রামের ঠিকানা ব্যবহার করা ওই প্রার্থীর নাম মোস্তাক আহমদ। পিতার নাম আলফিন আলী, মাতার দেলোয়ারা বেগম। উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা পরীক্ষা ২০১৪ইং এর লিখিত পরীক্ষায় মোস্তাক আহমদ রোল নং-১৬৯২৯ উত্তীর্ণ হয়েছেন। ভূয়া ঠিকানা ব্যবহার করে চাকুরী নেওয়ার পাঁয়তারার বিষয়ে জনৈক এক প্রার্থী বড়লেখা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরে লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউপি চেয়ারম্যান বরাবরে ২৭ জানুয়ারি কাগজপত্র, রেজিষ্টার ও বাস্তব অবস্থা পর্যালোচনা পূর্বক মতামতসহ প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য আদেশ প্রদান করেন। নির্বাহী কর্মকর্তার আদেশের প্রেক্ষিতে দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউপি চেয়ারম্যান তদন্ত ক্রমে মোস্তাক আহমদ, পিতা: আলফিন আলী, মাতা: দেলোয়ারা বেগম নামে কোন লোক নাই মর্মে প্রতিবেদন প্রেরণ করেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, অন্য জেলার বাসিন্দা মোস্তাক আহমদ বড়লেখা উপজেলার দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউপির ঠিকানা ব্যবহার করে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকতা পদে চাকুরী নিতে চলছেন। এ বিষয়টি ধরা পড়ে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা পরীক্ষা ২০১৪ইং এর ফলাফল প্রকাশিত হবার পর। জনৈক প্রার্থীর দেওয়া অভিযোগের প্রেক্ষিতে তার দেওয়া ঠিকানা অনুযায়ী মোস্তাক আহমদ, পিতা: আলফিন আলী, মাতা: দেলোয়ারা বেগম, গ্রাম সুজাউল নামের স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে কাউকে পাওয়া যায়নি।
সরেজমিনে গিয়ে স্থানীয়দের ও ইউনিয়ন পরিষদের জনপ্রতিনিধির কাছ থেকে জানা গেছে, মোস্তাক আহমদ, পিত: আলফিন আলী, মাতা: দেলোয়ারা বেগম, গ্রাম সুজাউল উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা পদে চাকুরীর জন্য বড়লেখার যে ঠিকানা ব্যবহার করেছেন প্রকৃত পক্ষে মোস্তাক আহমদ সুজাউল গ্রামের বাসিন্দা নন।
এ প্রসঙ্গে সুজাউল গ্রামের বাসিন্দা ও ২নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আব্দুল আজিজ জানান, যে নামে তাদের ইউনিয়নের বাসিন্দা পরিচয় দিয়েছে তিনি তাকে চিনেন না, তার নাম ভোটার তালিকায় নেই এমনকি সে ওই ইউনিয়নের বাসিন্দাও নয়। এছাড়া তাকে ইউনিয়নের নাগরিক সনদও দেওয়া হয়নি।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ মোহাম্মদ আমিনুর রহমান ভূয়া ঠিকানা ব্যবহারের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, জনৈক এক প্রার্থীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে ভূয়া ঠিকানা ব্যবহারের বিষয়টি তদন্তে ধরা পড়ে। ভূয়া ঠিকান ব্যবহারের বিষয়ে ইউপি চেয়ারম্যানের পাঠানো প্রতিবেদনটি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট প্রেরণ করা হবে।