নিজস্ব প্রতিবেদক | ০৫ অক্টোবর, ২০২০
সিলেটে হঠাৎ করেই বেড়ে গেছে ধর্ষণের ঘটনা। গত ১০ দিনে সিলেট বিভাগে অনন্ত ১০টি ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। গত ২৫ সেপ্টেম্বর সিলেটের এমসি কলেজের ছাত্রাবাসে এক তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ নিয়ে দেশজুড়ে সমালোচনার মধ্যেই এসব ধর্ষণের ঘটনা ঘটে।
শিশু থেকে গৃহবধূ- কেউই রেহাই পাচ্ছেন না ধর্ষকদের শিকার থেকে। এই সময়ে মা-মেয়েকে একসাথে ধর্ষণের অভিযোগও পাওয়া গেছে।
গত ২৫ সেপ্টেম্বর সিলেটের এমসি কলেজের ধর্ষণের শিকার হন এক তরুণী, ওইরাতেই হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে ঘরে ঢুকে মা-মেয়েকে ধর্ষণ করে দুই যুবক। গত ২৯ সেপ্টেম্বর সিলেট নগরীর দাড়িয়াপাড়ায় এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এছাড়া শনিবার (৪ অক্টোবর) রাতে সিলেট নগরীর শামিমাবাদে এক গৃহবধূ ও একই রাতে সিলেটের কোম্পানীগঞ্জে সাত বছরের এক শিশু ধর্ষণের অভিযোগে মামলা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশে যখন একটি অপরাধ নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয় তখন এরকম আরো অনেকগুলো ঘটনা একসাথে ঘটার প্রবণতা দেখা যায়। তাদের মতে, অন্য সময়ও এরকম অপরাধ ঘটে। তবে বেশিরভাগক্ষেত্রেই তা আলোচনায় আসে না বা ভূক্তভোগীরা মামলা করার সাহস পান না। কিন্তু একটি ঘটনা নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হলে তখন অন্যরাও মামলা করায় এগিয়ে আসেন। গণমাধ্যম বা সোশ্যাল মিডিয়ায়ও তখন এগুলো ফলাও করে প্রচার পায়। আবার এই সুযোগে দুএকজন মিথ্যে অভিযোগ এনে প্রতিপক্ষকে ফাঁসানোর চেষ্টাও করতে পারে, এমনটিও মনে করেন তারা।
তবে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সিলেটের সভাপতি ফারুক মাহমুদ চৌধুরীর মতে, দেশে বিচারহীনতার সংস্কৃতি তৈরি হওয়ায় একের পর এক এরকম ঘটনা ঘটছে। তিনি বলেন, বেশিরভাগক্ষেত্রেই দেখা যায় অভিযুক্তরা সরকার দলের নেতাকর্মী বা সরকার দলের নেতাদের আশীবার্দপুষ্ট। অপরাধ করলেও কোনো সাজা হবে না- তাদের মনে এরকম একটি ধারণার তৈরি হয়েছে। ফলে তারা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠেছে।
এমসি কলেজে তরুণী ধর্ষণ: গত ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে সিলেট মুরারী চাঁদ (এমসি) কলেজের ছাত্রাবাসে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হন এক তরুণী। স্বামীকে বেঁধে রেখে ওই তরুণীকে ধর্ষণ করা হয়। এ ঘটনায় ২৬ সেপ্টেম্বর তরুণীর স্বামী বাদী হয়ে ৬ জনের নাম উল্লেখ করে শাহপরান থানায় মামলা করেন। এরপর এজাহারভূক্ত আসামি সাইফুর রহমান, শাহ মাহবুবুর রহমান রনি, মাহফুজুর রহমান মাসুম, অর্জুন লস্কর, রবিউল ইসলাম, তারেকুল ইসলাম তারেক এবং সন্দেহভাজন হিসেবে আইনুল ও মো. রাজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরা সকলেই ছাত্রলীগের কর্মী। গ্রেপ্তারকৃত ৮ জনই আদালতে ধর্ষণের দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে।
চুনারুঘাটে মা-মেয়ে গণধর্ষণ: এমসি কলেজের ঘটনার রাতেই হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে ধর্ষণের শিকার হন মা-মেয়ে। ওই রাতে দুই যুবক তাদের বাসায় প্রবেশ করে একসাথে মা-মেয়েকে ধর্ষণ করে।পরদিন ধর্ষিতা মেয়ে বাদী হয়ে চুনারুঘাট থানায় মামলা করেন।
এরপর পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত শাকিল আহমেদ (২২) ও হারুন মিয়াকে (২৫) গ্রেপ্তার করে। সোমবার (৫ অক্টোবর) হবিগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সুলতান উদ্দিন প্রধানের আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন এই দুই আসামি।
দাড়িয়াপাড়ায় কিশোরী ধর্ষণ: সিলেটে নগরীর দাড়িয়াপাড়া এলাকায় এক কিশোরীকে (১৪) ধর্ষণের অভিযোগে গত শুক্রবার (২ অক্টোবর) কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন ওই কিশোরীর মা। মামলায় অভিযোগ করা হয়, বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে গত ২৯ সেপ্টেম্বর ওই কিশোরীকে বাসার ছাদে নিয়ে ধর্ষণ করেন রাকিবুল হোসেন নিজু নামের এক তরুণ। নিজু দাড়িয়াপাড়ায় এলাকার আব্দুল কাইয়ুমের ছেলে। তিনি ছাত্রলীগের কর্মী।
মামলা দায়েরের পর গত শনিবার (৩ অক্টোবর) সন্ধ্যায় সিলেটের মোগলাবাজার থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। সোমবার (৫ অক্টোবর) তার একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন সিলেট অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম জিয়াদুর রহমান।
শামীমাবাদে গৃহবধূ ধর্ষণ: গত শনিবার (৪ অক্টোবর) সন্ধ্যায় সিলেট নগরীর শামীমাবাদে নিজ বাসায় ৫ সন্তানের জননী এক গৃহবধূকে ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ অভিযোগ সোমবার সিলেট কোতোয়ালি থানায় মামলা করেছেন ওই গৃহবধূ। তিনি বর্তমানে ওসমানী মেডিকেল কলেজের হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার (ওসিসি)-এ ভর্তি আছেন।
বিজ্ঞাপন
এ ঘটনায় পুলিশ অভিযুক্ত দিলোয়ার (৪০) ও তার সহযোগী হারুন মিয়া (৩৫) কে গ্রেপ্তার করেছে। আরেক সহযোগী জামাল মিয়া এখনও পলাতক রয়েছেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই রেজাউল জানান, শামীমাবাদ এলাকার বাসায় স্বামী ও সন্তানদের নিয়ে বসবাস করতেন ওই নারী। শনিবার সন্ধ্যায় বাসার দ্বিতীয় তলার ভাড়াটে দিলওয়ার তার দুই সহযোগীকে নিয়ে তাকে ধর্ষণ করে।
কোম্পানীগঞ্জে শিশু ধর্ষণ: সিলেটের কোম্পানীগঞ্জে ৭ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের এক কিশোরকে (১৬) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, রোববার (৪ অক্টোবর) রাত ১১টার দিকে উপজেলার তেলিখাল ইউনিয়নের চাতালপাড় (বিলাজুর) গ্রামে ধর্ষণের এ ঘটনা ঘটে। ধর্ষণের শিকার শিশুর বাবা দরিদ্র কৃষক। রোববার রাতে বাসায় একা পেয়ে শিশুটিকে ধর্ষণ করে প্রতিবেশী কিশোর।
সোমবার (৫ অক্টোবর) সন্ধ্যার পর অভিযুক্ত কিশোরকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।