Sylhet Today 24 PRINT

আর কত পেছাবে অনন্ত হত্যা মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ?

নিজস্ব প্রতিবেদক |  ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২০

কিছুতেই হাজির করা যাচ্ছে না বিজ্ঞানলেখক অনন্ত বিজয় দাশ হত্যা মামলার সাক্ষীদের। ফলে বারবার পিছিয়ে যাচ্ছে চাঞ্চল্যকর এই মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ। সর্বশেষ রোববার (২২ সেপ্টেম্বর) আবার পিছিয়েছে। এদিন রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষীদের সাক্ষ্যগ্রহণের তারিখ থাকলেও সাক্ষীরা হাজির হননি।

সাক্ষীরা অনুপস্থিত থাকায় আগামী ৬ অক্টোবর সাক্ষ্যগ্রহণের পরবর্তী তারিখ ধার্য করেছেন আদালত। সাক্ষীরা হাজির না হওয়ায় চলতি বছরে এখন পর্যন্ত একবারও এই মামলার সাক্ষগ্রহণ সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছেন মামলার সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে, মঙ্গলবার এই মামলার কারাবন্দি আসামি আবুল খায়ের রশীদ আহমদের সিলেটের সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালে জামিন আবেদন করেন। তবে বিচারক মো. নুরুল আমিন বিপ্লব জামিন নামঞ্জুর করে দেন।

ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) আবদুল মজিদ খান জানান, এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষীদের সাক্ষ্যগ্রহণের তারিখ ছিল মঙ্গলবার। কারাবন্দি আসামি আবুল খায়েরকে আদালতে হাজির করা হলে তার পক্ষের আইনজীবী জামিন আবেদন করলে বিচারক জামিন নামঞ্জুর করেন। এর আগে গত ৮ জুন ভার্চ্যুয়াল আদালতে আবুল খায়েরের জামিন আবেদন করা হলেও জামিন নামঞ্জুর করেছিলেন বিচারক।

তিনি বলেন, সাক্ষীদের হাজির করতে না পারায় মঙ্গলবারও সাক্ষ্যগ্রহণ করা সম্ভব হয়নি।

বিজ্ঞাপন



নানা জটিলতায় গতিহীন হয়ে পড়া এই মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে চলতি বছরের সন্ত্রাসবিরোধী ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হয়। তবে এখানে এসেও মামলার কার্যক্রমে গতি আসছে না। বরং আগের মতই বারবার পিছিয়ে যাচ্ছে তারিখ।  এরআগে গত ২৫ জুন মামালার সাক্ষ্যগ্রহণের তারিখ পিছিয়ে যায়।

গণজাগরণ মঞ্চের অন্যতম সংগঠক অনন্ত বিজয় দাশের ভগ্নিপতি অ্যাডভোকেট সমর বিজয় সী শেখর জানান, চাঞ্চল্যকর এই মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ বারবার পিছিয়ে যাচ্ছে। রাষ্ট্রপক্ষ সাক্ষীদের হাজির করতে পারছে না। করোনাভাইরাসের কারণে এমনিতেই অনেকদিন আদালতের কার্যক্রম বন্ধ ছিলো। দীর্ঘ বিরতি দিয়ে মামলার তারিখ পড়লেও সাক্ষ্যগ্রহণ করা সম্ভব হচ্ছে না।

তিনি বলেন, মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য সন্ত্রাসবিরোধী অপরাধ দমন বিশেষ ট্রাইব্যুনালে স্থান্তরের পরও কার্যক্রমে গতি পাচ্ছে না।

প্রসঙ্গত, ২০১৫ সালের ১২ মে সিলেটে খুন হন লেখক ও ব্যাংকার অনন্ত বিজয় দাশ। ঘটনার দিন সকাল সাড়ে ৮টার দিকে অনন্ত বিজয় দাশকে নগরীর বনকলাপাড়ার নূরানী আবাসিক এলাকার নিজ বাসার সামনে কুপিয়ে হত্যা করে ধর্মীয় দুর্বৃত্তরা।

সুবিদবাজারের রবীন্দ্র কুমার দাশ ও পীযূষ রানী দাশের দুই মেয়ে ও দুই ছেলের মধ্যে অনন্ত ছিলেন সবার ছোট। শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সমাজকর্ম বিষয়ে মাস্টার্স করার পর সুনামগঞ্জের জাউয়াবাজারে পূবালী ব্যাংকের ডেভেলপমেন্ট অফিসার হিসেবে যোগ দেন তিনি।

হত্যাকাণ্ডের দিনই অনন্তের বড় ভাই রত্নেশ্বর দাশ বিমানবন্দর থানায় অজ্ঞাত চারজনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। বিজ্ঞান বিষয়ে লেখালেখির কারণে অনন্তকে ‘উগ্র ধর্মান্ধ গোষ্ঠী’ পরিকল্পিতভাবে খুন করেছে বলে এতে অভিযোগ করা হয়।

মামলাটি পুলিশ থেকে অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) স্থানান্তর হয়। সিআইডির পরিদর্শক আরমান আলী তদন্ত করে ২০১৭ সালের ৯ মে আদালতে সম্পূরক অভিযোগপত্র দাখিল করেন। এতে সন্দেহভাজন আটক ১০ জনকে অব্যাহতির সুপারিশ করে ৬ জনকে অভিযুক্ত করা হয়।

অভিযুক্ত ৬ জন হলেন- সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার আবুল হোসেন (২৫), খালপাড় তালবাড়ির ফয়সাল আহমদ (২৭), সুনামগঞ্জের তাহিরপুরের বীরেন্দ্রনগরের (বাগলী) মামুনুর রশীদ (২৫), কানাইঘাটের পূর্ব ফালজুর গ্রামের মান্নান ইয়াইয়া ওরফে মান্নান রাহী ওরফে এবি মান্নান ইয়াইয়া ওরফে ইবনে মঈন (২৪), কানাইঘাটের ফালজুর গ্রামের আবুল খায়ের রশীদ আহমদ (২৫) ও সিলেট নগরের রিকাবীবাজার এলাকায় বসবাসকারী সাফিউর রহমান ফারাবী ওরফে ফারাবী সাফিউর রহমান (৩০)।

বিজ্ঞাপন



এর মধ্যে আবুল, ফয়সাল ও হারুন পলাতক। ফারাবী ব্লগার অভিজিৎ রায় হত্যা মামলারও আসামি। অভিযুক্ত আসামিদের মধ্যে মান্নান রাহী আদালতে অনন্ত হত্যার দায় স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছিলেন। ২০১৭ সালের ২ নভেম্বর মান্নান হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে ঢাকার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে কারা হেফাজতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

গত বছরের ৭ মে সিলেটের অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতে এই মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। কিন্তু সাক্ষীদের অনুপস্থিতির কারণে বারবার পেছানো হয় সাক্ষ্যগ্রহণ। ফলে এখন পর্যন্ত এই মামলার আশাব্যঞ্জক কোনো অগ্রগতি হয়নি। দীর্ঘদিন সিলেটের অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতে মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ চলার পর সম্প্রতি মামলাটি সন্ত্রাস বিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়েছে।

সন্ত্রাস বিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালে পাঠানোর পর গত ২৪ মার্চ এই মামলার সাক্ষ্যগ্রহণের কথা ছিল। কিন্তু করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারণে ছুটি ঘোষণা করায় ওইদিন সাক্ষ্যগ্রহণ হয়নি। আদালত সূত্রে জানা গেছে, এই মামলায় মোট ২৯ জন সাক্ষীর মধ্যে ১২ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে। এখনও বাকি আছে ১৭ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ।

মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি এমাদ উল্লাহ শহিদুল ইসলাম বলেন, এ মামলায় কারাবন্দি দুই আসামির মধ্যে সিলেট কারাগারে আছেন শুধু আবুল খায়ের। সাক্ষ্যগ্রহণের নির্ধারিত তারিখে তাকে আদালতে হাজির করা হলেও সাক্ষীরা অনুপস্থিতি ছিলেন। এ জন্য সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য ৬ অক্টোবর নতুন তারিখ ধার্য করা হয়।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.