Sylhet Today 24 PRINT

জৈন্তাপুরে দলিল লেখক রফিকের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ

জৈন্তাপুর প্রতিনিধি  |  ০৭ অক্টোবর, ২০২০

সিলেটের জৈন্তাপুর সাব রেজিস্ট্রি অফিসের এক দলিল লেখকের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ তুলেছেন সেবাগ্রহীতারা। রফিক আহমদ নামের এই দলিল লেখক দীর্ঘদিন ধরে জমির ক্রেতা বিক্রেতাদের প্রতারিত করছেন বলেও অভিযোগ তাদের।

তাদের অভিযোগ, দিনের পর দিন দলিল লেখক রফিক আহমদের কারণে প্রতারিত হচ্ছে ভূমি ক্রেতা বিক্রেতারা। এতে সরকারও রাজস্ব হারাচ্ছে। রফিক আহমদ সরকার নির্ধারিত রাজস্ব ফাঁকি দিতে জমির শ্রেণি পরিবর্তন করে হেবা দলিল রেজিস্ট্রির অভিযোগ পাওয়া গেছে।
 
জানা যায়, গত ২৬ জুন উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের পনাটুক মৌজার জেএল নং ১৩৩ খতিয়ান নং ২৪৪ এর দাগ নং ৫ শ্রেণি পতিত এরিয়া ১ একর এর সরকারি মূল্য ৪ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা, যার রেজিস্ট্রি মূল্য ৪০ হাজার টাকা। এতে সরকারের রাজস্ব ফাকি দিতে গিয়ে পর্চায় পতিতের স্থানে আসরা উরা লিখে ভূমির মূল্য ১ লক্ষ টাকা লিখে রেজিস্ট্রি মূল্য ৭ হাজার টাকার পে-অর্ডার নিয়ে সাব রেজিস্ট্রারের নিকট দাখিল করেন রফিক। যা সাব-রেজিস্ট্রারের কাছে ধরা পড়ে। জমির শ্রেণি পরিবর্তন করার এমন আরও অনেক অভিযোগ আছে রফিক আহমদের বিরুদ্ধে।

উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের নয়াগ্রাম দক্ষিন এলাকার ভুক্তভোগী ইউসুফ আহমদ বলেন, আমি রফিক আহমদকে রেজিস্ট্রি ফি বাবদ ৪০ হাজার টাকা দিয়েছি। কিন্তু এই দলিল লেখকের কারণে আমার দলিল সাব রেজিস্ট্রারের কাছে আটকা পড়ে আছে। আমি তাকে দলিলের জন্য বারবার চাপ প্রয়োগ করলে তিনি আমার কাছে আরো টাকা দাবি করেন। আমি টাকা না দেয়ায় আমাকে হেয়প্রতিপন্ন করার জন্য সাব রেজিস্ট্রারের যোগসাজসে অফিসের কোন সিল স্বক্ষর ছাড়া বিভিন্ন স্থানে আমার বিরুদ্ধে লিফলেট টানিয়ে রাখেন। যাতে আমি সাব-রেজিস্ট্রারের অফিসে গিয়ে তার উপর বিচার দিতে না পারি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভুক্তভোগী জানান, আমি সহ আমরা তিন ভাই বিদেশে থাকি, দীর্ঘদিন থেকে বাবা অসুস্থ থাকার কারণে ঘর থেকে বের হতে পারেন না। দলিল লেখক রফিক আহমদ ও তার সহযোগী বাবুল আহমদের মাধ্যমে আমরা কিছু জমি ক্রয় করি। জমি নামজারীর জন্য তাকে আমার বাবা ৫০হাজার টাকা দেন। কিন্তু তিনি পাখিটিকি মৌজার ৬৪ নং খতিয়ানের ৪৮৫ নং দাগের ০.০৪ একর ও ৪৯০ দাগের ০.০৮ একর ভূমির জাল দলিল দিয়ে আমাদের নামে নামজারী করে দেন। প্রায় ৬ মাস আগে উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) কর্তৃক আমরা নামজারী বাতিলের নোটিশ পাই।
 
জৈন্তাপুর দলিল লেখক সমিতির সভাপতি শাহাব উদ্দিন বলেন, অপরাধি যেই হোক তার উপযুক্ত শাস্তির দাবি করছি। এসব ব্যাপারে সাব-রেজিস্ট্রার আইনগত ববস্থা নিতে পারেন। আমার করার কিছু নেই।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত দলিল লেখক রফিক আহমদকে মোবাইল ফোনে এব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি 'এসব বিষয়ে আমি মোবাইলে আলাপ করতে পারব না' বলে কল কেটে দেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে জৈন্তাপুর সাব-রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ হাফিজুর রহমান বলেন, এরকম দুর্নীতির অনেক ঘটনা সাব রেজিস্ট্রার অফিসে ঘটছে। এ পর্যন্ত রফিক আহমদের ৩টি দলিল আমার কাছে আটকা পড়েছে। এসব অপকর্মের জন্য তার কাছ থেকে মুছলেকা নিয়ে এক মাসের জন্য সাময়িক বরখাস্ত করেছিলাম।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.