Sylhet Today 24 PRINT

গ্রন্থাগারের বিরোধিরা ইডিয়ট : অর্থমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক |  ২২ অক্টোবর, ২০১৫

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত বলেছেন, গণগ্রন্থাগার সব শ্রেণি পেশার মানুষের জ্ঞানার্জনের সর্বোত্তম মাধ্যম। একাডেমিক পড়া নির্ধারিত নিয়ম মেনে পড়তে হয়। কিন্তু গ্রন্থাগার সব মানুষের জন্যে সব সময় খোলা। সবাইকে সে উন্মুক্তভাবে জ্ঞানের অলো বিতরণ করে। এই গ্রন্থাগার প্রতিষ্ঠার পথে যারা বাধা সৃষ্টির চেষ্টা করে তারা ইডিয়ট।

বাংলা একাডেমির ফেলো, ব্যারিস্টার নুরুল ইসলামের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত ‘দক্ষিণ সুরমা গণন্থাগার’র ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে বৃস্পতিবার প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। এই গ্রন্থাগারের ভূমি নিয়ে স্থানীয় এলাকার এক ব্যক্তি সংবাদ সম্মেলনের প্রসঙ্গে এমন কথা বলেন অর্থমন্ত্রী। কারও নাম না নিয়ে তিনি বলেন, আমার কাছে একজন এই বিষয়ে কথা বলতে গিয়েছিলেন। আমি স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছি, আপনাদের কোনো দাবি থাকলে আগে সেটা আইনিভাবে প্রতিষ্ঠা করেন।

এটা না করে সংবাদ সম্মেলন করাকে ন্যাক্কারজনক আখ্যা দিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, আমি জানি নুরুল ইসলাম তার ভূমিতেই গ্রন্থাগার প্রতিষ্ঠা করছেন।

সদরখলা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তৃতাকালে অর্থমন্ত্রী তাঁর ছাত্রজীবন, গ্রন্থাগারের প্রতিষ্ঠাতা নুরুল ইসলামের সাথে পরিচয় ও বন্ধুত্ব, ওই সময়কার আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতক প্রেক্ষাপট তুলে ধরতে গিয়ে তাঁর বিস্তৃত স্মৃতির অর্গল খুলে ধরেন। অর্থমন্ত্রী বলেন, আমাদের ছাত্রজীবন ছিল আনন্দ-উচ্ছ্বাসে ভরপুর। একই সাথে ছিল উত্তালও। কারণ ওই সময়ই স্বাধীনতার (ভারত ভেঙে পাকিস্তান সৃষ্টি) চূড়ান্ত প্রক্রিয়া শুরু হয়।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ১৯৪১ থেকে ’৪৯ পর্যন্ত ছিল আমার স্কুল জীবন। সিলেট গভমেন্ট ইংলিশ স্কুলে (বর্তমান পাইলট স্কুল) সপ্তম শ্রেণিতে (১৯৪৫ সাল) নুরুল ইসলামের সাথে পরিচয় হয়। এরপর এক সাথে ’৪৯ সালে তারা মেট্রিক পাশ করেন। অর্থমন্ত্রী বলেন, পাকিস্তান আমলে ১৪৪ ধারার বেশ অপব্যবহার হত। ব্যক্তি বিশেষের ক্ষেত্রেও তৎকালীন প্রশাসন এই ধারা প্রয়োগ করত। তাঁর ব্রিটেন যাবার স্মৃতির কথা উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, তখন সময়টা ছিল এমন, কারও কাছে নয় শ’ টাকা থাকলেই সে লন্ডন যাবার চিন্তা করত। বাংলা থেকে মুম্বাই যাওয়া হত বিমানে। ওখান থেকে জাহাজে করে বিলাত। এতে খরচ পড়ত নয়শ’ টাকা।

সংস্কৃতকর্মী শামসুল ইসলামের সঞ্চালনায় ও গণগ্রন্থাগারের প্রতিষ্ঠাতা নুরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন, সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. জয়নাল আবেদিন, সাবেক সংসদ সদস্য শফিকুর রহমান চৌধুরী, সৈয়দা জেবুন্নেছা হক, দক্ষিণ সুরমা উপজেলার নির্বাহী কর্মকতা শাবস্ত্রী রায়, সিলেট মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির সাবেক ভিসি অধ্যাপক আব্দুল আজিজ, মদনমোহন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের প্রিন্সিপাল ড. আবুল ফতেহ ফাত্তাহ, দক্ষিণ সুরমা উপজেলার মোল্লারগাঁও ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মখন মিয়া প্রমূখ।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক জয়নাল আবেদীন গণগ্রন্থাগারের গুরুত্বের কথা উল্লেখ করে বলেন, এই গন্থাগার থেকেই আমার, আপনার সকলের সন্তান জ্ঞানের আলো পাবে। একে সবার সহযোগিতা করা দরকার। এসময়, সদরখলা স্কুলের উন্নয়নে অর্থমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে এই ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকতাকে অনুরোধ জানান তিনি। স্কুলের টিনশেড ঘর ভেঙে এখানে ভবন করে দেওয়ার জন্যে অর্থমন্ত্রীকে অনুরোধ করেছিলেন মোল্লারগাঁও ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মখন মিয়া।

সভাপতির বক্তব্যে নুরুল ইসলাম বলেন, অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিতের সাথে গণগ্রন্থাগার প্রতিষ্ঠা নিয়ে আমার বারবার কথা হয়েছে। তিনি আমাকে সর্বোৎভাবে সহযোগিতা করার আশ্বাস দিয়েছেন। এগিয়ে যেতে বলেছেন। সারাদেশে এইভাবে যাতে গণগ্রন্থাগার গড়ে ওঠে সেই ব্যাপারেও অর্থমন্ত্রীর সুনির্দিষ্ট চিন্তাভাবনা রয়েছে। তিনি জ্ঞানের প্রসারে খুবই আন্তরিক।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.