Sylhet Today 24 PRINT

লাউয়াছড়া উদ্যানে দুই বছরে মারা গেছে হাজারেরও বেশি সাপ

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি |  ২৩ অক্টোবর, ২০১৫

লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে ও এর আশপাশে দুই বছরে প্রায় এক হাজারেরও বেশি সাপ মারা গেছে বলে সম্পতি এক গবেষণায় বেরিয়ে এসেছে। উদ্যানের ভেতরে শ্রীমঙ্গল-ভানুগাছ সড়কে গাড়ি চাপায় ও ঢাকা-সিলেট রেললাইনে ট্রেনে কাটা পড়ে এসব সাপ মারা গেছে। এছাড়াও চা-বাগান ও উদ্যানের আশপাশের গ্রামের মানুষের হাতেও সাপ মারা পড়ছে।

এ ছাড়া বন ধ্বংসের কারণে ও বসতি গড়ে উঠায় সাপের অবাধ বিচরণের জায়গা কমে যাচ্ছে। লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে অজগর সাপ নিয়ে এক গবেষণায় সম্প্রতি এ তথ্য বেরিয়ে এসেছে।

এদিকে লাউয়াছড়ার আশপাশের আদিবাসী সম্প্রদায়ের লোকজন সাপসহ বিভিন্ন প্রজাতির জন্তু-জানোয়ার শিকার করে খাচ্ছে বলে একাধিক অভিযোগ থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের এ ব্যাপারে উদ্যোগ নেই।

জানা গেছে, ২০১১ সালের মে মাসে গবেষণার কাজ শুরু হয়। গবেষণার অংশ হিসেবে সাপের গতিবিধি পর্যবেক্ষণের জন্য সম্প্রতি একটি অজগর সাপের শরীরে ‘ট্রান্সমিটার’ স্থাপন করা হয়েছে। গবেষণার কাজে সহায়তা করছে বন বিভাগ, বেসরকারি সংস্থা ওরিয়ন সোসাইটি ও কারিনাম বাংলাদেশ।

জানা গেছে, গবেষণার কাজ চালাতে গিয়ে এ পর্যন্ত উদ্যানে ৩৯ প্রজাতির সাপের সন্ধান পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ঢোঁড়া, হিমালয়ের ঢোঁড়া, জুনিয়া, দাঁড়াশ, কালনাগিনী, দুধরাজ, সুতানলি ও সবুজ বোড়া প্রজাতির সাপের সংখ্যাই বেশি। এছাড়াও এখানে অজগর এবং গোখরাও (কিং কোবরা) রয়েছে।

গবেষক সূত্রে জানা গেছে, উদ্যানে কতো প্রজাতির সাপ আছে এবং কোন প্রজাতির সাপ বেশি ও কোন প্রজাতির কম, তা জানার জন্য দুই বছরের বেশি সময় ধরে গবেষণা পরিচালনা করা হচ্ছে। সম্প্রতি গবেষণা কাজ পরিচালনা করতে গিয়ে সাপ মারা যাওয়ার তথ্য পেয়েছেন গবেষক দলের সদস্যরা।

তারা জানান, বৈশাখ থেকে কার্তিক মাস পর্যন্ত সাপ বেশি চলাফেরা করে। গত দুই বছরে ওই সময় উদ্যান এলাকায় প্রায় এক হাজার মৃত সাপ পাওয়া গেছে। এর বাইরে চা-বাগান ও আশপাশের গ্রামগুলোতেও সাপ মারা পড়েছে।

গবেষকরা বলেন, সাপরক্ষার দায়িত্ব বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ বিভাগের। তাদের অবহেলাই এসব সাপের মৃত্যুর কারণ।

বাংলাদেশ অজগর গবেষণা প্রকল্পের প্রধান গবেষক শাহরিয়ার সিজার রহমান জানিয়েছেন, উদ্যানের একটি অজগরের শরীরে গত ১৩ জুলাই একটি ছোট ট্রান্সমিটার স্থাপন করা হয়েছে। এ সাপ কোথায় থাকছে, কোথায় যাচ্ছে, কখন নড়াচড়া করছে তা জানার জন্য এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ট্রান্সমিটারের বেতার সংকেতের মাধ্যমে জানা গেছে, অজগরটি এক মাসে দেড় কিলোমিটারের বেশি ভ্রমণ করেছে।

জাতীয় উদ্যানে সাপের বিচরণের জায়গা অনেক ছোট (১২৫০ হেক্টর)। অজগর এক বর্ষা মৌসুমেই ৪০ কিলোমিটার পথ ভ্রমণ করে। এটি বনমোরগ, হরিণ, ইঁদুর ইত্যাদি খেয়ে থাকে। এগুলো খেয়ে সাপ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে। সাপ কমে গেলে ফসলে ইঁদুর ও কীটপতঙ্গের আক্রমণ বেড়ে যাবে। কিং কোবরা অনেক বিষধর সাপ খেয়ে প্রকৃতিতে সাপের ভারসাম্য রক্ষা করে। এ সাপটি সংখ্যায় কমে যাচ্ছে। এতে বিষধর সাপের সংখ্যা বেড়ে যাবে।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.