Sylhet Today 24 PRINT

সড়ক নয় যেনো আলপথ

৩ কিলোটিমটার সড়কের জন্য দুর্ভোগে গোলাপগঞ্জের হাজারো মানুষ

জাহিদ উদ্দিন, গোলাপগঞ্জ: |  ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২০

সিলেটের গোলাপগঞ্জের বাদেপাশা ইউনিয়নের উত্তর আলমপুরের আলমপুর-মাসুরা (খুর্শিদের খেয়াঘাট) সড়ক এখন বিলীন হওয়ার পথে। এ সড়কটিতে উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি প্রায় দুই যুগ ধরে। আলমপুর খালের ভাঙ্গনে প্রায় ৩ কিলোমিটার সড়ক এখন অস্তিত্ব সংকটে। একের পর এক রাস্তাটি বিলীন হয়ে গেলেও সংস্কারে নেই কোন উদ্যোগ। এতে দুর্ভোগে রয়েছেন কয়েকটি গ্রামের হাজারো মানুষ।

এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা যায়, উপজেলার উত্তর বাদেপাশা ও ভাদেশ্বর এ দুই ইউনিয়নের মাঝ দিয়ে বয়ে গেছে উত্তর আলমপুরের আলমপুর-মাসুরা (খুর্শিদের খেয়াঘাট) সড়ক। সড়কটি আধা কিলোমিটার বাদেপাশা ইউনিয়নের অধীনে থাকলেও আড়াই কিলোমিটার ভাদেশ্বর ইউনিয়নের অধীনে রয়েছে। এ সড়ক দিয়ে ছিলিমপুর, খাটাকালির পাড়, কুশিয়ারা পুলিশ ফাঁড়ি, কোনাগাঁও, উত্তর আলমপুর, কুলিয়া, কেউটকোনা, রাকুয়ারবাজার, দক্ষিণ আলমপুর, বাগলা, সুপারটেক, সোনার পাড়া ও কালাইন সহ বেশ কয়েকটি গ্রামের কয়েক হাজার লোকজন যাতায়াত করেন।

বিজ্ঞাপন



ভাঙ্গণের কারণে সড়কটি ক্রমেই বিলীন হওয়ার ফলে শিক্ষার্থীসহ এসব এলাকার সকল  বাসিন্দারা দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। কোন রোগী নিয়ে আসতে হলে পলো কিংবা বাশের মাচাং দিয়ে পায়ে হেটে ৩কিলোমিটার রাস্তা আসতে হয়। অনেক গর্ভবর্তী নারীর প্রসব হয়েছে সড়কে। রাস্তা না থাকার ফলে কৃষকরা শহরে এনে ফসল বিক্রি করতে পারছেন না। ফলে বিশাল এ এলাকার কৃষি জমি রয়েছে পতিত অবস্থায়।

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, সংস্কারের অভাবে সড়কটি এখন অস্তিত্ব সংকটে। দীর্ঘদিন সড়কটি উন্নয়নের ছোঁয়া না লাগায় সরু আলপথে পরিণত হয়েছে। পাশ দিয়ে ভয়ে যাওয়া আলমপুর খালের ভাঙ্গনে বিলীন হওয়ার উপক্রম সড়কটির।

মাসুরা গ্রামের বায়োবৃদ্ধ কৃষক আরব আলী আক্ষেপ করে বলেন, এক সময় আলমপুরের এই রাস্তা দিয়ে যানবাহনও চলাচল করতো। এখন যানবাহন চলাচল দূরের কথা মানুষ চলাচল কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে।

উত্তর আলমপুর গ্রামের প্রবাসী ফারুক আলী বলেন, আমরা প্রবাসে থাকি। কিন্ত এলাকার এসে যখন রাস্তাঘাটেত এই অবস্থা দেখি তখন আর এলাকায় আসতে মন চায় না। রাস্তা না থাকার ফলে আমরা পায়ে হেটে ৩ কিলোমিটার যাতায়াত করতে হয়।

ছিলিমপুর গ্রামের হাফিজ আব্দুল হক বলেন, আমাদের দুর্গতির কোন শেষ নেই। এলাকাবাসী বিভিন্ন জায়গায় ধরনা দিয়েও আমাদের এ রাস্তাটি মেরামতে কেউ এগিয়ে আসছে না।

এদিকে গত ৯ সেপ্টেম্বর আলমপুরের আলমপুর-মাসুরা (খুর্শিদের খেয়াঘাট) সড়ক সংস্কারের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে আদেবদন করেন এলাকাবাসী। এরপর উপজেলা নির্বাহী বর্মকর্তা মামুনুর রহমান ও উপজেলা প্রকৌশলী মাহমুদুল হাসান এ রাস্তাটি পরিদর্শন করেন।

এ ব্যাপারে উপজেলা প্রকৌশলী মাহমুদুল হাসান বলেন, রাস্তাটি পরিদর্শন করেছি। এখন সার্ভে করে মন্ত্রণালয়ে একটি প্রস্তাবনা পাঠাবো এবং স্থানীয় এমপিকে মহোদয়কেও এ বিষয়ে অবহিত করা হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মামুনুর রহমান জানান, রাস্তাটি আসলেই অস্তিত্ব সংকটে সরেজমিন পরিদর্শনে গিয়ে বুঝতে পেরেছি। শিগগিরই মেরামতের জন্য মন্ত্রণলয়ে প্রস্তাব পাঠানো হবে।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.